পাঠ ৬ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.২ (বহির্গঠন, ব্যবহারিক)

ঘাসফড়িং-এর বহির্গঠন ও মুখোপাঙ্গ (ব্যবহারিক)Grasshopper external anatomy & mouthparts

মাত্র 5 cm লম্বা একটি পঙ্গপাল এক লাফে প্রায় 1 মিটার যায় — নিজের দেহের 20 গুণ! মানুষ পারলে এক লাফে 35 মিটার। নিচে লাফের কোণ বদলে নিজে লাফ দাও, তারপর খুঁজে বের করো কোন পা এই কাজটি করে:

0×5×10×15×20×স্কেলের দাগ = দেহদৈর্ঘ্য (body lengths)20°
দূরত্ব (range)—
কত দেহদৈর্ঘ্য (× body)—
সর্বোচ্চ উচ্চতা (peak)—
লক্ষ্য: অন্তত 20 দেহদৈর্ঘ্য দূরে নামাও। কোণ বদলে লাফ দাও — কোন কোণে সবচেয়ে দূরে যায়?
মরু পঙ্গপাল (Schistocerca gregaria): লাফের শুরুর বেগ ≈ 3.2 m/s (Bennet-Clark 1975), দেহ ≈ 5 cm; বাতাসের বাধা ধরা হয়নি, তাই আসল লাফ একটু কম। ছবিতে পোকা বড় করে আঁকা।

উত্তরটা লুকিয়ে আছে ঘাসফড়িং-এর দেহের নকশায়: প্রতিটি অংশ একটি নির্দিষ্ট কাজের যন্ত্র। এই পাঠে বাইরে থেকে পুরো যন্ত্রটি খুলে দেখব:

  1. ঘাসফড়িং কেন পতঙ্গ (Insecta) — শ্রেণিবিন্যাস ও আকন্দ ফড়িং (Poekilocerus pictus)
  2. দেহত্বক: কিউটিকল (cuticle), স্ক্লেরাইট (sclerite) ও সন্ধি
  3. মাথা — হাইপোগন্যাথাস (hypognathous) মুখ, চোখ ও অ্যান্টেনা
  4. মুখোপাঙ্গ (mouthparts) — কামড়ানো-চিবানো (biting–chewing) ধরন
  5. বক্ষ (thorax) — প্রোনোটাম, তিন জোড়া পা, দুই জোড়া ডানা
  6. উদর (abdomen) — 11 খণ্ড, টিমপেনাম, শ্বাসরন্ধ্র, জননাঙ্গ
  7. পুরুষ বনাম স্ত্রী ঘাসফড়িং
  8. এবার নিজে করে দেখো — মুখোপাঙ্গের ব্যবহারিক ও লিঙ্গ নির্ণয়

ধাপ ১: ঘাসফড়িং কেন পতঙ্গ?

ঘাসফড়িং সন্ধিপদী (Arthropoda) পর্বের পতঙ্গ (Insecta) শ্রেণির প্রাণী। পতঙ্গ চেনার সাতটি বৈশিষ্ট্য — সবগুলো ঘাসফড়িং-এ আছে:

  1. দেহ তিন ভাগে বিভক্ত — মাথা (head), বক্ষ (thorax), উদর (abdomen); এই ভাগগুলোকে বলে ট্যাগমা (tagmata)।
  2. বক্ষে তিন জোড়া সন্ধিযুক্ত পা — তাই আরেক নাম হেক্সাপোডা (Hexapoda)।
  3. মাথায় এক জোড়া অ্যান্টেনা (antennae)।
  4. সাধারণত দুই জোড়া ডানা, মধ্য ও পশ্চাদ্‌বক্ষে।
  5. ট্রাকিয়া (tracheae) দিয়ে শ্বসন; বাতাস ঢোকে শ্বাসরন্ধ্র (spiracle) দিয়ে।
  6. রেচন ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules) দিয়ে।
  7. মুক্ত সংবহন (open circulation) — রক্ত (হিমোলিম্ফ) দেহগহ্বরে (haemocoel) ভেসে বেড়ায়।
শ্রেণিবিন্যাসনাম
পর্ব (Phylum)Arthropoda
শ্রেণি (Class)Insecta
বর্গ (Order)Orthoptera — “সোজা ডানা”
উপবর্গ (Suborder)Caelifera — খাটো অ্যান্টেনার ঘাসফড়িং ও পঙ্গপাল
গোত্র (Family)Pyrgomorphidae
প্রজাতি (Species)Poekilocerus pictus

বইয়ের নমুনা প্রাণী আকন্দ ফড়িং (Poekilocerus pictus, painted grasshopper): আকন্দ (Calotropis) গাছের বিষাক্ত পাতা খায়, সেই বিষ দেহে জমিয়ে রাখে। তার উজ্জ্বল হলুদ-নীল ডোরা শিকারিকে সাবধান করে — একে বলে সতর্কতামূলক রং (aposematic colouration)। বিরক্ত করলে এরা দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত ফেনা ছিটায়, তাই খালি হাতে ধরবে না। (এ গোত্রের ঘাসফড়িং ভালো লাফায় না; লাফের হিসাব উপরে মরু পঙ্গপালের।)

পৃথিবীতে Caelifera উপবর্গে (ঘাসফড়িং ও পঙ্গপাল) প্রায় 12,000 বৈধ প্রজাতি আর পুরো Orthoptera বর্গে (ঝিঁঝিঁপোকাসহ) প্রায় 29,000 (Orthoptera Species File; প্রতি বছর সংখ্যাটি বাড়ে)। নিচের ছবিতে “তিন ভাগে রং” চেপে ট্যাগমা দেখো, তারপর যে কোনো অংশে ট্যাপ করো:

মাথা (head)বক্ষ (thorax)উদর (abdomen)
যে কোনো অংশে ট্যাপ করো — নাম (ইংরেজি) আর কাজ এখানে দেখাবে।
নিজে যাচাই করো

নিচের কোনটি দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে একটি প্রাণী পতঙ্গ, মাকড়সা নয়?

ধাপ ২: দেহত্বক — কিউটিকল ও স্ক্লেরাইট

ঘাসফড়িং-এর কঙ্কাল বাইরে: কিউটিকল (cuticle), যা কাইটিন (chitin) ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। একে নিঃসরণ করে ঠিক নিচের এক স্তর কোষ — এপিডার্মিস (epidermis)। সবচেয়ে বাইরের পাতলা এপিকিউটিকলে (epicuticle) মোম থাকে, তাই দেহ থেকে পানি সহজে বেরোয় না — শুকনো মাঠে বাঁচার কৌশল।

কিউটিকল সবখানে সমান শক্ত নয়। শক্ত টুকরোগুলোকে বলে স্ক্লেরাইট (sclerite); একটি খণ্ডে:

শক্ত খোলস বড় হয় না; তাই ঘাসফড়িং মাঝে মাঝে পুরোনো কিউটিকল খুলে ফেলে — খোলস মোচন (moulting / ecdysis)।

টার্গাম (tergum)উপরের শক্ত পাতস্টার্নাম (sternum)প্লুরন (pleuron)পাশের নরম অংশশ্বাসরন্ধ্রকিউটিকল (cuticle)এপিকিউটিকল — মোম (epicuticle)এক্সোকিউটিকল (exocuticle)এন্ডোকিউটিকল (endocuticle)এপিডার্মিস (epidermis)কিউটিকল তৈরি করে
বাঁয়ে: উদরের একটি খণ্ডের প্রস্থচ্ছেদ। ডানে: দেহত্বকের স্তর — কাইটিন ও প্রোটিনের কিউটিকল নিঃসরণ করে নিচের এপিডার্মিস।
নিজে যাচাই করো

শক্ত কিউটিকল থাকার পরও ঘাসফড়িং-এর উদর বাঁকতে ও ফুলতে পারে কেন?

ধাপ ৩: মাথা — মুখ নিচের দিকে

মাথা ছয়টি ভ্রূণীয় খণ্ড জুড়ে তৈরি একটি শক্ত খোলক (head capsule)। পাশ থেকে দেখলে মাথা খাড়া, আর মুখোপাঙ্গ নিচের দিকে মুখ করা — একে বলে হাইপোগন্যাথাস (hypognathous) মাথা। মাটির ঘাস বা ডালের পাতা ঠিক নিচে রেখে কামড়াতে এটাই সুবিধাজনক। (তুলনা: গুবরেপোকার মতো শিকারি পতঙ্গে মুখ সামনের দিকে — প্রোগন্যাথাস, prognathous।)

মাথার অংশগুলোতে ট্যাপ করো: চোখ, সরল চোখ, অ্যান্টেনা, ফ্রন্স, ক্লাইপিয়াস, জিনা, পাল্প।
নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং-এর মাথাকে হাইপোগন্যাথাস বলা হয় কেন?

ধাপ ৪: মুখোপাঙ্গ — কামড়ানো ও চিবানোর যন্ত্র

ঘাসফড়িং পাতা কেটে চিবিয়ে খায়, তাই এর মুখোপাঙ্গ কামড়ানো-চিবানো (biting and chewing) ধরনের। সামনে থেকে পেছনে পাঁচ ধরনের অংশ:

মুখোপাঙ্গসংখ্যাগঠনকাজ
ল্যাব্রাম (labrum) — উপরের ঠোঁট1ক্লাইপিয়াস থেকে ঝোলানো চ্যাপ্টা পাত, নিচে মাঝের খাঁজখাবার সামনে ধরে রাখে, স্বাদ নেয়
ম্যান্ডিবল (mandible)1 জোড়াশক্ত, অখণ্ডিত চোয়াল: ছেদন দাঁত (incisor) ও পেষণ তল (molar)কাটা ও পেষা
ম্যাক্সিলা (maxilla)1 জোড়াকার্ডো (cardo), স্টাইপস (stipes), ল্যাসিনিয়া (lacinia), গ্যালিয়া (galea), প্যাল্পিফার (palpifer), 5 খণ্ডের পাল্পখাবার ধরে ম্যান্ডিবলের দিকে ঠেলে, স্বাদ নেয়
হাইপোফ্যারিংস (hypopharynx)1মুখগহ্বরের মেঝে থেকে ওঠা জিভের মতো লতি; গোড়ায় লালা নালির মুখজিভের কাজ, লালা মেশানো
ল্যাবিয়াম (labium) — নিচের ঠোঁট1দুই দ্বিতীয় ম্যাক্সিলা জুড়ে: সাবমেন্টাম (submentum), মেন্টাম (mentum), প্রিমেন্টাম (prementum), গ্লোসা (glossa), প্যারাগ্লোসা (paraglossa), 3 খণ্ডের পাল্পমুখের পেছন বন্ধ রাখে, স্বাদ নেয়

মনে রাখো: ম্যাক্সিলার গোড়া শুধু কার্ডো ও স্টাইপস; ল্যাসিনিয়া আর গ্যালিয়া স্টাইপসের আগায়। আর ল্যাবিয়াম আসলে দুটি ম্যাক্সিলার মতো উপাঙ্গ মাঝখানে জোড়া লেগে তৈরি — তাই এর অংশগুলোও ম্যাক্সিলার সাথে মেলে (সাবমেন্টাম + মেন্টাম ≈ কার্ডো, প্রিমেন্টাম ≈ স্টাইপস, গ্লোসা ≈ ল্যাসিনিয়া, প্যারাগ্লোসা ≈ গ্যালিয়া)।

নিচের মাথাটি সামনে থেকে দেখছ। একে একে মুখোপাঙ্গ টেনে বের করো — ভুল ক্রমে টানলে আটকে যাবে। প্রতিটি অংশের বড় ছবি লেবেলসহ খুলবে:

ফ্রন্স (frons)ক্লাইপিয়াস (clypeus)
2. ম্যান্ডিবল
3. ম্যাক্সিলা
4. হাইপোফ্যারিংস
5. ল্যাবিয়াম
টেনে বের করা অংশের বড় ছবি আর নামসহ লেবেল এখানে দেখাবে।
মাথাটি সামনে থেকে দেখছ। সবচেয়ে সামনের মুখোপাঙ্গে ট্যাপ করে টেনে বের করো।
নিজে যাচাই করো

ম্যাক্সিলারি পাল্প ও ল্যাবিয়াল পাল্পে খণ্ড সংখ্যা যথাক্রমে —

ধাপ ৫: বক্ষ — পা আর ডানার ঘাঁটি

বক্ষ তিন খণ্ডের: অগ্রবক্ষ (prothorax), মধ্যবক্ষ (mesothorax), পশ্চাদ্‌বক্ষ (metathorax)। প্রতিটি খণ্ডে এক জোড়া পা।

প্রতিটি পায়ের খণ্ড (গোড়া থেকে): কক্সা (coxa) → ট্রোক্যান্টার (trochanter) → ফিমার (femur) → টিবিয়া (tibia) → টার্সাস (tarsus)। টার্সাসে 3টি টার্সোমিয়ার (tarsomeres), তলায় নরম প্যাড; এর আগায় প্রিটার্সাস (pretarsus) — 2টি নখর (claws) আর মাঝে আঠালো প্যাড অ্যারোলিয়াম (arolium)। পেছনের পায়ের ফিমার মোটা, পেশিতে ভরা, টিবিয়া লম্বা ও কাঁটাওয়ালা — লাফানো পা (saltatorial leg)। লাফের আগে ফিমারের পেশি ধীরে টান জমায়, হাঁটুর শক্ত বাঁকা পাত স্প্রিংয়ের মতো শক্তি ধরে রাখে, তারপর এক ঝটকায় ছেড়ে দেয়।

পেছনের পায়ের প্রতিটি খণ্ডে আলাদা করে ট্যাপ করো; “ডানা তোলো” চেপে পেছনের ডানা দেখো।
নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং-এর সামনের ডানা ও পেছনের ডানা কোন কোন খণ্ডে?

ধাপ ৬: উদর — 11 খণ্ড, কান আর শ্বাসের ছিদ্র

উদরে 11টি খণ্ড; কোনো পা নেই। প্রতিটি খণ্ডে টার্গাম, স্টার্নাম আর নরম প্লুরন।

“ডানা তোলো” চেপে টিমপেনাম ও শ্বাসরন্ধ্র খোঁজো; ♀/♂ বদলে উদরের আগা তুলনা করো।
নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং-এর মোট কত জোড়া শ্বাসরন্ধ্র?

ধাপ ৭: পুরুষ না স্ত্রী?

বৈশিষ্ট্যপুরুষ (male)স্ত্রী (female)
আকারসাধারণত ছোটসাধারণত বড়, উদর মোটা
উদরের আগাভোঁতা, উপরের দিকে বাঁকাসূঁচালো
শেষ খণ্ডের গঠননৌকার মতো সাবজেনিটাল প্লেট (9ম স্টার্নাম), ভেতরে জননাঙ্গদুই জোড়া শক্ত, বাঁকা কপাটিকার ওভিপজিটর; 8ম স্টার্নাম সাবজেনিটাল প্লেট
সারকাসআছেআছে
কাজশুক্রাণু স্থানান্তরওভিপজিটর দিয়ে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে ডিম পাড়া
নিজে যাচাই করো

একটি ঘাসফড়িং-এর উদরের আগায় এক জোড়া সারকাস দেখা যাচ্ছে। এ থেকে কী বলা যায়?

এবার নিজে করে দেখো

এটি তোমার ব্যবহারিক খাতার কাজ। ১ চিমটা ট্যাবে মাথাটি সামনে থেকে ধরা আছে — চিমটা দিয়ে সবচেয়ে সামনের মুখোপাঙ্গ থেকে শুরু করে সাতটি টুকরো তোলো; প্রতিটি গ্লিসারিন-মাখা স্লাইডে চলে যাবে। ২ অণুবীক্ষণ ট্যাবে একটি নাম-কার্ড বেছে নিয়ে ম্যাক্সিলার সেই অংশে ট্যাপ করো। ৩ লিঙ্গ নির্ণয় ট্যাবে চারটি নমুনার উদরের আগা দেখে পুরুষ না স্ত্রী বলো। ৪ দেহ পরীক্ষা ট্যাবে জুম করে শ্বাসরন্ধ্র গোনো, “কান” আর নখর-বহনকারী খণ্ড খোঁজো। যা পাবে তা খাতায় (notebook) জমা হবে; CSV নামিয়ে রাখতে পারো।

ঘাসফড়িং-এর ব্যবহারিক

Grasshopper practical — mouthparts, sexing, external features
↗
ফ্রন্স (frons)ক্লাইপিয়াস (clypeus)
মাথা সামনে থেকে, বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝে চেপে ধরা
স্লাইড (slide) + গ্লিসারিন (glycerine)
ল্যাব্রাম 0/1
ম্যান্ডিবল 0/2
ম্যাক্সিলা 0/2
হাইপোফ্যারিংস 0/1
ল্যাবিয়াম 0/1
চিমটা (forceps) হাতে নাও: মাথার সবচেয়ে সামনের মুখোপাঙ্গে ট্যাপ করে টেনে তোলো। তোলা অংশ গ্লিসারিন-মাখা স্লাইডে চলে যাবে।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/6
  1. ভুল ক্রমে না টেনে 5 ধরনের মুখোপাঙ্গ (7 টুকরো) বের করো। (0/7)
  2. অণুবীক্ষণে ম্যাক্সিলার কার্ডো, স্টাইপস, গ্যালিয়া ও ল্যাসিনিয়া চিহ্নিত করো। (0/4)
  3. 4টি নমুনার লিঙ্গ নির্ণয় করো। (0/4)
  4. এক পাশের সব শ্বাসরন্ধ্র খুঁজে গোনো। (0/?)
  5. শ্রবণ অঙ্গটি খুঁজে বের করো।
  6. পেছনের পায়ের কোন খণ্ডের আগায় নখর বসানো? সেই খণ্ডে ট্যাপ করো।

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

অংশ তুললে বা খুঁজে পেলে এখানে নাম, সংখ্যা আর কাজ জমা হবে।

বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল ও অস্পষ্টতা আছে:

  • “পৃথিবীতে প্রায় বিশ হাজার প্রজাতির ঘাসফড়িং” (পৃ. 86): Orthoptera Species File অনুযায়ী ঘাসফড়িং ও পঙ্গপাল (Caelifera) প্রায় 12,000 প্রজাতি; ঝিঁঝিঁপোকাসহ পুরো Orthoptera বর্গ প্রায় 29,000। বোর্ড/ভর্তি পরীক্ষায় বইয়ের সংখ্যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে (DAT 18-19) — উত্তরে “প্রায় 20,000” লিখলে বইয়ের সাথে মিলবে, কিন্তু আসল সংখ্যা জেনে রাখো।
  • মুখোপাঙ্গের ছবির শিরোনাম (পৃ. 98): উপরে লেখা “ঘাসফড়িং-এর মুখোপাঙ্গের চিত্র”, অথচ ছবির নিচে লেখা “আরশোলার মুখোপাঙ্গ”। দুটির নকশা একই রকম (দুটিই কামড়ানো-চিবানো), তবে ছবিটি কোন প্রাণীর তা বইয়ে পরিষ্কার নয়।
  • “ম্যাক্সিলার গোড়ার অংশ কার্ডো, স্টাইপস ও ল্যাসিনিয়া” (পৃ. 98): গোড়ায় শুধু কার্ডো ও স্টাইপস; ল্যাসিনিয়া ও গ্যালিয়া স্টাইপসের আগায় (Snodgrass 1935; Chapman 2013)।
  • “হাইপোফ্যারিংস লম্বা নলের মতো” (পৃ. 98): হাইপোফ্যারিংস নল নয়, মুখগহ্বরের মেঝে থেকে ওঠা জিভের মতো নিরেট লতি; লালা নালি এর গোড়ায় খোলে।
  • গোত্র: Poekilocerus pictus Pyrgomorphidae গোত্রের; পুরোনো কিছু বইয়ে Acrididae লেখা থাকে; আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে তা ঠিক নয়। (বইয়ের পৃ. 86-র টীকা ঠিকই বলেছে।)
  • মাথা “6টি ভ্রূণীয় খণ্ডে গঠিত” (পৃ. 88) — বেশিরভাগ বই 6 বলে, কেউ কেউ 7; পরীক্ষায় 6 লেখো।

ঘরে বসে পরীক্ষা

মাঠে ঘাসফড়িং পর্যবেক্ষণ। সকালে বা বিকেলে বাগান, মাঠ বা আকন্দ ঝোপের পাশে 15 মিনিট বসে থাকো। খাতায় লেখো: (১) একটি লাফ কত দূর গেল — মাটিতে দুটি কাঠি গেঁথে আন্দাজ করো, দেহের দৈর্ঘ্যের কত গুণ? (২) লাফের ঠিক আগে পেছনের পা কেমন ভাঁজ হয়? (৩) অ্যান্টেনা কী করে — নড়ে, না স্থির? (৪) উড়লে পেছনের ডানার রং কী, বসলে কোথায় লুকায়? (৫) খাওয়ার সময় মুখ পাতার উপরে না নিচে? মোবাইলে ভিডিও করে স্লো-মোশনে দেখলে লাফ আরও স্পষ্ট বোঝা যাবে।

নিরাপত্তা: শুধু দেখো — ধরতে হলে স্বচ্ছ বয়ামে কয়েক মিনিট রেখে আবার যেখানে পেয়েছিলে সেখানে ছেড়ে দাও। আকন্দ ফড়িং (Poekilocerus) খালি হাতে ধরবে না — বিষাক্ত ফেনা ছিটাতে পারে, চোখে লাগলে জ্বালা করে। আকন্দ গাছের সাদা কষও চোখের জন্য বিপজ্জনক। কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নাও।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (জ্ঞান/অনুধাবন) ঘাসফড়িং-এর ম্যাক্সিলা ও ল্যাবিয়ামের অংশগুলোর নাম লেখো। ল্যাবিয়ামকে “দ্বিতীয় ম্যাক্সিলা” বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

ম্যাক্সিলা: কার্ডো (গোড়া), স্টাইপস (মূল খণ্ড), স্টাইপসের আগায় ভেতরে দাঁতওয়ালা ল্যাসিনিয়া ও বাইরে ঢাকনার মতো গ্যালিয়া, পাশে প্যাল্পিফার এবং তাতে 5 খণ্ডের ম্যাক্সিলারি পাল্প। ল্যাবিয়াম: সাবমেন্টাম, মেন্টাম, প্রিমেন্টাম; প্রিমেন্টামের আগায় এক জোড়া ছোট গ্লোসা ও এক জোড়া বড় প্যারাগ্লোসা; পাশে প্যাল্পিজার ও 3 খণ্ডের ল্যাবিয়াল পাল্প। ভ্রূণে ল্যাবিয়াম তৈরি হয় এক জোড়া ম্যাক্সিলার মতো উপাঙ্গ মাঝখানে জোড়া লেগে, তাই এর অংশগুলো ম্যাক্সিলার সাথে মেলে (প্রিমেন্টাম ≈ স্টাইপস, গ্লোসা ≈ ল্যাসিনিয়া, প্যারাগ্লোসা ≈ গ্যালিয়া)। এ কারণে একে দ্বিতীয় ম্যাক্সিলা বলে।

২. (বহুনির্বাচনি) ঘাসফড়িং-এর শ্বাসরন্ধ্র কয় জোড়া? (ক) 8 (খ) 9 (গ) 10 (ঘ) 11

উত্তর দেখো

(গ) 10 জোড়া — বক্ষে 2 জোড়া (মধ্য ও পশ্চাদ্‌বক্ষ), উদরে 8 জোড়া (খণ্ড 1–8)। (ঘ) উদরের খণ্ড সংখ্যার সাথে গুলিয়ে ফেলো না। পুরোনো উত্তরপত্রে ভিন্ন উত্তর দেখলে নিজে গুনে যাচাই করো।

৩. (তুলনা) পুরুষ ও স্ত্রী ঘাসফড়িং-এর চারটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
পুরুষস্ত্রী
আকারে ছোটআকারে বড়
উদরের আগা ভোঁতা, উপরে বাঁকাউদরের আগা সূঁচালো
নৌকার মতো সাবজেনিটাল প্লেট (9ম স্টার্নাম)দুই জোড়া কপাটিকার ওভিপজিটর
ওভিপজিটর নেইওভিপজিটর দিয়ে মাটিতে ডিম পাড়ে

সারকাস দুইয়েরই থাকে, তাই এটি পার্থক্য নয়।

৪. (প্রয়োগ) “ঘাসফড়িং পেট দিয়ে শোনে” — ব্যাখ্যা করো। টিমপেনামের দুটি কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

ঘাসফড়িং-এর শ্রবণ অঙ্গ টিমপেনাম উদরের 1ম খণ্ডের দুই পাশে — তাই কথাটি। পাতলা পর্দাটি শব্দতরঙ্গে কাঁপে আর ভেতরের সংবেদী কোষ সেই কম্পন স্নায়ু-সংকেতে বদলায়। কাজ: (১) একই প্রজাতির সঙ্গীর ডাক (ফিমার-টেগমেন ঘষার শব্দ) শুনে সঙ্গী খোঁজা; (২) শিকারির (যেমন পাখি) শব্দ শুনে পালানো।

৫. (অনুধাবন) ঘাসফড়িং-এর মাথা হাইপোগন্যাথাস কেন? এর পেছনের পা কীভাবে লাফের উপযোগী?

উত্তর দেখো

মাথার লম্বা অক্ষ খাড়া আর মুখোপাঙ্গ নিচের দিকে মুখ করা, তাই হাইপোগন্যাথাস — মাটির ঘাস ও নিচের পাতা কামড়ে খাওয়ার উপযোগী। পেছনের পায়ের ফিমার মোটা ও বড় এক্সটেনসর পেশিতে ভরা, টিবিয়া লম্বা ও কাঁটাযুক্ত (মাটি আঁকড়ে ধরে)। লাফের আগে পেশি ধীরে টান জমায়, হাঁটুর শক্ত পাত স্প্রিংয়ের মতো শক্তি ধরে রাখে, তারপর এক ঝটকায় টিবিয়া সোজা হয়। মরু পঙ্গপাল এভাবে প্রায় 3.2 m/s বেগে লাফ শুরু করে; 45° কোণে আদর্শ দূরত্ব R=v2sin⁡2θg=3.22×19.81≈1.04 mR = \dfrac{v^2 \sin 2\theta}{g} = \dfrac{3.2^2 \times 1}{9.81} \approx 1.04\ \text{m} — দেহের প্রায় 21 গুণ।