পাঠ ১০ / ১০অনুচ্ছেদ ১.১৩–১.১৪

নিরাপত্তা সরঞ্জাম, অগ্নিনির্বাপণ ও প্রাথমিক চিকিৎসাSafety equipment, fire fighting & first aid

বুনসেন বার্নারের (Bunsen burner) পাশে রাখা একটি বিকারের ইথানলে (ethanol) হঠাৎ আগুন ধরে গেছে। পাশেই একটি খোলা ইথারের (ether) বোতল। ঘড়ি চলছে — তোমার হাতে তিনটি জিনিস:

⏱ 30 s
কোনটি দিয়ে আগুন নেভাবে?
বুনসেন বার্নার(Bunsen burner)etherখোলা ইথারের বোতল(open ether bottle)ইথানল (ethanol)

বিকারের ইথানলে আগুন ধরেছে! পাশেই খোলা ইথারের বোতল — এর বাষ্প টেবিল বেয়ে আগুনের দিকে গড়িয়ে আসছে। হাতের কাছে তিনটি জিনিস আছে।

  1. পানির মগ চেষ্টা করো — কী হলো?
  2. CO₂ নির্বাপক চেষ্টা করো।
  3. ওয়াচ গ্লাস দিয়ে ঢেকে দেখো।

একই আগুন — পানি ঢাললে ছড়িয়ে পড়ল, অথচ এক টুকরো কাচের ঢাকনায় নিভে গেল। কেন? আর হাতে এসিড (acid) পড়লে বা চোখে ক্ষার (alkali) ছিটকে এলে প্রথম কয়েক মিনিটে ঠিক কী করতে হয় — যা তোমার বইয়ের উত্তরের সঙ্গে সবসময় মেলে না?

এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. নিরাপত্তা সরঞ্জাম (safety equipment) — কোনটা কোথায়, কী কাজে
  2. অগ্নি ত্রিভুজ (fire triangle) — আগুন জ্বলে কেন, নেভে কেন; দাহ্য পদার্থ (flammable substances)
  3. আগুনের শ্রেণি (fire classes) আর ঠিক অগ্নিনির্বাপক (fire extinguisher)
  4. নির্বাপক চালানো (P-A-S-S), ছোট আগুন আর কাপড়ে আগুন
  5. রাসায়নিক ছিটকে পড়লে — প্রচুর পানিতে ধোয়া (flushing)
  6. পোড়া, কাটা, বিষ গেলা — প্রাথমিক চিকিৎসা (first aid) ও ফার্স্ট-এইড বক্স (first-aid box)
  7. এবার নিজে করে দেখো — ল্যাবের জরুরি অবস্থার সিমুলেশন (simulation)

ধাপ ১: নিরাপত্তা সরঞ্জাম — কোনটা কোথায়

দুর্ঘটনার সময় খোঁজার সময় থাকে না। তাই ল্যাবে প্রথম দিনেই দেখে রাখতে হয় কোন সরঞ্জাম কোথায় আছে। বইয়ের তালিকায় সাতটি জিনিস “খোঁজ নিয়ে রাখা আবশ্যক”: বিদ্যুতের মেইন সুইচ (mains switch), গ্যাস বন্ধ করার ভাল্ভ (gas valve), কম্বল (fire blanket), অগ্নিনির্বাপক (fire extinguisher), পানির উৎস, বালিভর্তি বালতি (sand bucket) আর ফার্স্ট-এইড বক্স। এর সঙ্গে আধুনিক ল্যাবে থাকে:

নিচের ল্যাবের দেয়ালে প্রতিটি সরঞ্জামে চাপ দিয়ে দেখো কোনটা কী কাজে লাগে:

CO₂ABCDFIREফিউম হুড(fume hood)মেইন সুইচ(mains)ফার্স্ট-এইড(first aid)কম্বল(fire blanket)পানির কল(tap)আই-ওয়াশ(eye-wash)গ্যাস ভাল্ভ(gas valve)শাওয়ার(shower)CO₂ নির্বাপক(extinguisher)ABC পাউডার(ABC powder)D পাউডার(Class D)বালি(dry sand)
দেখা হয়েছে (explored): 0/12
ছবির যেকোনো সরঞ্জামে চাপ দাও — কোনটা কী কাজে লাগে আর কখন ব্যবহার করতে হয় দেখো।
নিজে যাচাই করো

ল্যাবের আই-ওয়াশ (eye-wash) কোথায় থাকা উচিত?

ধাপ ২: অগ্নি ত্রিভুজ — আগুন জ্বলে কেন, নেভে কেন

আগুন (fire) হলো জ্বালানির (fuel) দ্রুত জারণ (oxidation), যাতে তাপ (heat) আর আলো বের হয়। যেমন ইথানল পোড়ার সময়:

CX2HX5OH+3 OX2→2 COX2+3 HX2O,ΔH=−1367 kJ mol−1\ce{C2H5OH + 3O2 -> 2CO2 + 3H2O}, \qquad \Delta H = -1367\ \text{kJ mol}^{-1}

আগুন টিকে থাকতে একসঙ্গে তিনটি জিনিস লাগে — এদের বলে অগ্নি ত্রিভুজ (fire triangle):

  1. জ্বালানি (fuel) — যা পোড়ে: কাগজ, কাঠ, ইথানল, LPG, এমনকি সোডিয়ামের (sodium) মতো ধাতু।
  2. অক্সিজেন (oxygen) — বাতাসে আছে 21%। মনে রাখো, অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, সে জ্বলতে সাহায্য করে (supports combustion)।
  3. তাপ (heat) — জ্বালানিকে জ্বলন তাপমাত্রায় রাখার মতো।

যেকোনো একটি বাহু সরালেই আগুন নিভে যায়। এটাই সব অগ্নিনির্বাপণের মূলনীতি। (চতুর্থ একটি বিষয়ও আছে — শিখার ভেতরের শিকল-বিক্রিয়া (chain reaction)। ABC পাউডার এটি ভেঙে দেয়, তাই কখনো কখনো ত্রিভুজের বদলে অগ্নি চতুস্তলক (fire tetrahedron) বলা হয়।)

তরল নিজে জ্বলে না, জ্বলে তার বাষ্প (vapour)। বাতাসে বাষ্পের পরিমাণ একটা ন্যূনতম সীমা পেরোলেই কেবল আগুন ধরে — একে বলে নিম্ন জ্বলনসীমা (lower flammable limit, LEL)। যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কোনো তরল এতটুকু বাষ্প দেয় যে আগুন ধরতে পারে, সেটিই তার ফ্ল্যাশ পয়েন্ট (flash point)। ইথানলের ফ্ল্যাশ পয়েন্ট 13 °C — বাংলাদেশের 30 °C ঘরে ইথানলের ওপরের বাতাস সবসময়ই জ্বলার মতো।

নিচে নিজে তিনটি বাহু একে একে সরিয়ে আগুন নেভাও। তাপমাত্রা কমালে দেখো বাষ্পের পরিমাণ কীভাবে LEL-এর নিচে নামে:

তাপ(heat)অক্সিজেন(oxygen)জ্বালানি (fuel)বাটিতে ইথানল (ethanol in a dish)

জ্বলছে: তাপ (heat), জ্বালানি (fuel) আর অক্সিজেন (oxygen) — তিনটিই আছে। যেকোনো একটি সরিয়ে আগুন নেভাও।

  1. ঠান্ডা করে নেভাও — তাপ সরাও
  2. অক্সিজেন সরিয়ে নেভাও (জার, CO₂ বা স্লাইডার)
  3. জ্বালানি সরিয়ে নেভাও

মডেলটি সরলীকৃত (simplified): ইথানলের বাষ্পচাপ অ্যান্টোইন সমীকরণ (Antoine equation) থেকে, LEL ও LOC প্রকাশিত মান থেকে নেওয়া।

তাহলে আগুন নেভানোর উপায় তিনটি (আর একটি বাড়তি):

উপায়কোন বাহু সরেউদাহরণ
ঠান্ডা করা (cooling)তাপ (heat)কাঠ-কাগজে পানি
শ্বাসরোধ (smothering)অক্সিজেন (oxygen)ঢাকনা, ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেট, শুকনো বালি, CO₂, ফোম
জ্বালানি সরানো (starving)জ্বালানি (fuel)গ্যাস ভাল্ভ বন্ধ, দাহ্য বোতল সরিয়ে নেওয়া
শিকল ভাঙা (inhibition)শিকল-বিক্রিয়া (chain reaction)ABC শুকনো পাউডার (dry powder)

ল্যাবের দাহ্য পদার্থ

ল্যাবে অনেক দাহ্য (flammable) জৈব দ্রাবক (organic solvent) থাকে। এদের লেবেলে থাকে লাল হীরার ভেতরে আগুনের শিখা — GHS02 প্রতীক:

GHS02 — শিখা (flame): দাহ্য গ্যাস, তরল, কঠিন, আর পানির সংস্পর্শে দাহ্য গ্যাস তৈরি করে এমন পদার্থ। প্রতীকগুলো নিয়ে বিস্তারিত: বিকারক বোতল, হ্যাজার্ড প্রতীক ও SDS।
পদার্থ (substance)GHSফ্ল্যাশ পয়েন্ট (flash point)জ্বলনসীমা (flammable range)বাষ্প ঘনত্ব (vapour density, বাতাস = 1)
ডাইইথাইল ইথার (diethyl ether)
(C₂H₅)₂O
-45 °C1.9–36%2.6
হেক্সেন (পেট্রোলিয়াম ইথারের মূল অংশ) (n-hexane)
C₆H₁₄
-22 °C1.1–7.5%3.0
অ্যাসিটোন (acetone)
CH₃COCH₃
-20 °C2.5–12.8%2.0
বেনজিন (benzene)
C₆H₆
-11 °C1.2–7.8%2.7
মিথানল (methanol)
CH₃OH
11 °C6–36%1.1
ইথানল (ethanol)
C₂H₅OH
13 °C3.3–19%1.6
প্রোপেন (LPG-র মূল অংশ) (propane (LPG))
C₃H₈
-104 °C2.1–9.5%1.5
পানির সংস্পর্শে জ্বলে (water-reactive)GHSকী ঘটে ও কীভাবে রাখতে হয় (reaction & storage)
সোডিয়াম ধাতু (Sodium)
Na
2Na + 2H₂O → 2NaOH + H₂↑ — কেরোসিন বা প্যারাফিন তেলে ডুবিয়ে রাখো
সোডিয়াম হাইড্রাইড (Sodium hydride)
NaH
NaH + H₂O → NaOH + H₂↑ — শুকনো, বায়ুরোধী পাত্রে
লিথিয়াম অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রাইড (Lithium aluminium hydride)
LiAlH₄
LiAlH₄ + 4H₂O → LiOH + Al(OH)₃ + 4H₂↑ — শুকনো, নিষ্ক্রিয় গ্যাসে

তথ্যসূত্র (sources): NIOSH Pocket Guide to Chemical Hazards; NFPA 325; CRC Handbook। পিক্টোগ্রাম: Sigma-Aldrich/Merck SDS (EU CLP)। LPG-র মান প্রোপেনের।

তিনটি কথা মনে রাখো:

পানির সংস্পর্শে বিক্রিয়ক (water-reactive) পদার্থ — সোডিয়াম (Na), সোডিয়াম হাইড্রাইড (NaH), লিথিয়াম অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রাইড (LiAlH₄) — পানির সঙ্গে হাইড্রোজেন (hydrogen) তৈরি করে, আর বিক্রিয়ার তাপেই সেই H₂ জ্বলে ওঠে:

2 Na+2 HX2O→2 NaOH+HX2(g),ΔH≈−184 kJ per mol Na\ce{2Na + 2H2O -> 2NaOH + H2(g)}, \qquad \Delta H \approx -184\ \text{kJ per mol Na}

মাত্র 1 g সোডিয়াম থেকে 25 °C-এ প্রায় 0.53 L H₂ আর প্রায় 8 kJ তাপ। এজন্যই সোডিয়াম কেরোসিন বা প্যারাফিন তেলে (paraffin oil) ডুবিয়ে রাখা হয়, কখনো বেসিনে ফেলা হয় না, আর এদের কাছে পানি নেওয়া যায় না।

নিজে যাচাই করো

ঘরের তাপমাত্রা 30 °C। খোলা বোতলের কোন তরল থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি বেশি?

ধাপ ৩: আগুনের শ্রেণি ও ঠিক নির্বাপক

সব আগুন এক রকম নয়, আর একটির জন্য যা ভালো অন্যটিতে তা সর্বনাশ ডাকতে পারে। তাই আগুনকে জ্বালানির ধরন অনুযায়ী শ্রেণিতে (class) ভাগ করা হয় (ISO 3941 / EN 2 মান):

শ্রেণিকী জ্বলছেউদাহরণঠিক নির্বাপককখনো নয়
Aকঠিন দাহ্য পদার্থ (solids)কাগজ, কাঠ, কাপড়পানি, ফোম, ABC পাউডার—
Bদাহ্য তরল (liquids)ইথানল, ইথার, অ্যাসিটোনCO₂, ফোম, ABC পাউডার; ছোট হলে ঢাকনাপানি
Cদাহ্য গ্যাস (gases)LPG, বার্নারের গ্যাসআগে গ্যাস ভাল্ভ বন্ধ, তারপর পাউডারভাল্ভ খোলা রেখে শিখা নেভানো
Dজ্বলন্ত ধাতু (metals)Na, K, Mg, LiAlH₄D-শ্রেণির পাউডার বা শুকনো বালিপানি, ফোম, CO₂
Fরান্নার তেল (cooking oil)কড়াইয়ের গরম তেলওয়েট কেমিক্যাল (wet chemical), ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেটপানি
⚡বৈদ্যুতিক যন্ত্র (electrical)হট প্লেট, তারআগে মেইন সুইচ বন্ধ, তারপর CO₂ বা পাউডারপানি, ফোম

কয়েকটি “কেন” জেনে রাখো:

4 Na+3 COX2→2 NaX2COX3+C,2 Mg+COX2→2 MgO+C\ce{4Na + 3CO2 -> 2Na2CO3 + C}, \qquad \ce{2Mg + CO2 -> 2MgO + C}

(আমেরিকান NFPA মানে অক্ষরগুলো একটু আলাদা: সেখানে C মানে বৈদ্যুতিক, আর K মানে রান্নার তেল। নির্বাপকের গায়ের লেবেল আর ছবি পড়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।)

এবার নিজে প্রতিটি নির্বাপক প্রতিটি আগুনে ছেড়ে দেখো — ভুলগুলোও চেষ্টা করো, দেখো কী ঘটে:

সেরা নির্বাপক খুঁজে পাওয়া গেছে (best found): 0/6নির্বাপক টেনে আগুনে ছাড়ো, বা চাপ দিয়ে বেছে তারপর আগুনে চাপ দাও

প্রতিটি আগুনের জন্য সেরা নির্বাপকটি খুঁজে বের করো। ভুলগুলোও চেষ্টা করে দেখো — কেন ভুল তা জানা জরুরি।

নিজে যাচাই করো

ল্যাবের হট প্লেটের (hot plate) তারে আগুন ধরেছে। প্রথমে কী করবে?

ধাপ ৪: নির্বাপক চালানো, ছোট আগুন, কাপড়ে আগুন

নির্বাপক দিয়ে আগুন নেভাতে যাবে শুধু তখনই, যখন আগুন ছোট (একটি ময়লার ঝুড়ির মতো), তোমার হাতে ঠিক শ্রেণির নির্বাপক, আর তোমার পেছনে বের হওয়ার পথ খোলা। নইলে চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করো, বের হয়ে দরজা বন্ধ করো। সাধারণ ক্রম:

  1. সতর্ক করো (raise the alarm) — চিৎকার করে সবাইকে জানাও, শিক্ষক ডাকো।
  2. জ্বালানি বন্ধ করো — গ্যাস ভাল্ভ, আর বৈদ্যুতিক আগুনে মেইন সুইচ।
  3. ছোট হলে নেভাও — ঠিক নির্বাপক দিয়ে, নিচের P-A-S-S নিয়মে।
  4. না পারলে সরে যাও — 10–15 সেকেন্ডে না নিভলে বের হয়ে যাও।
PASS
  1. P — Pull: পিন টানো (pull the pin) — সিল ভেঙে যায়।
  2. A — Aim: আগুনের গোড়ায় (base) তাক করো, শিখার মাথায় নয় — জ্বালানি যেখানে, সেখানেই নেভাতে হয়।
  3. S — Squeeze: হাতল চাপো (squeeze the handle)।
  4. S — Sweep: গোড়া বরাবর এপাশ-ওপাশ ঝাড়ো (sweep), আগুন পুরো নেভা পর্যন্ত।
পোর্টেবল অগ্নিনির্বাপক (portable fire extinguisher) চালানোর চার ধাপ, P-A-S-S। নিজের পেছনে বের হওয়ার পথ খোলা রেখে 2–3 m দূর থেকে শুরু করো। ছোট CO₂ নির্বাপক মাত্র 10–15 সেকেন্ড চলে।
  1. থামো (stop): দৌড়ালে বাতাস লেগে আগুন আরও জ্বলে।
  2. শুয়ে পড়ো (drop): মাটিতে শুয়ে পড়ো, দুই হাতে মুখ ঢাকো — আগুন ওপরের দিকে ওঠে।
  3. গড়াও (roll): আগুন না নেভা পর্যন্ত এপাশ-ওপাশ গড়াও। কাছে থাকলে কম্বলে (fire blanket) মুড়ে দাও বা শাওয়ারের নিচে নাও।
কাপড়ে আগুন লাগলে: থামো, শুয়ে পড়ো, গড়াও (stop, drop, roll)। জ্বলন্ত কাপড় টেনে খুলতে যেয়ো না, আর মানুষের দিকে CO₂ নির্বাপক কখনো নয়।

বিকার বা ছোট ফ্লাস্কের আগুন নেভানোর সবচেয়ে সহজ উপায়: ওয়াচ গ্লাস (watch glass), বড় একটি বিকার বা সিরামিক বোর্ড (ceramic board) দিয়ে মুখ ঢেকে দেওয়া — ভেতরের অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে আগুন নিজেই নেভে, আর কিছু ছড়ায় না। (বইয়ে “অ্যাসবেস্টস তারজালি” লেখা আছে — অ্যাসবেস্টস ক্যানসার সৃষ্টিকারী, এখন নিষিদ্ধ।)

কাপড়ে আগুন লাগলে — থামো, শুয়ে পড়ো, গড়াও (stop, drop, roll), অথবা ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেটে মুড়ে দাও বা শাওয়ারের নিচে নাও। দৌড়ালে বাতাস লেগে আগুন বাড়ে, আর জ্বলন্ত কাপড় টেনে খুলতে গেলে আগুন মুখের দিকে ওঠে।

নিজে যাচাই করো

অগ্নিনির্বাপকের নল (nozzle) কোথায় তাক করতে হয়?

ধাপ ৫: রাসায়নিক ছিটকে পড়লে — পানি, পানি, পানি

গাঢ় এসিড (acid) বা ক্ষার (alkali) ত্বকে বা চোখে পড়লে যতক্ষণ লেগে থাকে, ততক্ষণ কোষ নষ্ট করতে থাকে। তাই প্রথম কাজ একটাই — যত দ্রুত সম্ভব, যত বেশি সম্ভব পানি দিয়ে, যত বেশি সময় ধরে ধোয়া (flushing)।

ত্বকে পড়লে: সঙ্গে সঙ্গে শাওয়ার বা কলের নিচে কমপক্ষে 15–20 মিনিট ধোও। ধোয়ার সময়ই ভেজা কাপড়, ঘড়ি, আংটি খুলে ফেলো — কাপড়ে আটকে থাকা এসিড পোড়াতেই থাকে। শুকনো কঠিন রাসায়নিক (যেমন NaOH-এর দানা বা চুন, CaO) আগে ঝেড়ে ফেলে তারপর ধোও। শেষে ডাক্তার।

চোখে পড়লে: আই-ওয়াশে কমপক্ষে 15 মিনিট, দুই আঙুলে চোখের পাতা টেনে খোলা রেখে, চোখের মণি এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে। কন্টাক্ট লেন্স থাকলে ধোয়া শুরু করেই খুলে ফেলো। ক্ষার হলে আরও বেশি সময়। তারপর ভালো লাগলেও চোখের ডাক্তার।

কেন প্রশমক (neutraliser) নয়? বই বলে এসিডে 5% NaHCO₃, চোখের ক্ষারে বোরিক এসিড (H₃BO₃) দিতে। এখন আর এমন করা হয় না, কারণ:

  1. সময়: প্রতি সেকেন্ডে ক্ষত গভীর হয়। পানি হাতের কাছে আছে; প্রশমক খুঁজতে, মাপতে, মেশাতে গেলে মূল্যবান মিনিট নষ্ট হয়।
  2. মাত্রা: কতটা প্রশমক লাগবে বোঝা যায় না। বেশি হলে প্রশমক নিজেই ক্ষতস্থানে জ্বালা করে, আর NaHCO₃ এসিডের সঙ্গে ফেনা (CO₂) তোলে।
  3. তাপ: গাঢ় এসিড পানিতে মিশলে তাপ বের হয়। অল্প পানিতে তাপমাত্রা অনেক বাড়ে, কিন্তু প্রচুর পানি সেই তাপ বয়ে নিয়ে যায়।

ধরো 1 mL 98% H₂SO₄ (ঘনত্ব 1.84 g/mL) ত্বকে পড়ল। এর লঘুকরণ তাপ (heat of dilution) 95.3 kJ/mol:

q=1.84×0.9898.08×95.3≈1.75 kJq = \frac{1.84 \times 0.98}{98.08} \times 95.3 \approx 1.75\ \text{kJ}

এই তাপ যদি মাত্র 10 mL পানিতে যায়: ΔT≈175011.8×4.18≈35 K\Delta T \approx \dfrac{1750}{11.8 \times 4.18} \approx 35\ \text{K} — ত্বকে নতুন করে তাপে পোড়া! কিন্তু আই-ওয়াশের মাত্র এক মিনিটের পানিতে (1.5 L): ΔT≈17501500×4.18≈0.3 K\Delta T \approx \dfrac{1750}{1500 \times 4.18} \approx 0.3\ \text{K} — টেরই পাওয়া যায় না। এজন্যই “এক মগ” নয়, টানা প্রচুর পানি।

ক্ষার কেন এসিডের চেয়েও বিপজ্জনক? এসিড চোখের উপরিতলের প্রোটিন জমাট বাঁধায় (coagulation), সেই জমাট স্তর এসিডকে আর গভীরে যেতে কিছুটা বাধা দেয়। ক্ষার কোষের চর্বি গলিয়ে সাবান বানায় (saponification), তাই ক্রমশ গভীরে ঢুকে যায় — আর সেখান থেকে ধীরে ধীরে আবার বেরিয়ে আসে। নিচে নিজে দেখো (30 মিনিটকে 30 সেকেন্ডে সংকুচিত করা হয়েছে):

0246810121405101520253015 মিনিট (min)স্বাভাবিকের কাছে (near normal)pHসময়, মিনিট (time, min)
সময় (time): 0.0 min
চোখের pH: 0.0
অম্লীয় (acidic)

চোখে ছিটা পড়েছে! ‘শুরু’ চাপো — প্রতি 1 সেকেন্ড = 1 মিনিট। ধোয়া (flush) চালু বা বন্ধ রেখে দেখো চোখের উপরিতলের pH কীভাবে বদলায়।

  1. এসিড ছিটা: টানা ধুয়ে pH স্বাভাবিকে আনো (15 মিনিটের মধ্যে)।
  2. ক্ষার ছিটা: 15 মিনিটে pH কোথায়? ধোয়া চালু রেখে দেখো।
  3. ক্ষার ছিটা: কয়েক মিনিট পর ধোয়া বন্ধ করে দেখো কী হয়।

আনুমানিক মডেল (illustrative model), ক্লিনিক্যাল ডেটা নয়: ধোয়ার সময় চোখের উপরিতলের তরল কয়েক সেকেন্ডে বদলায়; ক্ষার কোষের চর্বি গলিয়ে (saponification) গভীরে ঢোকে আর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে, এসিড উপরিতলের প্রোটিন জমাট বাঁধিয়ে (coagulation) নিজের পথ কিছুটা আটকে দেয়।

হাতে বা শরীরে এসিড পড়লে (MCQ 49, 92, 107)
বোর্ডের উত্তর (board answer)

পানি দিয়ে ধুয়ে 5% NaHCO₃ দ্রবণ দিয়ে ধোয়া, তারপর বার্নল ক্রিম।

এখনকার নিয়ম (current practice)

সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর চলমান পানিতে কমপক্ষে 15–20 মিনিট, ধোয়ার সময় ভেজা কাপড় খুলে ফেলা, তারপর ডাক্তার। কোনো প্রশমক বা ক্রিম নয়।

সূত্র: ANSI/ISEA Z358.1-2014; OSHA 29 CFR 1910.151(c); NRC Prudent Practices in the Laboratory (2011) §6.C
চোখে ক্ষার পড়লে (MCQ 50, 108)
বোর্ডের উত্তর (board answer)

প্রচুর পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে 5% বোরিক এসিড (H₃BO₃) দ্রবণ (MCQ 50-এ ‘0.1 M H₃BO₃’)।

এখনকার নিয়ম (current practice)

আই-ওয়াশে কমপক্ষে 15 মিনিট (ক্ষারে আরও বেশি), পাতা খোলা রেখে; তারপর চোখের ডাক্তার। কোনো প্রশমক ফোঁটা নয়।

সূত্র: ANSI/ISEA Z358.1-2014; OSHA 29 CFR 1910.151(c)
নিজে যাচাই করো

বন্ধুর হাতে গাঢ় NaOH দ্রবণ পড়েছে। কোনটি ঠিক?

ধাপ ৬: পোড়া, কাটা, বিষ গেলা — প্রাথমিক চিকিৎসা

হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর আগে আহত বা অসুস্থ মানুষকে তাৎক্ষণিক যে সাহায্য দেওয়া হয়, তাকে বলে প্রাথমিক চিকিৎসা (first aid)। এর তিনটি লক্ষ্য (aims):

  1. জীবন রক্ষা (preserve life)
  2. অবস্থার অবনতি রোধ (prevent further harm)
  3. আরোগ্যে সহায়তা (promote recovery)

আর সবার আগে: নিজে নিরাপদ থাকো। বিষাক্ত গ্যাসে কেউ অজ্ঞান হলে না ভেবে ভেতরে ঢুকলে উদ্ধারকারীও আরেকজন রোগী হয়ে যায়; কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে আগে মেইন সুইচ বন্ধ।

ঘটনাযা করবেযা করবে না
তাপে পোড়া (thermal burn)ঠান্ডা (বরফ-ঠান্ডা নয়) চলমান পানিতে 20 মিনিট; ফুলে ওঠার আগে আংটি-ঘড়ি খোলো; ক্লিং ফিল্ম (cling film) বা পরিষ্কার আঁশহীন কাপড়ে আলগা করে ঢাকোবরফ, মাখন, টুথপেস্ট, ক্রিম, তুলা (cotton wool); ফোসকা গালানো
কাটা (cut)পরিষ্কার প্যাড দিয়ে চাপ দাও, হাত উঁচু রাখো; ছোট কাটা চলমান পানিতে ধুয়ে ঢেকে দাও; কাচ গেঁথে থাকলে তার দুই পাশে চাপ দিয়ে ডাক্তারগেঁথে থাকা কাচ টেনে বের করা; ক্ষতে সরাসরি তুলা
বিষ গেলা (swallowed)মুখ কুলি করাও, অল্প অল্প পানি বা দুধ; বোতলের লেবেল বা SDS নিয়ে ডাক্তারবমি করানো; চুনের পানি বা অন্য প্রশমক খাওয়ানো
গ্যাস শ্বাসে (inhaled gas)নিরাপদ হলে খোলা বাতাসে নাও, কাপড় ঢিলা করো, ডাক্তারমাস্ক ছাড়া গ্যাসের মধ্যে ঢোকা

পোড়ার ব্যাপারে ডাক্তার লাগবে যদি পোড়া জায়গা রোগীর হাতের তালুর চেয়ে বড় হয়, মুখ, হাত, পা বা গিরায় হয়, চামড়া সাদা বা কালচে হয়ে যায়, অথবা রাসায়নিক বা বিদ্যুতে পোড়া হয়।

তাপে বা রাসায়নিকে পোড়া (বই p065)
বোর্ডের উত্তর (board answer)

পোড়া জায়গায় 10–15 মিনিট ঠান্ডা পানি, তারপর বার্নল ক্রিম লাগিয়ে তুলা দিয়ে ব্যান্ডেজ।

এখনকার নিয়ম (current practice)

ঠান্ডা চলমান পানিতে 20 মিনিট, আংটি খোলা, তারপর ক্লিং ফিল্ম বা আঁশহীন পরিষ্কার কাপড়ে আলগা করে ঢাকা। ক্রিম, বরফ, টুথপেস্ট, তুলা নয়।

সূত্র: NHS ‘Burns and scalds – treatment’; British Red Cross first aid

ফার্স্ট-এইড বক্স (first-aid box) হলো প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিসপত্র রাখার বাক্স — দেয়ালের এমন জায়গায়, যেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া যায় (সাধারণত সবুজ বাক্সে সাদা ক্রস)। এখনকার তালিকায় থাকে: জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং প্যাড (sterile dressing), রোলার ও ত্রিকোণ ব্যান্ডেজ (bandage), প্লাস্টার, ডিসপোজেবল গ্লাভস (gloves), কাঁচি, চিমটা (tweezers), জীবাণুমুক্ত স্যালাইন বা আই-ওয়াশ (sterile saline), চোখের প্যাড, ক্লিং ফিল্ম, সেফটিপিন আর একটি নির্দেশিকা। বই এর সঙ্গে ডেটল, রাবিং অ্যালকোহল (70% আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল), বার্নল ক্রিম, টিংচার আয়োডিন (tincture of iodine) আর তুলার কথা বলে — এগুলোর বেশির ভাগই এখন প্রাথমিক চিকিৎসায় দরকার হয় না: ক্ষত ধোয়ার জন্য পরিষ্কার পানিই যথেষ্ট, অ্যালকোহল খোলা ক্ষতে জ্বালা করে, ক্রিম পোড়ায় দেওয়া হয় না, তুলা ক্ষতে লেগে যায়।

বইয়ে টিংচার আয়োডিন তৈরির নিয়মও আছে: 2.0 g I₂ আর 3.0 g KI, 50 mL ইথানল ও 45 mL পানিতে — প্রায় 2% দ্রবণ। I₂ পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়, কিন্তু I⁻ আয়নের সঙ্গে দ্রবণীয় ট্রাইআয়োডাইড (triiodide) আয়ন তৈরি করে: IX2+IX−⇌IX3X−\ce{I2 + I- <=> I3-}।

নিজে যাচাই করো

গরম বিকার ধরে হাত পুড়ে লাল হয়ে গেছে। কোনটি সবচেয়ে ভালো?

ধাপ ৭: এবার নিজে করে দেখো

এখন তুমি জানো কোন আগুনে কী লাগে আর কোন দুর্ঘটনায় প্রথমে কী করতে হয়। নিচের সিমুলেশনে ল্যাবে আটটি জরুরি অবস্থা আসবে:

ল্যাবের জরুরি অবস্থা

Lab emergency simulator
↗

1. গরম কাচে হাত পোড়া (Hand burnt on hot glass)

বার্নার থেকে সদ্য নামানো বিকার খালি হাতে ধরে একজনের তালু আর আঙুল পুড়ে লাল হয়ে গেছে। আঙুলে আংটি আছে।

CO₂ABCDFIREফিউম হুড(fume hood)মেইন সুইচ(mains)ফার্স্ট-এইড(first aid)কম্বল(fire blanket)পানির কল(tap)আই-ওয়াশ(eye-wash)গ্যাস ভাল্ভ(gas valve)শাওয়ার(shower)CO₂ নির্বাপক(extinguisher)ABC পাউডার(ABC powder)D পাউডার(Class D)বালি(dry sand)

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/6
  1. বেসিনে সোডিয়ামের আগুন সামলাও।
  2. হাতে গাঢ় H₂SO₄: ঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দাও।
  3. চোখে NaOH: ঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দাও।
  4. সহপাঠীর জামার হাতায় আগুন: তাকে বাঁচাও।
  5. গরম কাচে পোড়া হাত: ঠিক চিকিৎসা দাও।
  6. 30 সেকেন্ডে ল্যাবের সব নিরাপত্তা সরঞ্জাম খুঁজে বের করো।

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

একটি পরিস্থিতি শেষ করলে এখানে তোমার পদক্ষেপ আর স্কোর জমা হবে।

স্কোর বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী (NHS, British Red Cross, ANSI/ISEA Z358.1, NFPA 10): প্রতিটি দরকারি পদক্ষেপে নম্বর, ক্ষতিকর কাজে বড় কাটা, অপ্রয়োজনীয় কাজে ছোট কাটা, ভুল ক্রমে কাটা।

বই পড়ার সময় সাবধান — এই অংশে বইয়ের অনেক পরামর্শ পুরোনো। পরীক্ষায় বোর্ডের উত্তর লিখো, কিন্তু বাস্তবে বর্তমান নিয়ম মেনো:

  • পোড়া (p065): “10–15 মিনিট ঠান্ডা পানি, তারপর বার্নল ক্রিম ও তুলা” — এখনকার নিয়ম 20 মিনিট চলমান পানি, তারপর ক্লিং ফিল্ম বা আঁশহীন কাপড়; ক্রিম, বরফ, টুথপেস্ট বা তুলা নয় (NHS, British Red Cross)।
  • এসিড ত্বকে (p009, p065; MCQ 49, 92, 107): “5% NaHCO₃ দিয়ে ধোও” — আসলে শুধু প্রচুর পানি, কমপক্ষে 15–20 মিনিট; ত্বকে প্রশমন নয়।
  • ক্ষার চোখে (p066; MCQ 50, 108): “5% বোরিক এসিড দাও”, আর “চোখ ধোয়ার 15 মিনিটের মধ্যে ডাক্তার” — আসলে আই-ওয়াশে কমপক্ষে 15 মিনিট ধোয়া (ক্ষারে বেশি), তারপর চোখের ডাক্তার; কোনো প্রশমক ফোঁটা নয়।
  • কাপড়ে আগুন (p064): “কাপড় খুলে ফেলতে হবে” — জ্বলন্ত কাপড় টেনে খোলা নয়; থামো-শুয়ে পড়ো-গড়াও, কম্বল বা শাওয়ার।
  • নির্বাপক তাক করা (p062): “আগুনের দিকে নিশানা করো” — নিশানা করতে হয় আগুনের গোড়ায় (P-A-S-S)। বই নিজেই পরের পাতায় (p063) CO₂-এর ক্ষেত্রে “শিখার গোড়ার দিকে” বলেছে।
  • অ্যাসবেস্টস তারজালি (p064): অ্যাসবেস্টস ক্যানসার সৃষ্টিকারী (IARC Group 1), এখন ল্যাবে নিষিদ্ধ — ওয়াচ গ্লাস, বড় বিকার বা সিরামিক বোর্ড দিয়ে ঢাকো।
  • অক্সালিক এসিড গিললে (Q 110): বোর্ডের উত্তর “পানি আর Mg(OH)₂ বা কলিচুন মেশানো পানি” — কলিচুন (Ca(OH)₂) নিজেই ক্ষয়কারী; শুধু মুখ কুলি, অল্প পানি বা দুধ, বমি নয়, লেবেল বা SDS নিয়ে ডাক্তার।
  • কাটা (p066): “কাচের টুকরো বের করে চেপে ধরো”, তারপর টিংচার আয়োডিন — শুধু ত্বকের ওপর আলগা পড়ে থাকা কাচ সরানো যায়; ক্ষতে গেঁথে থাকা কাচ টেনে বের করবে না, তার দুই পাশে চাপ দিয়ে ডাক্তারের কাছে নাও। আয়োডিন জাতীয় অ্যান্টিসেপটিক দরকার নেই, পরিষ্কার পানিই যথেষ্ট।
  • ফিউম হুড (p062): “কাজ শেষে সুইচ বন্ধ করে কাচ নামাও” — ভেতরে কোনো রাসায়নিক থাকা পর্যন্ত পাখা চালু রাখো, কাচ (sash) নামিয়ে রাখো।
  • নির্বাপকের ভেতরে “এসিড” (p063): পুরোনো সোডা-এসিড নির্বাপক অনেক আগেই বাতিল; এখন পানি, ফোম, CO₂, শুকনো পাউডার আর ওয়েট কেমিক্যাল নির্বাপক ব্যবহৃত হয়।
  • MCQ 66 (p074) “কোনটি ক্ষয়কারী ও বিষাক্ত?” উত্তরমালায় (খ) KOH: বইয়ের নিজের সারণিতেই (p041) আর্সেনিক অক্সাইডের পাশে C + T (ক্ষয়কারী + বিষাক্ত) লেখা। As₂O₃ গিললে মৃত্যু হতে পারে (GHS06, H300) আর ক্ষয়কারী (GHS05, H314); KOH ক্ষয়কারী কিন্তু শুধু “ক্ষতিকর” (H302)। ঠিক উত্তর (ঘ) আর্সেনিক অক্সাইড।

ঘরে বসে পরীক্ষা: রান্নাঘরের CO₂ “নির্বাপক”

CO₂ বাতাসের চেয়ে প্রায় 1.5 গুণ ভারী, তাই একে পানির মতো “ঢালা” যায় — আর এটি অক্সিজেন সরিয়ে আগুন নেভায়।

  1. একটি গভীর বাটির তলায় একটি ছোট মোমবাতি (tea candle) বসিয়ে জ্বালাও।
  2. একটি জগে আধা কাপ ভিনেগার (vinegar) নাও, তাতে এক চামচ খাবার সোডা (baking soda, NaHCO₃) দাও। ফেনা ওঠা কমলে বুঝবে জগ CO₂-তে ভরে গেছে: NaHCOX3+CHX3COOH→CHX3COONa+HX2O+COX2(g)\ce{NaHCO3 + CH3COOH -> CH3COONa + H2O + CO2(g)}
  3. জগটি মোমবাতির ওপর ধীরে কাত করো — কিন্তু তরল ঢেলো না। অদৃশ্য CO₂ গড়িয়ে নেমে শিখা নিভিয়ে দেবে।
  4. দ্বিতীয় একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে একটি কাচের গ্লাস উপুড় করে ঢাকো। কয়েক সেকেন্ডে শিখা ছোট হয়ে নিভে যাবে — ভেতরের অক্সিজেন কমে গেছে।
  5. দুটি ক্ষেত্রেই অগ্নি ত্রিভুজের কোন বাহু সরল, খাতায় লেখো।

নিরাপত্তা: অবশ্যই একজন বড় কারও সামনে করো। আশেপাশে কাগজ, কাপড় বা দাহ্য কিছু রাখবে না, চুল বেঁধে রাখো, আর এক বালতি পানি পাশে রাখো। শুধু ছোট মোমবাতি — অন্য কোনো আগুন বা রাসায়নিক নিয়ে পরীক্ষা নয়।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. ফার্স্ট এইড বক্স কী? এতে কী কী থাকে? (রা. বো. ২০১৬; দি. বো. ২০১৭; কু. বো. ২০১৯)

ল্যাবে দুর্ঘটনায় আহত কাউকে হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে নেওয়ার আগে যে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তা প্রাথমিক চিকিৎসা; এর জিনিসপত্র যে বাক্সে প্রস্তুত রাখা হয়, তাকে ফার্স্ট এইড বক্স বলে। এতে থাকে জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার, গ্লাভস, কাঁচি, চিমটা, স্যালাইন বা আই-ওয়াশ, ক্লিং ফিল্ম। (বইয়ের তালিকায় ডেটল, টিংচার আয়োডিন, বার্নল ক্রিম, তুলাও আছে — বোর্ডের উত্তরে এগুলো লিখতে পারো, তবে এখনকার প্রাথমিক চিকিৎসায় ক্রিম আর তুলা ব্যবহৃত হয় না।)

২. সোডিয়াম ধাতু কোথায় রাখা হয়? বেসিনের পানিতে Na, NaH বা LiAlH₄ কখনো ফেলা যায় না কেন?

সোডিয়াম কেরোসিন বা প্যারাফিন তেলে ডুবিয়ে রাখা হয়, যাতে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে না আসে। এরা পানির সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়ায় H₂ তৈরি করে, আর বিক্রিয়ার তাপে H₂ জ্বলে ওঠে বা বিস্ফোরিত হয়:

2 Na+2 HX2O→2 NaOH+HX2(g)\ce{2Na + 2H2O -> 2NaOH + H2(g)}, NaH+HX2O→NaOH+HX2(g)\ce{NaH + H2O -> NaOH + H2(g)}, LiAlHX4+4 HX2O→LiOH+Al(OH)X3+4 HX2(g)\ce{LiAlH4 + 4H2O -> LiOH + Al(OH)3 + 4H2(g)}

এই আগুনে পানি বা CO₂ নয় — শুকনো বালি বা D-শ্রেণির পাউডার।

৩. ভুল করে 0.46 g সোডিয়াম বেসিনের পানিতে পড়ল। 25 °C ও 1 atm-এ কত লিটার H₂ তৈরি হবে, আর কত তাপ বের হবে? (Na = 23, মোলার আয়তন 24.47 L)

n(Na)=0.4622.99=0.0200n(\text{Na}) = \dfrac{0.46}{22.99} = 0.0200 mol। সমীকরণ 2 Na+2 HX2O→2 NaOH+HX2\ce{2Na + 2H2O -> 2NaOH + H2} অনুযায়ী n(H2)=0.0100n(\text{H}_2) = 0.0100 mol।

V=0.0100×24.47=0.245V = 0.0100 \times 24.47 = 0.245 L ≈ 245 mL H₂।

তাপ ≈ 0.0200×184=3.70.0200 \times 184 = 3.7 kJ — ছোট টুকরো গলে যাওয়ার আর H₂ জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। H₂-এর জ্বলনসীমা বাতাসে 4–75%, তাই এটি সহজেই বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করে।

৪. একজন শিক্ষার্থীর হাতে গাঢ় H₂SO₄ পড়ল, শিক্ষক তার হাত 5% মাত্রার ‘X’ দ্রবণ দিয়ে ধুয়ে দিলেন। (ক) X কোনটি? (খ) এসিডের বদলে গাঢ় ক্ষার পড়লে কোন দ্রবণ ব্যবহার করতেন? (য. বো. ২০১৬, MCQ 107–108)

বোর্ডের উত্তর: (ক) X = NaHCO₃ (খ) H₃BO₃ (বোরিক এসিড)।

বর্তমান নিয়ম: দুই ক্ষেত্রেই প্রথম ও প্রধান কাজ প্রচুর চলমান পানিতে কমপক্ষে 15–20 মিনিট ধোয়া (চোখে আই-ওয়াশে কমপক্ষে 15 মিনিট), ভেজা কাপড় খুলে ফেলা, তারপর ডাক্তার। প্রশমক খুঁজতে গেলে সময় নষ্ট হয়, বেশি হলে প্রশমক নিজেই ক্ষতি করে, আর অল্প তরলে লঘুকরণের তাপ বেশি ওঠে। পরীক্ষায় বোর্ডের উত্তর দাও, বাস্তবে পানি।

৫. পঞ্চম গ্রুপের তিনজন ল্যাব পরিষ্কার করছিল। হঠাৎ সোডিয়াম পানিতে পড়ে বেসিনে আগুন ধরে, আর ১ম শিক্ষার্থীর অ্যাপ্রনে আগুন লাগে। (ক) ২য় শিক্ষার্থী ১ম জনকে বাঁচাতে কী করবে? (খ) ৩য় শিক্ষার্থীর ঠিক কাজ কোনগুলো — i. নির্বাপক আনতে যাওয়া ii. চিৎকার করে আগুনের খবর জানানো iii. CO₂-এর নল ১ম শিক্ষার্থীর দিকে ধরা (MCQ 101–102)

(ক) মাটিতে গড়াগড়ি দিতে বলবে (stop, drop, roll) — বা ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেটে মুড়ে দেবে, শাওয়ারের নিচে নেবে। অ্যাপ্রন খুলতে যাওয়া বা বিকারে পানি আনতে যাওয়া নয়।

(খ) i ও ii — সতর্ক করা আর নির্বাপক আনা ঠিক। iii ভুল: মানুষের দিকে CO₂ কখনো নয় (−78 °C, শ্বাসরোধী)। মনে রেখো, বেসিনের সোডিয়ামের আগুনে নির্বাপক হিসেবে CO₂ নয়, আনতে হবে শুকনো বালি বা D-শ্রেণির পাউডার — আর আগে কল বন্ধ।

৬. পিপেটে মুখ দিয়ে অক্সালিক এসিড টানতে গিয়ে ফাইজা খানিকটা গিলে ফেলল। (ক) মুখ দিয়ে না টেনে কী ব্যবহার করা উচিত ছিল? (খ) এখন তার কী করা উচিত? (কু. বো. ২০১৬, MCQ 109–110)

(ক) পিপেট ফিলার (pipette filler) — মুখ দিয়ে পিপেট টানা কখনো নয়।

(খ) বোর্ডের উত্তর (MCQ 110, উত্তরমালা খ): পর্যাপ্ত পানি পান আর Mg(OH)₂ বা কলিচুন মেশানো পানি পান। বর্তমান নিয়ম (অক্সালিক এসিডের SDS, অনুচ্ছেদ 4): মুখ কুলি করা, অল্প অল্প পানি বা দুধ খাওয়া, বমি না করানো, বোতলের লেবেল বা SDS নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া। কলিচুন (Ca(OH)₂) নিজেই ক্ষয়কারী ক্ষার; প্রশমনের কাজ ডাক্তারের।

৭. জ্বলন্ত কাগজে পানি দেওয়া যায়, কিন্তু জ্বলন্ত ইথার বা কড়াইয়ের তেলে নয় — অগ্নি ত্রিভুজ দিয়ে ব্যাখ্যা করো। কোনটি দাহ্য নয়: বিউটেন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, প্রোপেন? (MCQ 69)

কাগজের (A শ্রেণি) আগুনে পানি জ্বালানিকে জ্বলন তাপমাত্রার নিচে ঠান্ডা করে — ত্রিভুজের তাপ বাহু সরে যায়। ইথার পানির চেয়ে হালকা আর পানিতে প্রায় মেশে না, তাই পানির ওপর ভেসে জ্বলতে থাকে আর ছড়িয়ে পড়ে; এর জন্য অক্সিজেন সরাতে হয় (CO₂, ফোম, ঢাকনা)। গরম তেলের (300 °C-এর বেশি) নিচে পানি মুহূর্তে বাষ্প হয়ে জ্বলন্ত তেল ছুড়ে দেয়; তাই ঢাকনা বা ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে অক্সিজেন বন্ধ করতে হয়।

অক্সিজেন দাহ্য নয় — এটি নিজে জ্বলে না, অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে (দহন সহায়ক, supporter of combustion)।