পাঠ ১ / ৮অনুচ্ছেদ ২ (ভূমিকা), ২.১

কোষ বিভাজন, ক্রোমোসোম সেট ও অ্যামাইটোসিসCell division, chromosome sets (n, 2n) & amitosis

তোমার জীবন শুরু হয়েছিল একটিমাত্র কোষ দিয়ে — জাইগোট (zygote), অর্থাৎ নিষিক্ত ডিম্বাণু। আজ তোমার দেহে প্রায় 3×10133 \times 10^{13}টি কোষ। প্রতিটি কোষ এসেছে আগের একটি কোষ ভেঙে। নিচের জাইগোটটিকে নিজে বিভাজিত করো:

লগ স্কেল (log scale)2^10 ≈ 10³2^20 ≈ 10⁶2^30 ≈ 10⁹মানুষ 3 × 10¹³k = 0
বিভাজনের রাউন্ড (rounds) k0
কোষের সংখ্যা (cells) = 2^k1

এটি একটি জাইগোট (zygote) — নিষিক্ত ডিম্বাণু, একটিমাত্র কোষ। “বিভাজন” চাপো: প্রতিবার প্রতিটি কোষ ভেঙে দুটি হয়। আন্দাজ করো: কতবার দ্বিগুণ হলে মানুষের দেহের ≈ 3 × 10¹³ কোষ হবে?

মাত্র 45 বার দ্বিগুণ! কিন্তু আসল প্রশ্ন সংখ্যা নয়: প্রতিটি বিভাজনে প্রতিটি নতুন কোষকে ঠিক 46টি ক্রোমোসোম — পুরো জিনের সেট — পেতে হয়েছে। সেটা কীভাবে হয়, আর যে বিভাজনে তা হয় না, সেটাই এই পাঠ।

এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. কোষ কেন বিভাজিত হয় — মাতৃকোষ (mother cell) ও অপত্য কোষ (daughter cell)
  2. ক্রোমোসোমের গঠন (chromosome structure) — ক্রোমাটিড, সেন্ট্রোমিয়ার, আর গোনার নিয়ম
  3. ক্রোমোসোম সেট — হ্যাপ্লয়েড (haploid, n), ডিপ্লয়েড (diploid, 2n), সমসংস্থ ক্রোমোসোম (homologous chromosomes)
  4. কোষ বিভাজনের তিন প্রকার — অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস, মায়োসিস
  5. অ্যামাইটোসিস (amitosis) — নিউক্লিয়াস চিপে দুই ভাগ
  6. ব্যাকটেরিয়ার দ্বি-বিভাজন (binary fission) অ্যামাইটোসিস নয়
  7. অ্যামাইটোসিস বনাম মাইটোসিস
  8. এবার নিজে করে দেখো — বিভাজন বাছাই

ধাপ ১: কোষ কেন বিভাজিত হয়

যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষ ভেঙে দুই বা ততোধিক নতুন কোষ হয়, তাকে কোষ বিভাজন (cell division) বলে। যে কোষটি ভাঙে সে মাতৃকোষ (mother/parent cell), আর নতুন কোষগুলো অপত্য কোষ (daughter cells)। কোষ বিভাজন লাগে তিন কাজে:

নতুন কোষ শূন্য থেকে তৈরি হয় না — রবার্ট রেমাক (Robert Remak) 1840-50-এর দশকে ভ্রূণে এটি দেখান, আর রুডলফ ভারশো (Rudolf Virchow) 1855 সালে কথাটি জনপ্রিয় করেন: omnis cellula e cellula — “প্রতিটি কোষ আসে আরেকটি কোষ থেকে”।

হিসাবটা হুকের মতো: kk বার দ্বিগুণ হলে কোষ 2k2^kটি। log⁡2(3×1013)≈44.8\log_2(3 \times 10^{13}) \approx 44.8, তাই 45 বার দ্বিগুণে 245≈3.5×10132^{45} \approx 3.5 \times 10^{13}। (আসলে সব কোষ সমান হারে ভাগ হয় না, অনেক কোষ মরে যায়, তাই মোট বিভাজন এর চেয়ে অনেক বেশি — এটি শুধু ন্যূনতম হিসাব।)

নিজে যাচাই করো

একটি কোষ থেকে 10 বার দ্বিগুণ হলে কতটি কোষ হবে?

ধাপ ২: ক্রোমোসোম — কী ভাগ করতে হয়

(এই অংশটি অধ্যায় ১-এর পুনরালোচনা — পুরো অধ্যায়ে লাগবে।) নিউক্লিয়াসে DNA আর প্রোটিন (হিস্টোন, histone) মিলে সুতার মতো ক্রোমাটিন (chromatin)। বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন কুণ্ডলী পাকিয়ে ছোট, মোটা, আলাদা আলাদা ক্রোমোসোম (chromosome) হয় — তখনই অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়।

গোনার নিয়ম: যতটি সেন্ট্রোমিয়ার, ততটি ক্রোমোসোম। দুটি ক্রোমাটিড থাকলেও সেন্ট্রোমিয়ার একটি হলে সেটি একটিই ক্রোমোসোম। নিচের ছবিতে অংশগুলো ছুঁয়ে দেখো, সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান আর অনুলিপনের আগে-পরে বদলাও:

ক্রোমোসোম (chromosome) 1সেন্ট্রোমিয়ার 1ক্রোমাটিড (chromatid) 2DNA অণু 2
টেলোমিয়ার (telomere)p বাহু (short arm)সেন্ট্রোমিয়ার (centromere)q বাহু (long arm)ক্রোমাটিড (chromatid)
মেটাসেন্ট্রিক (metacentric): সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মাঝে — দুই বাহু প্রায় সমান; অ্যানাফেজে V আকার।
ছবির কোনো অংশ বা ডানের কোনো নাম ছুঁয়ে দেখো।
নিজে যাচাই করো

একটি কোষে DNA অনুলিপনের পর 8টি সেন্ট্রোমিয়ার আর 16টি ক্রোমাটিড গোনা গেল। কোষটিতে কতটি ক্রোমোসোম?

ধাপ ৩: ক্রোমোসোম সেট — n আর 2n

একটি জীবের প্রতিটি আলাদা ক্রোমোসোমের একটি করে কপি নিয়ে এক ক্রোমোসোম সেট (chromosome set)। এক সেট থাকলে কোষ হ্যাপ্লয়েড (haploid), n; দুই সেট — একটি মায়ের, একটি বাবার — থাকলে ডিপ্লয়েড (diploid), 2n। একই আকার, একই সেন্ট্রোমিয়ার অবস্থান আর একই জিনক্রমের দুটি ক্রোমোসোম (একটি মাতৃ, একটি পিতৃ) হলো সমসংস্থ ক্রোমোসোম (homologous chromosomes)। নিচে আটটি ক্রোমোসোম ছড়িয়ে আছে — জোড়া মেলাও:

মিলেছে (pairs) 0 / 4দুই সেট: 2n = 8
নিউক্লিয়াস (nucleus)ক্যারিওটাইপ (karyotype): মেলানো জোড়া এখানে সাজবে????MPMPMPMP
M = মাতৃ (maternal)P = পিতৃ (paternal)ফলের মাছির মতো (fruit-fly-like) স্ত্রী কোষ, ধারণাগত ছবি

একটি ক্রোমোসোম ছোঁও, তারপর তার জোড়া (একই দৈর্ঘ্য, একই জায়গায় সেন্ট্রোমিয়ার) ছোঁও।

সাধারণত দেহকোষ (somatic cell) 2n আর গ্যামেট n। কয়েকটি আসল সংখ্যা (উৎস: NCBI Genome, Chromosome Counts Database):

জীব2nn
মানুষ (Homo sapiens)4623
ফলের মাছি (Drosophila melanogaster)84
পেঁয়াজ (Allium cepa)168
মটর (Pisum sativum)147
ধান (Oryza sativa)2412
গম (Triticum aestivum), হেক্সাপ্লয়েড (hexaploid)4221
কুকুর (Canis familiaris)7839

ক্রোমোসোম সংখ্যার সাথে জীবের জটিলতার সম্পর্ক নেই: কুকুরের 78, মানুষের 46, আর একটি ফার্নের (Ophioglossum reticulatum) প্রায় 1260! মানুষের 2n = 46 প্রথম ঠিকভাবে গোনেন টিও ও লেভান (Tjio & Levan), 1956 সালে — তার আগে 30 বছর পাঠ্যবইয়ে 48 লেখা ছিল।

নিজে যাচাই করো

ধানের দেহকোষে 2n = 24। ধানের পরাগরেণুর (pollen) একটি কোষে কতটি ক্রোমোসোম, আর তাতে কতগুলো আলাদা ধরনের (unique) ক্রোমোসোম?

ধাপ ৪: কোষ বিভাজনের তিন প্রকার

ইউক্যারিওট কোষে নিউক্লিয়াস কীভাবে ভাগ হয়, তা দেখে বিভাজন তিন রকম:

2n??অ্যামাইটোসিস (amitosis)প্রত্যক্ষ (direct)2n2n2nমাইটোসিস (mitosis)সমীকরণিক (equational)2nnnnnমায়োসিস (meiosis)হ্রাসমূলক (reductional)
একটি 2n মাতৃকোষ থেকে: অ্যামাইটোসিসে দুটি কোষ, ক্রোমোসোম সমানভাবে ভাগ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই; মাইটোসিসে দুটি হুবহু 2n কোষ; মায়োসিসে চারটি n কোষ (গ্যামেট বা রেণু)।

মাইটোসিসকে “পরোক্ষ” বলা হয় কারণ নিউক্লিয়াস সরাসরি ভাগ হয় না — মাঝখানে ক্রোমোসোম গঠন, স্পিন্ডল আর দশাগুলোর মধ্য দিয়ে যায়। ভালথার ফ্লেমিং (Walther Flemming) 1882 সালে সালামান্ডারের কোষ রঞ্জিত করে এই দশাগুলো বর্ণনা করেন এবং নাম দেন মাইটোসিস (গ্রিক mitos = সুতা)।

নিজে যাচাই করো

কোন বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়?

ধাপ ৫: অ্যামাইটোসিস — নিউক্লিয়াস চিপে দুই ভাগ

অ্যামাইটোসিসের ধাপগুলো সহজ:

  1. নিউক্লিয়াস লম্বা হয় (elongation)।
  2. মাঝখানে খাঁজ পড়ে ডাম্বেলের (dumb-bell) মতো আকার নেয়; খাঁজ গভীর হয়ে নিউক্লিয়াস দুই ভাগ হয়।
  3. তারপর কোষপর্দা মাঝ বরাবর ভেতরে ঢুকে সাইটোপ্লাজমও দুই ভাগ হয় — দুটি অপত্য কোষ।

পুরো সময় নিউক্লিয়ার পর্দা (nuclear envelope) অটুট থাকে, ক্রোমোসোম দেখা যায় না, স্পিন্ডল তৈরি হয় না। তাহলে কোন DNA কোন দিকে যাবে, তা ঠিক করে দেওয়ার কেউ নেই। নিচের নিউক্লিয়াসে 3 জোড়া ক্রোমোসোম আছে, অনুলিপনের পর প্রতিটির 2 কপি। চেপে দুই ভাগ করো, কয়েকবার “আবার করো” চাপো, তারপর মাইটোসিসের সাথে তুলনা করো:

মাতৃকোষ (mother cell) 2n = 6, কপি 12বাম … · ডান …
ধারণাগত মডেল (conceptual model): 3 জোড়া, প্রতিটির 2 কপি

স্লাইডার টেনে নিউক্লিয়াসকে মাঝখানে চাপো (constrict) — ডাম্বেলের মতো লম্বা হয়ে দুই ভাগ হবে। ভেতরের সুতাগুলো কোন দিকে যায় দেখো।

এই কারণে অ্যামাইটোসিসে অপত্য কোষ মাতৃকোষের সমগুণসম্পন্ন নাও হতে পারে। মডেলে 6টি ক্রোমোসোমের প্রতিটির দুই কপি দৈবভাবে পড়ে; দুই কোষই ঠিকঠাক পাওয়ার সম্ভাবনা (1/2)6=1/64(1/2)^6 = 1/64 — মাত্র 1.6 %। মাইটোসিসে স্পিন্ডল প্রতিবার একটি কপি এক দিকে, অন্যটি অন্য দিকে পাঠায়: সম্ভাবনা 100 %। এজন্যই জটিল জীবের দেহকোষ মাইটোসিসে ভাগ হয়।

অ্যামাইটোসিস আসলে কোথায় হয়?

বোর্ডের উত্তর বই উদাহরণ দেয় “কতক ইস্ট, অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া”। পরীক্ষায় বইয়ের তালিকা লিখলে নম্বর পাবে, কিন্তু সঠিক বিজ্ঞান নিচের ধাপ ৬ আর সাবধানতা-বাক্সে দেখো।

নিজে যাচাই করো

অ্যামাইটোসিসে অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সমানভাবে ভাগ না হওয়ার মূল কারণ কী?

ধাপ ৬: ব্যাকটেরিয়ার দ্বি-বিভাজন অ্যামাইটোসিস নয়

ব্যাকটেরিয়া (প্রোক্যারিওট, prokaryote) দ্বি-বিভাজন (binary fission)-এ ভাগ হয়। এর কোনো নিউক্লিয়াসই নেই, তাই “নিউক্লিয়াস চিপে ভাগ” — অ্যামাইটোসিস — হওয়া অসম্ভব। যা ঘটে:

  1. একটিমাত্র বৃত্তাকার ক্রোমোসোম (circular chromosome) একটি নির্দিষ্ট বিন্দু (origin) থেকে অনুলিপি হতে শুরু করে।
  2. দুই কপি কোষের দুই প্রান্তের দিকে সরে যায়।
  3. মাঝখানে FtsZ প্রোটিনের একটি বলয় (ring) তৈরি হয়ে কোষকে চিপে দুই ভাগ করে; প্রতিটি অপত্য কোষ একটি পূর্ণ ক্রোমোসোম পায়।

অর্থাৎ বণ্টন এখানে নিখুঁত — অ্যামাইটোসিসের মতো এলোমেলো নয়। আর ইস্ট ও Amoeba ইউক্যারিওট — এরা মাইটোসিসে ভাগ হয় (ইস্টে নিউক্লিয়ার পর্দা না ভেঙে ভেতরেই স্পিন্ডল তৈরি হয়, একে বলে closed mitosis; ইস্টের কুঁড়ি তৈরিও মাইটোসিস)। (উৎস: Campbell Biology, 12th ed., Ch. 12; Alberts, Molecular Biology of the Cell, Ch. 17)

নিজে যাচাই করো

ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়ার বিভাজনকে অ্যামাইটোসিস বলা যায় না কেন?

ধাপ ৭: অ্যামাইটোসিস বনাম মাইটোসিস

বৈশিষ্ট্যঅ্যামাইটোসিস (amitosis)মাইটোসিস (mitosis)
ধরনপ্রত্যক্ষ (direct)পরোক্ষ (indirect), সমীকরণিক
ক্রোমোসোম গঠনহয় নাঘনীভূত ক্রোমোসোম স্পষ্ট দেখা যায়
স্পিন্ডলতৈরি হয় নাতৈরি হয়
নিউক্লিয়ার পর্দাঅটুট থাকেসাধারণত ভেঙে যায়, পরে আবার গড়ে (ইস্টে অটুট)
দশা (phases)নেই, এক ধাপে ভাগপ্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ
ক্রোমোসোম বণ্টনঅসমান হতে পারেনিখুঁতভাবে সমান
অপত্য কোষমাতৃকোষের মতো নাও হতে পারেমাতৃকোষের হুবহু মতো
সময় ও শক্তিকমবেশি
কোথায়সিলিয়েটের ম্যাক্রোনিউক্লিয়াস, কিছু বিশেষায়িত/বয়স্ক কোষপ্রায় সব ইউক্যারিওটের দেহকোষ — ইস্ট, অ্যামিবাসহ
বৃদ্ধিতে ভূমিকাবহুকোষী জীবের দেহবৃদ্ধিতে নেই (তবে সিলিয়েটের বংশবৃদ্ধিতে আছে)বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, অযৌন জনন

ধাপ ৮: এবার নিজে করে দেখো

নিচে দশটি আসল কোষের কার্ড। প্রতিটির বর্ণনা পড়ে বলো (১) কোন বিভাজন — অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস, মায়োসিস না দ্বি-বিভাজন, আর (২) প্রতিটি অপত্য কোষে কতটি ক্রোমোসোম। ক্রোমোসোম সংখ্যাগুলো আসল তথ্য (NCBI, CCDB, জিনোম গবেষণাপত্র)। ভুল করলে আবার চেষ্টা করা যায়; খাতায় লেখা থাকবে প্রথম চেষ্টায় ঠিক হয়েছিল কি না। চ্যালেঞ্জগুলো শেষ করো:

বিভাজন বাছাই (division sorter)

Classify each real cell’s division and predict its daughters’ chromosome number
↗

1. পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগ (onion root tip)

মূল লম্বা হচ্ছে; কোষে ঘন ক্রোমোসোম আর স্পিন্ডল দেখা যায়।

মাতৃকোষ (parent): 2n = 16

১) কোন ধরনের বিভাজন?

বর্ণনা পড়ে বিভাজনের ধরন বাছো।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/6
  1. পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগ: বিভাজন আর অপত্য কোষের সংখ্যা দুটোই ঠিক করো।
  2. শুক্রাণু তৈরির কোষ: কত ক্রোমোসোম যাবে শুক্রাণুতে?
  3. প্যারামেসিয়ামের ম্যাক্রোনিউক্লিয়াস কীভাবে ভাগ হয়?
  4. ই. কোলাই — অ্যামাইটোসিস, না অন্য কিছু?
  5. হ্যাপ্লয়েড মসের কোষ বাড়ছে — কোন বিভাজন, কত ক্রোমোসোম?
  6. ক্ল্যামাইডোমোনাসের জাইগোট: কোন বিভাজনে 4টি কোষ?

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

কোনো কার্ড এখনো শেষ হয়নি। দুটি প্রশ্নের উত্তর দিলে এখানে লেখা হবে।

বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:

  • পৃ. 79 (আবার পৃ. 99): “Walter Flemming ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে সামুদ্রিক স্যালামান্ডার (Triturus maculosa) কোষে প্রথম কোষ বিভাজন লক্ষ্য করেন।” স্যালামান্ডার সামুদ্রিক প্রাণী নয়; ফ্লেমিং কাজ করেছিলেন ফায়ার স্যালামান্ডারের (Salamandra maculosa) লার্ভার পাখনা ও ফুলকার কোষে। নামের বানান Walther। আর তিনি “প্রথম” দেখেননি — রেমাক ও অন্যরা 1840-50-এর দশকেই কোষ বিভাজন বর্ণনা করেছিলেন। ফ্লেমিংয়ের অবদান: রঞ্জক দিয়ে ক্রোমোসোম রাঙানো, দশাগুলো বর্ণনা আর 1882 সালে মাইটোসিস নামকরণ। বোর্ডের উত্তর “ওয়াল্টার ফ্লেমিং, 1882”।
  • পৃ. 80: “ব্যাকটেরিয়ার দ্বি-ভাজন প্রক্রিয়াও কতকটা অ্যামাইটোসিসের মতোই। উভয় প্রক্রিয়া প্রায় সমার্থক।” — ভুল। দ্বি-বিভাজনে নিউক্লিয়াসই নেই; বৃত্তাকার ক্রোমোসোম অনুলিপি হয়ে নিখুঁতভাবে দুই কোষে যায় (ধাপ ৬)।
  • পৃ. 80 ও পৃ. 88-র সারণি: অ্যামাইটোসিসের উদাহরণ “কতক ইস্ট, অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া” — ইস্ট আর অ্যামিবা মাইটোসিসে ভাগ হয়; ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়াস নেই। প্রোটোজোয়ার মধ্যে কেবল সিলিয়েটের ম্যাক্রোনিউক্লিয়াস অ্যামাইটোসিসে ভাগ হয়। বোর্ডের উত্তর বইয়ের তালিকা।
  • পৃ. 88-র সারণি: “দৈহিক বৃদ্ধিতে এর কোনো ভূমিকা নেই” — বহুকোষী জীবের জন্য ঠিক, কিন্তু Paramecium-এর মতো সিলিয়েট অ্যামাইটোসিস দিয়েই বাড়ে ও বংশবৃদ্ধি করে।
  • পৃ. 80: “স্ট্রাসবার্গারের (১৮৯২) মতে অ্যামাইটোসিস থেকেই জটিল কোষ বিভাজনের উৎপত্তি” — এটি উনিশ শতকের পুরনো অনুমান, এখন আর গৃহীত নয়। আধুনিক ধারণা: মাইটোসিস প্রোক্যারিওটের ক্রোমোসোম পৃথকীকরণ থেকে বিবর্তিত; সিলিয়েটের অ্যামাইটোসিস পরে তৈরি হওয়া একটি বিশেষ ব্যবস্থা।

ঘরে বসে পরীক্ষা

কোষ বিভাজন খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু দ্বিগুণ হওয়ার শক্তি হাতে-কলমে দেখা যায়।

কাগজ ভাঁজ (paper folding)। একটি খাতার পাতা নাও। অর্ধেক করে ভাঁজ করো — 2 স্তর। আবার — 4 স্তর। প্রতিবার স্তর গোনো আর লেখো: 2k2^k। কতবার পারলে? সাধারণ কাগজ 7-8 ভাঁজের পর আর ভাঁজ হয় না — তখনই 128-256 স্তর, পুরু একটি প্যাড! এবার ভাবো: তোমার দেহ গড়তে কোষগুলোকে 45 বার দ্বিগুণ হতে হয়েছে। একটি পাতা 0.1 mm পুরু হলে 45 ভাঁজে 0.1×2450.1 \times 2^{45} mm ≈ 3.5 × 10⁹ m — পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের নয় গুণ!

স্কুলে অণুবীক্ষণ যন্ত্র থাকলে: এক চিমটি শুকনো রুটির ইস্ট (baker’s yeast) আধা কাপ কুসুম গরম চিনি-পানিতে 30 মিনিট রাখো। এক ফোঁটা স্লাইডে নিয়ে কভার স্লিপ দিয়ে 400× এ দেখো — অনেক কোষের গায়ে ছোট কুঁড়ি (bud)। এটি মাইটোসিসের পরের কুঁড়ি গঠন (budding), অ্যামাইটোসিস নয়।

নিরাপত্তা: কাঁচের স্লাইড আর কভার স্লিপ সাবধানে ধরো — ভাঙলে খালি হাতে তুলবে না। ইস্টের পানি খাবে না, কাজ শেষে হাত ধুয়ে নাও। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের আয়না কখনো সরাসরি সূর্যের দিকে রাখবে না — চোখের ক্ষতি হয়।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (জ্ঞানমূলক ক) অ্যামাইটোসিস, হ্যাপ্লয়েড, ডিপ্লয়েড আর সমসংস্থ ক্রোমোসোমের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর দেখো
  • অ্যামাইটোসিস: যে বিভাজনে ক্রোমোসোম গঠন ও স্পিন্ডল তৈরি ছাড়াই নিউক্লিয়াস সরাসরি লম্বা হয়ে মাঝ বরাবর চিপে দুই ভাগ হয়, তারপর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়।
  • হ্যাপ্লয়েড (n): যে কোষে ক্রোমোসোমের একটি সেট থাকে (প্রতিটি আলাদা ক্রোমোসোম একবার), যেমন গ্যামেট।
  • ডিপ্লয়েড (2n): যে কোষে দুটি সেট থাকে — একটি মাতৃ, একটি পিতৃ — যেমন দেহকোষ।
  • সমসংস্থ ক্রোমোসোম: ডিপ্লয়েড কোষে আকার, সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান ও জিনের ক্রমে একই রকম ক্রোমোসোম জোড়া, যার একটি মাতৃ ও অন্যটি পিতৃ উৎসের।

২. (অনুধাবনমূলক খ) মাইটোসিসকে পরোক্ষ আর অ্যামাইটোসিসকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

অ্যামাইটোসিসে নিউক্লিয়াস কোনো মধ্যবর্তী পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি চিপে দুই ভাগ হয় — তাই প্রত্যক্ষ। মাইটোসিসে নিউক্লিয়াস সরাসরি ভাগ হয় না: আগে ক্রোমাটিন ঘনীভূত হয়ে ক্রোমোসোম হয়, স্পিন্ডল তৈরি হয়, প্রোফেজ-মেটাফেজ-অ্যানাফেজ-টেলোফেজ দশা পেরিয়ে ক্রোমাটিডগুলো দুই মেরুতে যায়, তারপর দুটি নতুন নিউক্লিয়াস গড়ে। এই ঘুরপথের জন্য পরোক্ষ বিভাজন।

৩. (অনুধাবনমূলক খ) “অ্যামাইটোসিসে অপত্য কোষ মাতৃকোষের সমগুণসম্পন্ন নাও হতে পারে” — ব্যাখ্যা করো।

উত্তর দেখো

অ্যামাইটোসিসে ক্রোমোসোম আলাদা হয়ে সাজে না এবং স্পিন্ডল তন্তু থাকে না। নিউক্লিয়াস শুধু মাঝ বরাবর চিপে যায়, তাই কোন ক্রোমোসোমের (জিনের) কোন কপি কোন অপত্য নিউক্লিয়াসে যাবে তা দৈবাৎ ঠিক হয়। কোনো অপত্য কোষ কোনো জিনের বেশি কপি, অন্যটি কম বা একটিও না পেতে পারে। ফলে অপত্য কোষের বংশগত বৈশিষ্ট্য মাতৃকোষের মতো নাও হতে পারে। মাইটোসিসে প্রতিটি ক্রোমোসোমের দুই ক্রোমাটিড দুই মেরুতে যায় বলে এমন হয় না।

৪. (MCQ) মানুষের শুক্রাণুতে ক্রোমোসোম সংখ্যা কত? (ক) 46 (খ) 23 (গ) 22 (ঘ) 44

উত্তর দেখো

(খ) 23। শুক্রাণু হ্যাপ্লয়েড (n)। দেহকোষে 2n = 46; মায়োসিসে অর্ধেক হয়ে 23 — 22টি অটোসোম + 1টি লিঙ্গ ক্রোমোসোম (X বা Y)। “22” ফাঁদ: ওটা শুধু অটোসোম।

৫. (MCQ) ফলের মাছির (Drosophila melanogaster) দেহকোষে কত ধরনের (unique) ক্রোমোসোম থাকে? (ক) 8 (খ) 4 (গ) 2 (ঘ) 16

উত্তর দেখো

(খ) 4। দেহকোষে 2n = 8, অর্থাৎ 4 জোড়া; প্রতিটি জোড়ার দুটি একই ধরনের। ধরন গোনা মানে এক সেট গোনা: n = 4।

৬. (MCQ) “Omnis cellula e cellula” কথাটি কে জনপ্রিয় করেন, আর মাইটোসিস নামটি কে দেন? (ক) ভারশো; ফ্লেমিং (খ) ফ্লেমিং; ভারশো (গ) রবার্ট হুক; স্ট্রাসবার্গার (ঘ) রেমাক; শ্লাইখার

উত্তর দেখো

(ক)। রুডলফ ভারশো (1855) — “প্রতিটি কোষ আসে আরেকটি কোষ থেকে” (রেমাক আগেই একই কথা দেখিয়েছিলেন)। ভালথার ফ্লেমিং (1882) — মাইটোসিস নাম। শ্লাইখার (1878) নাম দেন ক্যারিওকাইনেসিস (karyokinesis)।