পাঠ ৮ / ৮অনুচ্ছেদ ব্যবহারিক

ব্যবহারিক: পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগে মাইটোসিস পর্যবেক্ষণPractical: observing mitosis in an onion root tip

নিচে পেঁয়াজের মূলের ডগার একটি রাঙানো স্লাইড, অণুবীক্ষণ যন্ত্রে যেমন দেখায়। ২০ সেকেন্ডে একটি বিভাজনরত (dividing) কোষ খুঁজে বের করো — যে কোষে ছোঁয়া দেবে, তার দশা দেখাবে:

সময় বাকি20 s
যে কোষ ছুঁয়েছ0
বিভাজনরত পেয়েছ0

যেকোনো কোষে আলতো ছোঁয়া দাও — ঘড়ি চালু হবে। লক্ষ্য: ২০ সেকেন্ডে একটি বিভাজনরত (dividing) কোষ খুঁজে পাওয়া।

মূলের ডগা নাকি কোষ বিভাজনের কারখানা — তবু বেশিরভাগ কোষ চুপচাপ ইন্টারফেজ (interphase)-এ বসে আছে কেন? আর প্রতিটি দশার কোষ কতগুলো, তা গুনে কি বলা যায় কোন দশা কত মিনিট চলে? এই ব্যবহারিকে আমরা ঠিক এটাই করব।

এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. কেন মূলের অগ্রভাগ, কেন পেঁয়াজ — ভাজক টিস্যু (meristem)
  2. স্লাইড তৈরির পদ্ধতি — প্রতিটি ধাপ কেন করি, আর নিরাপত্তা
  3. স্লাইডে মাইটোসিসের দশা চেনা
  4. ব্যবহারিক খাতায় চিত্র আঁকার নিয়ম
  5. মাইটোটিক ইনডেক্স (mitotic index) আর প্রতিটি দশার স্থায়িত্ব
  6. ভুলের উৎস (sources of error)
  7. এবার নিজে করে দেখো — ভার্চুয়াল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে গণনা

ধাপ ১: কেন মূলের অগ্রভাগ, কেন পেঁয়াজ

মূল লম্বা হয় ডগা থেকে। ডগার একদম মাথায় থাকে মূলত্র (root cap) — একটি টুপির মতো আবরণ, মাটির ঘষা থেকে ভেতরের নরম অংশকে বাঁচায়। তার ঠিক পেছনে, ডগা থেকে প্রায় 0.5–2 mm জুড়ে, বিভাজন অঞ্চল (meristematic zone): ছোট, প্রায় চৌকো, পাতলা প্রাচীরের কোষ, বড় নিউক্লিয়াস — এরা অনবরত মাইটোসিস (mitosis) বিভাজনে নতুন কোষ বানায়। আরও পেছনে দীর্ঘায়ন অঞ্চল (elongation zone)-এ কোষ বিভাজন থামিয়ে পানি শুষে লম্বা হয়, আর পরিণত অঞ্চলে (maturation zone) মূলরোম (root hair) গজায়।

তাই মাইটোসিস দেখতে চাইলে মূলের ডগার 1–2 cm কেটে নিতে হয়, আর স্লাইডে খুঁজতে হয় ছোট-ছোট কোষের ঘন অংশটি। নিচের মূলে লাল ছুরিটি টেনে সরাও (বা স্লাইডার ব্যবহার করো) — যেখান থেকে কাটবে, সেখানকার কোষ নিচে দেখাবে:

পরিণত অঞ্চল(maturation)দীর্ঘায়ন অঞ্চল(elongation)বিভাজন(meristem)মূলত্র (root cap) ↓ডগা থেকে 1.2 mm
অঞ্চল (zone)বিভাজন অঞ্চল (meristem)
সাধারণ মাইটোটিক ইনডেক্স≈ 12%

ছোট, ঘন, প্রায় চৌকো কোষ, বড় নিউক্লিয়াস — এখানেই কোষ বিভাজন সবচেয়ে বেশি। ভালো স্লাইডের জন্য ঠিক এই অংশটুকুই দরকার। ধারণাগত মডেল (conceptual model): অঞ্চলের সীমা ও MI আনুমানিক।

পেঁয়াজ (Allium cepa) কেন? সস্তা, সারা বছর পাওয়া যায়, পানিতে বসালে কয়েক দিনেই অনেক মূল গজায়। আর এর ক্রোমোসোম সংখ্যায় কম (2n = 16) কিন্তু আকারে বড় — পেঁয়াজের এক সেট ক্রোমোসোমে DNA প্রায় 15.9 বিলিয়ন বেস-জোড়, মানুষের (≈ 3.1 বিলিয়ন) প্রায় 5 গুণ, অথচ মাত্র 8টি ক্রোমোসোমে ভাগ করা। তাই প্রতিটি ক্রোমোসোম মোটা ও লম্বা, সাধারণ অণুবীক্ষণেই স্পষ্ট দেখা যায়।

নিজে যাচাই করো

মূলের ডগা থেকে 6 mm পেছনের অংশ দিয়ে স্লাইড বানালে কী দেখা যাবে?

ধাপ ২: স্লাইড তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ: পেঁয়াজ, পানিভরা কাচের গ্লাস বা বিকার, ব্লেড, ঘড়ি-কাচ (watch glass), 1 N HCl, 2% অ্যাসিটোকারমাইন (acetocarmine) রঞ্জক, স্পিরিট ল্যাম্প, চিমটা (forceps), স্লাইড, কভারস্লিপ (coverslip), ব্লটিং পেপার, যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র (compound microscope)।

স্কুল ল্যাবের প্রচলিত পদ্ধতি (standard school-lab method), প্রতিটি ধাপের কারণসহ:

ধাপকী করিকেন করি
১. মূল জন্মানোপেঁয়াজের গোড়া পানিতে ছুঁইয়ে রাখি; 3–5 দিনে মূল 1–2 cm হয়নতুন, দ্রুত বাড়ন্ত মূলে বিভাজন বেশি
২. কাটাডগার 1–2 cm কাটি, সম্ভব হলে সকালের মাঝামাঝিএই সময়ে বিভাজনের হার বেশি থাকে
৩. স্থিরকরণ (fixation) — ঐচ্ছিক3 : 1 ইথানল : গ্লেসিয়াল অ্যাসিটিক অ্যাসিড-এ রাখিকোষগুলো সেই মুহূর্তের দশায় থেমে যায়
৪. আর্দ্রবিশ্লেষণ (hydrolysis)ঘড়ি-কাচে 1 N HCl-এ ~60 °C-এ ~5 মিনিট (বা বইয়ের মতো HCl-মেশানো রঞ্জকে) গরম করিকোষগুলোকে জুড়ে রাখা মধ্যপর্দা (middle lamella)-র পেকটিন গলে, টিস্যু নরম হয়, কোষ আলাদা হয়
৫. রঞ্জন (staining)অ্যাসিটোকারমাইনে কয়েক মিনিট, হালকা গরম করে (ফুটিয়ে নয়)রঞ্জক ক্রোমোসোমকে লাল-বেগুনি করে; গরমে দ্রুত ও গাঢ় রঙ হয়
৬. স্কোয়াশ (squash)ডগার শুধু 1–2 mm স্লাইডে রেখে এক ফোঁটা রঞ্জক, কভারস্লিপ, ওপরে ব্লটিং পেপার দিয়ে বুড়ো আঙুলে চাপকোষ এক স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, একটির ওপর আরেকটি থাকে না
৭. পর্যবেক্ষণআগে কম ক্ষমতার (10×) অবজেক্টিভে ছোট কোষের ঘন অংশ খুঁজি, তারপর উচ্চ ক্ষমতায় (40×)10×-এ পুরো স্কোয়াশ দেখা যায়, 40×-এ ক্রোমোসোম

নিরাপত্তা (safety):

  • 1 N HCl ক্ষয়কারী (corrosive): চোখে গেলে মারাত্মক ক্ষতি। চশমা বা গগলস (goggles) আর অ্যাপ্রন পরো; ত্বকে বা চোখে লাগলে সাথে সাথে প্রচুর পানিতে কয়েক মিনিট ধরে ধুয়ে শিক্ষককে জানাও।
  • গরম করার সময়: ঘড়ি-কাচ বা স্লাইড সবসময় চিমটা দিয়ে ধরো, শিখা ছোট রাখো, তরল ফুটতে দিও না — ফুটলে অ্যাসিড ছিটকে আসে। মুখ ঝুঁকিয়ে দেখো না।
  • অ্যাসিটোকারমাইন অ্যাসিটিক অ্যাসিডে তৈরি: ত্বক ও চোখে জ্বালা করে, ত্বকে ও কাপড়ে দাগ বসে যায়। গ্লাভস পরো।
  • কভারস্লিপ খুব পাতলা কাচ: চাপ দিতে গিয়ে ভাঙলে খালি হাতে তুলো না; ভাঙা কাচ আলাদা পাত্রে ফেলো।
  • কাজ শেষে হাত সাবান দিয়ে ধোও; বেঁচে যাওয়া অ্যাসিড শিক্ষকের দেখানো পাত্রে ফেলো।

এবার নিজে স্লাইড বানিয়ে দেখো। প্রতিটি ধাপ চালু/বন্ধ করো আর চাপ বদলাও — ভুল করলে স্লাইড কেমন দেখায়, সেটাও দেখো:

স্কোয়াশ (squash):

✗ HCl বাদ দিয়েছ: কোষগুলোকে জুড়ে রাখা মধ্যপর্দা (middle lamella)-র পেকটিন গলেনি, তাই চাপ দিলেও কোষ আলাদা হয়নি — একটার ওপর আরেকটা দলা পাকানো।

নিজে যাচাই করো

একজন ছাত্র HCl ধাপ বাদ দিয়ে স্লাইড বানাল। অণুবীক্ষণে কী দেখবে?

ধাপ ৩: স্লাইডে মাইটোসিসের দশা চেনা

পাঠ ৩-এ মাইটোসিসের দশাগুলো শিখেছ। কিন্তু স্লাইডে কোষ নড়ে না — স্থির ছবি দেখে চিনতে হয়। 400× বিবর্ধনে অ্যাসিটোকারমাইনে রাঙানো কোষে যা খুঁজবে:

দশাস্লাইডে যা দেখবে
ইন্টারফেজ (interphase)গোল, হালকা রঙের নিউক্লিয়াস, ভেতরে এক-দুটি গাঢ় নিউক্লিওলাস (nucleolus); আলাদা ক্রোমোসোম দেখা যায় না
প্রোফেজ (prophase)নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতার গোলার মতো প্যাঁচানো, ক্রমশ মোটা হওয়া ক্রোমোসোম; নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা মিলিয়ে যাচ্ছে
মেটাফেজ (metaphase)নিউক্লিয়াস নেই; ঘন, খাটো ক্রোমোসোম কোষের মাঝখানে এক সারিতে — মেটাফেজ প্লেট (metaphase plate)। মেরু থেকে (end-on) দেখলে সারির বদলে ফুলের মতো চক্র
অ্যানাফেজ (anaphase)দুই গুচ্ছ V-আকৃতির ক্রোমোসোম দুই মেরুর দিকে; V-এর মাথা (সেন্ট্রোমিয়ার) আগে, বাহু পেছনে
টেলোফেজ (telophase)দুই প্রান্তে দুটি ঘন নতুন নিউক্লিয়াস; মাঝখানে কোষপ্লেট (cell plate) তৈরি হচ্ছে (উদ্ভিদকোষে খাঁজ নয়)

এবার কার্ড দেখে দশা চেনো:

কার্ড 1 / 6 · অ্যাসিটোকারমাইনে রাঙানো কোষ, 400×

ক্রোমোসোম কোথায় আর কেমন আকারে আছে, দেখে দশা বেছে নাও।

নিজে যাচাই করো

একটি কোষে দেখা গেল ক্রোমোসোমগুলো দুই দলে ভাগ হয়ে বিপরীত দিকে যাচ্ছে, প্রত্যেকটি V-আকৃতির। কোষটি কোন দশায়?

ধাপ ৪: ব্যবহারিক খাতায় চিত্র আঁকার নিয়ম

বোর্ড পরীক্ষায় চিত্রের জন্য নম্বর থাকে। পরীক্ষক যা দেখেন:

কোষপ্রাচীর(cell wall)অপত্য ক্রোমোসোম(daughter chromosome)বেমতন্তু(spindle fibre)মেরু(pole)অ্যানাফেজ (anaphase) · ×400
খাতার আদর্শ চিত্র: পেনসিলে, এক কোষ বড় করে, লেবেল ডানে সরল রেখায়, নিচে শিরোনাম ও বিবর্ধন।

ধাপ ৫: মাইটোটিক ইনডেক্স ও প্রতিটি দশার স্থায়িত্ব

স্লাইড হলো একটি মুহূর্তের ছবি (snapshot)। হাজারো কোষ একসাথে চক্রে ঘুরছে, কিন্তু কেউ কারও সাথে তাল মিলিয়ে নয় (asynchronous)। তাই যে দশা যত লম্বা সময় চলে, ঠিক সেই মুহূর্তে তত বেশি কোষ সেই দশায় ধরা পড়ে — যেমন বাসস্ট্যান্ডে যে বাস বেশিক্ষণ দাঁড়ায়, যেকোনো মুহূর্তে সেটাকেই দেখার সম্ভাবনা বেশি।

মাইটোটিক ইনডেক্স (mitotic index, MI) হলো গোনা কোষের মধ্যে বিভাজনরত কোষের শতকরা হার:

MI=P+M+A+TN×100%\text{MI} = \frac{P + M + A + T}{N} \times 100\%

এখানে P,M,A,TP, M, A, T প্রতিটি দশার কোষসংখ্যা আর NN মোট গোনা কোষ। কোষচক্রের মোট সময় TcT_c জানা থাকলে কোনো দশার আনুমানিক সময় (বোর্ড যেটা চায়: “সময় ∝ কোষসংখ্যা”):

tphase≈nphaseN×Tct_{\text{phase}} \approx \frac{n_{\text{phase}}}{N} \times T_c

পেঁয়াজের মূলের ডগায় 25 °C-এ মাপা মান (González-Fernández ও সহকর্মী, 1966): কোষচক্র Tc=13.5T_c = 13.5 h; মাইটোসিস প্রায় 2.3 h = প্রোফেজ 64 মিনিট, মেটাফেজ 18, অ্যানাফেজ 13, টেলোফেজ 42 মিনিট। ঠান্ডায় চক্র ধীর হয় — কম তাপমাত্রার পরীক্ষায় 17–23 h পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

আরও নিখুঁত (more exact): বাড়ন্ত টিস্যুতে প্রতিটি বিভাজনে এক কোষ থেকে দুই নতুন (কম বয়সী) কোষ হয়, তাই যেকোনো মুহূর্তে কম বয়সী কোষ বেশি থাকে আর চক্রের শেষের দিকের (মাইটোসিস) কোষ একটু কম। সূচকীয় হারে বাড়ন্ত জনগোষ্ঠীতে যে দশা কোষের বয়স a1a_1 থেকে a2a_2 পর্যন্ত জুড়ে থাকে, তার ভগ্নাংশ

F=2(2−a1/Tc−2−a2/Tc),MI=2tM/Tc−1F = 2\left(2^{-a_1/T_c} - 2^{-a_2/T_c}\right), \qquad \text{MI} = 2^{t_M/T_c} - 1
দশাসরল অনুপাত (duration ÷ TcT_c)আরও নিখুঁত (age-corrected)
ইন্টারফেজ83.1%87.6%
প্রোফেজ7.9%6.0%
মেটাফেজ2.2%1.6%
অ্যানাফেজ1.6%1.2%
টেলোফেজ5.2%3.7%
মাইটোটিক ইনডেক্স16.9%12.4%

ক্লাসের স্লাইডে সাধারণত MI ≈ 5–15% পাওয়া যায় — দিনের সময়, তাপমাত্রা আর বিভাজন অঞ্চলের বাইরের কোষ কতটা গোনা হলো তার ওপর নির্ভর করে।

উদাহরণ: 500টি কোষ গুনে পাওয়া গেল প্রোফেজ 40, মেটাফেজ 8, অ্যানাফেজ 6, টেলোফেজ 16। তাহলে MI =40+8+6+16500×100%=14%= \dfrac{40 + 8 + 6 + 16}{500} \times 100\% = 14\%। Tc=13.5T_c = 13.5 h হলে প্রোফেজের সময় ≈40500×13.5=1.08\approx \dfrac{40}{500} \times 13.5 = 1.08 h, প্রায় 65 মিনিট।

নিজে যাচাই করো

400টি কোষ গুনে 48টি বিভাজনরত কোষ পাওয়া গেল। মাইটোটিক ইনডেক্স কত?

ধাপ ৬: ভুলের উৎস

গণনা তখনই বিশ্বাসযোগ্য যখন নমুনা ন্যায্য। সাধারণ ভুলগুলো:

নিজে যাচাই করো

একজন ছাত্র প্রতিটি ফিল্ডে শুধু চোখে পড়া বিভাজনরত কোষ গুনল, আর ইন্টারফেজ কোষ আন্দাজে লিখল। তার MI সম্ভবত কেমন হবে?

ধাপ ৭: এবার নিজে করে দেখো

ভার্চুয়াল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তিনটি স্লাইড আছে: বিভাজন অঞ্চল, কোলচিসিন (colchicine)-দেওয়া মূল, আর দীর্ঘায়ন অঞ্চল। যেভাবে কাজ করবে:

  1. 10× অবজেক্টিভে পুরো স্কোয়াশ দেখো, একটি ফিল্ড (১–৬) বেছে নাও, তারপর 40× চাপো।
  2. সূক্ষ্ম ফোকাস (fine focus) স্লাইডার ঘুরিয়ে ছবি পরিষ্কার করো।
  3. একটি কোষে ছোঁয়া দাও, তারপর তার দশার বোতাম চাপো। ভুল হলে কারণ দেখাবে।
  4. সব বিভাজনরত কোষ লেবেল দেওয়া হলে “বাকি সব ইন্টারফেজ” চাপো, তারপর ▶ দিয়ে স্টেজ সরিয়ে পরের ফিল্ডে যাও।
  5. টেবিলে MI, প্রতিটি দশার % আর সময় (সরল ও আরও নিখুঁত) দেখো; খাতার CSV নামিয়ে রাখো।

ভার্চুয়াল অণুবীক্ষণ: পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগ

Root-tip microscope
↗
12345610× · পুরো স্কোয়াশ
অবজেক্টিভ (objective):স্টেজ (stage)

প্রথমে 10× অবজেক্টিভে পুরো স্কোয়াশ দেখো, একটি ফিল্ড (field) বেছে 40×-এ যাও, তারপর ফোকাস ঠিক করো।

দশা (phase)গণনা%সময়, সরল (h)আরও নিখুঁত (h)
I · ইন্টারফেজ0———
P · প্রোফেজ0———
M · মেটাফেজ0———
A · অ্যানাফেজ0———
T · টেলোফেজ0———
এই স্লাইডে গোনা কোষ0
মাইটোটিক ইনডেক্স (MI)—
বিভাজনরত কোষ0

সময় = ভগ্নাংশ × T, T = 13.5 h (25 °C)। “আরও নিখুঁত” কলাম বাড়ন্ত জনগোষ্ঠীতে কম বয়সী কোষ বেশি থাকে — সেটা হিসাবে ধরে। কোলচিসিন স্লাইড ধারণাগত মডেল (3 h চিকিৎসা)।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/6
  1. বিভাজন অঞ্চলের স্লাইডে প্রতিটি দশার (I, P, M, A, T) অন্তত একটি কোষ খুঁজে লেবেল দাও। (—)
  2. বিভাজন অঞ্চলে অন্তত 100টি কোষ গুনে মাইটোটিক ইনডেক্স বের করো। (0/100)
  3. কোষচক্র 13.5 h হলে প্রোফেজ কত ঘণ্টা স্থায়ী? (নিচের ঘরে লেখো)
  4. একটি মেটাফেজ কোষ বড় করে তার ক্রোমোসোম গোনো।
  5. দীর্ঘায়ন অঞ্চলের স্লাইডে একটি পুরো ফিল্ড গোনো। MI প্রায় শূন্য কেন?
  6. কোলচিসিন-দেওয়া স্লাইডে 3টি মেটাফেজ খুঁজে বের করো। অ্যানাফেজ নেই কেন? (0/3)

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

40×-এ কোষ লেবেল করলে প্রতিটি ফিল্ডের গণনা এখানে জমা হবে।

বই পড়ার সময় সাবধান:

  • বইয়ে আছে, বালিতে পেঁয়াজ বসিয়ে “২/১ দিন” পানি দিলে মূল গজাবে। বাস্তবে মূল 1–2 cm হতে সাধারণত 3–5 দিন লাগে; আর বালির চেয়ে পানির ওপর বসানো সহজ ও পরিষ্কার।
  • বইয়ে আর্দ্রবিশ্লেষণের তাপমাত্রা-সময় বা স্থিরকরণ ধাপ নেই। ওপরের সারণির (~60 °C, ~5 মিনিট; ঐচ্ছিক 3 : 1 ইথানল : অ্যাসিটিক অ্যাসিড) হলো প্রচলিত স্কুল-ল্যাব পদ্ধতি।
  • বইয়ের ব্যবহারিক বাক্সে শুধু “উচ্চক্ষমতার অবজেক্টিভে পর্যবেক্ষণ” বলা আছে — আগে কম ক্ষমতায় (10×) বিভাজন অঞ্চল খুঁজে নিতে হয়, নইলে 40×-এ এলোমেলো ঘুরে সময় নষ্ট হয়।
  • “পেঁয়াজের মূলে 16টি ক্রোমোসোম থাকে” — ঠিক (Allium cepa 2n = 16)।

ঘরে বসে পরীক্ষা: পেঁয়াজের মূল জন্মানো

রঞ্জন আর স্কোয়াশ শুধু স্কুল ল্যাবে (HCl, আগুন, রঞ্জক)। কিন্তু মূল জন্মানোর অংশটা ঘরে নিরাপদে করা যায়:

  1. একটি মাঝারি পেঁয়াজের শুকনো খোসা আর পুরোনো শিকড় হালকা ছেঁটে ফেলো (বড়দের সাহায্যে, সাবধানে)।
  2. একটি গ্লাসে পানি ভরে পেঁয়াজটি মুখের ওপর বসাও — শুধু গোড়া পানি ছুঁয়ে থাকবে, পুরো পেঁয়াজ ডুববে না (ডুবলে পচে)। দরকার হলে তিনটি টুথপিক গেঁথে গ্লাসের কিনারায় আটকাও।
  3. ছায়ায় রাখো, প্রতিদিন পানি বদলাও।
  4. 4 দিন ধরে প্রতিদিন একই সময়ে সবচেয়ে লম্বা 3টি মূলের দৈর্ঘ্য (mm) স্কেলে মেপে খাতায় টেবিল করো, আর গড় বৃদ্ধির হার (mm/দিন) বের করো।
  5. মূল 1–2 cm হলে পেঁয়াজসহ স্কুলে নিয়ে যাও — শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে স্লাইড বানাবে।

নিরাপত্তা: ঘরে HCl, রঞ্জক বা আগুন দিয়ে কিছু করবে না। ছুরি ব্যবহার বড়দের সামনে। কাজ শেষে হাত ধুয়ে নাও। মনে রেখো, ক্রোমোসোম দেখতে অন্তত 400× যৌগিক অণুবীক্ষণ লাগে — মোবাইলের ক্লিপ-লেন্সে কোষের আকার দেখা গেলেও ক্রোমোসোম দেখা যায় না।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (মৌখিক / viva) মাইটোসিস দেখতে মূলের অগ্রভাগ নেওয়া হয় কেন? HCl, অ্যাসিটোকারমাইন, গরম করা আর স্কোয়াশ — প্রতিটির কাজ কী?

উত্তর দেখো

মূলের অগ্রভাগের পেছনের 1–2 mm ভাজক টিস্যু, যেখানে কোষ অনবরত মাইটোসিসে বিভাজিত হয়; পেছনের অংশে বিভাজন প্রায় নেই। HCl মধ্যপর্দার পেকটিন গলিয়ে কোষ আলাদা ও টিস্যু নরম করে। অ্যাসিটোকারমাইন ক্রোমোসোমকে লাল-বেগুনি রাঙায়। হালকা গরম আর্দ্রবিশ্লেষণ ও রঞ্জন দ্রুত করে (ফোটানো চলবে না)। স্কোয়াশ কোষগুলোকে এক স্তরে ছড়িয়ে দেয়, যাতে প্রতিটি কোষ আলাদা দেখা যায়।

২. পেঁয়াজের দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা কত? কোন দশায় ক্রোমোসোম গোনা সবচেয়ে সহজ? সেই দশায় একটি কোষে মোট ক্রোমাটিড কতটি, আর অ্যানাফেজের একটি কোষে মোট ক্রোমোসোম কতটি?

উত্তর দেখো

2n = 16। মেটাফেজে ক্রোমোসোম সবচেয়ে ঘন, খাটো ও এক সারিতে থাকে, তাই গোনা সহজ। মেটাফেজে 16টি ক্রোমোসোম, প্রতিটিতে 2টি সিস্টার ক্রোমাটিড, মোট 32টি ক্রোমাটিড। অ্যানাফেজে ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে প্রত্যেকে একটি অপত্য ক্রোমোসোম, তাই কোষে মোট 32টি ক্রোমোসোম (প্রতি মেরুতে 16টি) — এটা একটা পরিচিত ফাঁদ।

৩. (গাণিতিক) একটি স্লাইডের 500টি কোষ গুনে পাওয়া গেল: প্রোফেজ 40, মেটাফেজ 8, অ্যানাফেজ 6, টেলোফেজ 16, বাকিগুলো ইন্টারফেজ। (ক) মাইটোটিক ইনডেক্স কত? (খ) কোষচক্র 13.5 h হলে প্রোফেজ ও অ্যানাফেজের আনুমানিক সময় কত?

উত্তর দেখো

(ক) বিভাজনরত = 40 + 8 + 6 + 16 = 70; MI = 70/500 × 100% = 14%।

(খ) প্রোফেজ ≈ 40/500 × 13.5 h = 1.08 h (≈ 65 মিনিট); অ্যানাফেজ ≈ 6/500 × 13.5 h = 0.16 h (≈ 10 মিনিট)। ইন্টারফেজ = 430টি, ≈ 430/500 × 13.5 = 11.6 h। (প্রকৃত মাপা মান: প্রোফেজ 64 মিনিট, অ্যানাফেজ 13 মিনিট — গণনা প্রায় মিলে যায়।)

৪. একজন ছাত্র মূলের ডগা থেকে 4 mm পেছনের টুকরো দিয়ে স্লাইড বানিয়ে 300টি কোষে মাত্র 2টি বিভাজনরত কোষ পেল। ব্যাখ্যা করো, আর ঠিক করার উপায় বলো।

উত্তর দেখো

MI = 2/300 ≈ 0.7%। 4 mm পেছনের অংশ দীর্ঘায়ন অঞ্চল — সেখানকার কোষ বিভাজন থামিয়ে লম্বা হচ্ছে। ডগার মাত্র 1–2 mm (মূলত্রের ঠিক পেছনের বিভাজন অঞ্চল) নিয়ে স্কোয়াশ করতে হবে, আর 10×-এ ছোট, চৌকো কোষের ঘন অংশ খুঁজে তারপর 40×-এ গুনতে হবে।

৫. কোলচিসিন দেওয়া পেঁয়াজের মূলের স্লাইডে মেটাফেজ কোষ অনেক বেশি, কিন্তু অ্যানাফেজ একটিও নেই কেন? ক্যারিওটাইপ তৈরিতে এর ব্যবহার কী?

উত্তর দেখো

কোলচিসিন টিউবুলিনে বসে বেমতন্তু (spindle fibre) তৈরি হতে দেয় না। ফলে ক্রোমাটিড টেনে মেরুতে নেওয়া যায় না, কোষ মেটাফেজে আটকে থাকে; সময়ের সাথে আরও কোষ এসে মেটাফেজে জমে। মেটাফেজে ক্রোমোসোম সবচেয়ে ঘন ও স্পষ্ট, তাই ক্যারিওটাইপ বানাতে (ক্রোমোসোম গুনতে ও সাজাতে) কোষকে কোলচিসিন দিয়ে মেটাফেজে থামানো হয়।

৬. (চিত্র) পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগের স্লাইডে দেখা মেটাফেজ ও অ্যানাফেজ দশার চিত্র এঁকে চিহ্নিত করো।

উত্তর দেখো

মেটাফেজ: আয়তাকার কোষপ্রাচীর; নিউক্লিয়ার পর্দা নেই; কোষের মাঝখানে বিষুবীয় তলে এক সারিতে ঘন ক্রোমোসোম (মেটাফেজ প্লেট), দুই মেরু থেকে বেমতন্তু সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত। লেবেল: কোষপ্রাচীর, ক্রোমোসোম, সেন্ট্রোমিয়ার, বেমতন্তু, মেরু। অ্যানাফেজ: ওপরের আদর্শ চিত্রের মতো দুই দলে V-আকৃতির অপত্য ক্রোমোসোম, সেন্ট্রোমিয়ার মেরুর দিকে। পেনসিলে আঁকো, লেবেল ডানে, নিচে শিরোনাম ও “×400”।