পাঠ ৭ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.২ (পরিপাক, ব্যবহারিক)

ঘাসফড়িং-এর পরিপাকতন্ত্র ও ব্যবচ্ছেদGrasshopper digestive system & dissection

ঘাসফড়িং সারাদিন শক্ত, আঁশালো ঘাস খায় — অথচ তার চোয়ালে কোনো পেষণ দাঁত নেই, পেটে নেই গরুর মতো চার প্রকোষ্ঠ। একটা পাতার টুকরো ঢোকার পর বেরোতে কতক্ষণ লাগে? আগে অনুমান করো, তারপর খাওয়াও:

মস্তক (head)বক্ষ (thorax)উদর (abdomen)
খাওয়ার পর (after feeding)—
খাবার এখন (food is in)—
অনুমান করো: পাতার টুকরোটা মলদানা হয়ে বেরোতে কতক্ষণ লাগবে — 10 মিনিট, 2 ঘণ্টা, না 2 দিন? তারপর খাওয়াও।
আসল ঘাসফড়িং-এ সময় প্রায় 1–3 ঘণ্টা (আনুমানিক; প্রজাতি, তাপমাত্রা ও খাবারভেদে বদলায়)। কোন অংশে কত সময় — শেখানোর জন্য সরল (illustrative)।

মাত্র দুই-তিন ঘণ্টায় পাতা ঢুকে শুকনো দানা হয়ে বেরিয়ে যায়। এই পথটাই পরিপাকতন্ত্র (digestive system) — একটি লম্বা নল, যার একেক অংশ একেক কাজে বিশেষায়িত।

এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. পরিপাকনালির তিন অঞ্চল — আর কোনটি কোন ভ্রূণস্তর থেকে
  2. অগ্রান্ত্র: মুখ থেকে গিজার্ড
  3. মধ্যান্ত্র: সিকা, পেরিট্রফিক পর্দা আর এনজাইম
  4. পশ্চাদন্ত্র: রেক্টাল প্যাড আর শুকনো মল
  5. লালাগ্রন্থি আর সেলুলোজের প্রশ্ন
  6. এবার নিজে করে দেখো — ভার্চুয়াল ব্যবচ্ছেদ

আগে জেনে নাও: ঘাসফড়িং-এর দেহের তিন ভাগ (মস্তক, বক্ষ, উদর), টার্গাম (tergum) আর মুখোপাঙ্গ — ম্যান্ডিবল, ম্যাক্সিলা, হাইপোফ্যারিংক্স (পাঠ ৬)।

ধাপ ১: তিন অঞ্চল, দুই ভ্রূণস্তর

ঘাসফড়িং-এর পৌষ্টিকনালি (alimentary canal) মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত একটি নল। ভ্রূণে এটি তিনটি আলাদা জায়গা থেকে তৈরি হয়ে পরে জোড়া লাগে:

অঞ্চলভ্রূণীয় নামউৎপত্তিকিউটিকল আস্তরণঅংশ
অগ্রান্ত্র (foregut)স্টোমোডিয়াম (stomodaeum)এক্টোডার্ম (ectoderm)আছেমুখছিদ্র, গলবিল, অন্ননালি, ক্রপ, গিজার্ড
মধ্যান্ত্র (midgut)মেসেন্টেরন (mesenteron)এন্ডোডার্ম (endoderm)নেইগ্যাস্ট্রিক সিকা, মধ্যান্ত্র
পশ্চাদন্ত্র (hindgut)প্রোক্টোডিয়াম (proctodaeum)এক্টোডার্ম (ectoderm)আছেইলিয়াম, কোলন, মলাশয়, পায়ু

অগ্র- ও পশ্চাদন্ত্র আসলে দেহের বাইরের স্তর (এক্টোডার্ম) ভেতরে ঢুকে তৈরি — তাই বাইরের খোলসের মতো এদের ভেতরেও কিউটিকলের আস্তরণ (cuticle lining / intima) থাকে। রং চালু করে প্রতিটি অংশে ট্যাপ করো:

মস্তক (head)বক্ষ (thorax)উদর (abdomen)
আগে রং চালু করো, তারপর যেকোনো অংশে ট্যাপ করো।

এর একটা মজার ফল: প্রতিবার খোলস বদলের (moulting) সময় ঘাসফড়িং শুধু গায়ের খোলস নয়, অগ্রান্ত্র ও পশ্চাদন্ত্রের ভেতরের কিউটিকল-আস্তরণও খসিয়ে ফেলে। মধ্যান্ত্রে কিউটিকল নেই — তাই এনজাইম ক্ষরণ আর খাদ্য শোষণ মূলত সেখানেই হয়।

নিজে যাচাই করো

খোলস বদলের সময় ঘাসফড়িং-এর কোন অংশের ভেতরের আস্তরণ খসে পড়ে না?

ধাপ ২: অংশগুলো চেনো — অগ্রান্ত্র

নিচের ছবিটি পুরো পরিপাকতন্ত্রের পাশ থেকে দেখা রূপ। যেকোনো অংশে বা লেবেলে ট্যাপ করো — নাম, অবস্থান আর কাজ দেখাবে:

মস্তক (head)বক্ষ (thorax)উদর (abdomen)অন্ননালি(oesophagus)ক্রপ(crop)গ্যাস্ট্রিক সিকা(gastric caeca)মধ্যান্ত্র(midgut)ম্যালপিজিয়ান নালিকা(Malpighian)মলাশয়(rectum)মুখছিদ্র(mouth)গলবিল(pharynx)লালাগ্রন্থি(salivary gland)গিজার্ড(gizzard)ইলিয়াম(ileum)কোলন(colon)পায়ু(anus)
যেকোনো অংশে (বা লেবেলে) ট্যাপ করো।
পাশ থেকে 6টি সিকার 3টি দেখা যায়; বাকি 3টি ওপাশে। ড্যাশ রেখা = পেরিট্রফিক পর্দা (peritrophic membrane)।

অগ্রান্ত্রের কাজ খাবার নেওয়া, জমা রাখা আর ভাঙা:

নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং-এর গিজার্ডের প্রধান কাজ কোনটি?

ধাপ ৩: মধ্যান্ত্র — যেখানে আসল পরিপাক

খাদ্যদলাটি নিজে টেনে মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত নিয়ে যাও। প্রতিটি অংশে কী ঘটে, নিচের প্যানেলে দেখো:

মস্তক (head)বক্ষ (thorax)উদর (abdomen)
অঞ্চল (region)অগ্রান্ত্র (foregut, stomodaeum)
অংশ (part)মুখছিদ্র (mouth)
কাজ: ম্যান্ডিবলে কাটা-চিবানো পাতার টুকরো ভেতরে নেয়।
কী কাজ করে খাবারে (chemistry): লালারস মেশে — খাবার ভেজে, কিছু অ্যামাইলেজ (amylase)।
দৈর্ঘ্যের অনুপাত শেখানোর জন্য সরল (illustrative)।
নিজে যাচাই করো

পেরিট্রফিক পর্দার (peritrophic membrane) কাজ কী?

ধাপ ৪: পশ্চাদন্ত্র — পানি বাঁচানোর কারখানা

মধ্যান্ত্র আর পশ্চাদন্ত্রের সংযোগে (pylorus) খোলে অনেকগুলো সরু, হলুদ ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules) — ঘাসফড়িং-গোত্রে প্রায় 100–250টি। এরা পরিপাক করে না; এরা রেচন অঙ্গ (excretory organ) — হিমোলিম্ফ থেকে ইউরিক অ্যাসিড ছেঁকে অন্ত্রে ঢালে (পাঠ ৯-এ বিস্তারিত)।

তারপর পশ্চাদন্ত্র:

নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং-এর মল শুকনো দানার মতো হয় কেন?

ধাপ ৫: লালাগ্রন্থি আর সেলুলোজের প্রশ্ন

বক্ষে, ক্রপের নিচে-পাশে এক জোড়া আঙুরথোকার মতো লালাগ্রন্থি (salivary glands)। এদের নালি একসঙ্গে মিলে হাইপোফ্যারিংক্সের (hypopharynx) গোড়ায় খোলে। লালারস খাবার ভেজায়, পিচ্ছিল করে আর অ্যামাইলেজ দিয়ে শর্করা পরিপাক শুরু করে।

তাহলে ঘাসের সেলুলোজ (cellulose)? ঘাসফড়িং এটি খুব সামান্যই পরিপাক করতে পারে — যেটুকু হয় তা মূলত অন্ত্রের অণুজীবের সাহায্যে। বেশিরভাগ সেলুলোজ মলদানার সঙ্গে বেরিয়ে যায়। ঘাসফড়িং পুষ্টি পায় মূলত পাতার কোষের ভেতরের শর্করা আর প্রোটিন থেকে; তাই সে এত বেশি খায়, আর খাবার এত দ্রুত পার করে।

নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং যে ঘাস খায় তার সেলুলোজের কী হয়?

এবার নিজে করে দেখো

নিচে একটি মৃত, সংরক্ষিত ঘাসফড়িং মোমের ট্রেতে রাখা — পরিষ্কার রেখাচিত্রে। ধাপে ধাপে ডানা সরাও → পিন করো → কোথায় ও কতটা গভীরে কাটবে ঠিক করো → টার্গাইট তোলো → পানি ঢালো। তারপর অংশগুলো চেনো, সিকা গোনো, মলাশয়ের প্রস্থচ্ছেদে রেক্টাল প্যাড খোঁজো আর প্রতিটি অঞ্চলের কাজ মেলাও। ভুল জায়গায় কাটলে দেখবে কী নষ্ট হলো — নতুন নমুনা নিয়ে আবার চেষ্টা করো।

ঘাসফড়িং-এর অন্ত্র ব্যবচ্ছেদ ল্যাব

Grasshopper gut lab — a virtual dissection (dorsal view)
↗
মোমের ট্রে (wax tray) · মাথা বাঁয়ে · ওপর থেকে (dorsal view)
ধাপ 1: মৃত, সংরক্ষিত নমুনাটি পৃষ্ঠদেশ ওপরে রেখে ট্রেতে রাখা আছে (পা আগেই সরানো)। প্রথমে ডানা কেটে সরাও।
সরল রেখাচিত্র (schematic line art); অঙ্গের আকার ও অবস্থান শেখানোর জন্য সরল। বাস্তবে ম্যালপিজিয়ান নালিকা প্রায় 100–250টি — এখানে কয়েকটি আঁকা।

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

পানি ঢালার পর যে অংশে ট্যাপ করবে, তার নাম, অবস্থান আর কাজ এখানে জমা হবে।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/5
  1. অন্ত্র না কেটে উন্মুক্ত করো: ডানা সরাও, পিন করো, কাটো, টার্গাইট তোলো, পানি ঢালো।
  2. ক্রপ, গিজার্ড, গ্যাস্ট্রিক সিকা, ম্যালপিজিয়ান নালিকা ও মলাশয় খুঁজে বের করো। (0 / 5)
  3. মলাশয়ের প্রস্থচ্ছেদে (TS) সব রেক্টাল প্যাড খুঁজে ট্যাপ করো। (0)
  4. প্রতিটি অঞ্চলের সঙ্গে তার কাজ মেলাও। (0 / 5)
  5. গ্যাস্ট্রিক সিকা গোনো আর সংখ্যাটি বেছে নাও।

বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:

  • “৬ জোড়া হেপাটিক সিকা” (পৃ. 37; MCQ 1-এর উত্তর “৬ জোড়া”): ঘাসফড়িং-গোত্রে (Acrididae) আসলে 6টি গ্যাস্ট্রিক সিকা, প্রতিটির সামনে-পেছনে দুটি বাহু (Chapman, The Insects, 2013)। বাহু গুনলে 12 হয় — সম্ভবত সেখান থেকেই “6 জোড়া” এসেছে। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: 6 জোড়া আর “হেপাটিক” নামটিও বিভ্রান্তিকর — এরা যকৃৎ নয়, মধ্যান্ত্রের থলি।
  • “পায়ুছিদ্র … দশম দেহখণ্ডকের অঙ্কীয়দেশে” (পৃ. 37): পায়ু উদরের একদম শেষ প্রান্তে, 11তম খণ্ডকের সুপ্রা-অ্যানাল প্লেটের নিচে, দুই প্যারাপ্রক্টের (paraprocts) মাঝে (Snodgrass 1935)।

ঘরে বসে পর্যবেক্ষণ

কোনো পোকা মারার দরকার নেই। মাঠ বা টবের গাছে ঘাসফড়িং খাচ্ছে এমন পাতার আশপাশে ছোট, লম্বাটে, গাঢ় সবুজ-বাদামি মলদানা (frass) খোঁজো। একটি দানা কাগজে রেখে আঙুলে হালকা চাপ দাও:

  1. দানাটি কি ভেজা না শুকনো? ভাঙলে ঝুরঝুর করে কি না?
  2. আতশকাচ থাকলে দেখো — পাতার আঁশ (অপাচ্য সেলুলোজ) চোখে পড়ে কি?
  3. খাতায় লেখো: শুকনো, শক্ত দানা মানে মলাশয়ের রেক্টাল প্যাড পানি ফিরিয়ে নিয়েছে; আঁশ মানে সেলুলোজ বেশি পরিপাক হয়নি।

পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিয়ো।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (জ্ঞান) ঘাসফড়িং-এর পৌষ্টিকনালির অঞ্চলগুলোর নাম ও উৎপত্তি লেখো।

উত্তর দেখো

তিন অঞ্চল: অগ্রান্ত্র (stomodaeum) — এক্টোডার্ম; মধ্যান্ত্র (mesenteron) — এন্ডোডার্ম; পশ্চাদন্ত্র (proctodaeum) — এক্টোডার্ম। অগ্র- ও পশ্চাদন্ত্র কিউটিকলে মোড়া, খোলস বদলের সময় এদের আস্তরণ খসে; মধ্যান্ত্রে কিউটিকল নেই।

২. (অনুধাবন) ঘাসফড়িং-এর গিজার্ডের গঠন ও কাজ লেখো।

উত্তর দেখো

গিজার্ড (প্রোভেন্ট্রিকুলাস) অগ্রান্ত্রের শেষ অংশ — ক্রপের পরে, মধ্যান্ত্রের সামনে ছোট পেশিবহুল অংশ; ভেতরে কিউটিকলের দাঁত ও ভাঁজ। কাজ: খাবার আরও ভাঙা ও ছাঁকা, আর ভালভের মতো ধীরে ধীরে মধ্যান্ত্রে পাঠানো। ঘাসফড়িং-এ মূল কাটা-চিবানো ম্যান্ডিবলেই হয়, তাই গিজার্ড তুলনামূলক ছোট।

৩. (বহুনির্বাচনি — বোর্ড) ঘাসফড়িং-এ হেপাটিক সিকার সংখ্যা — (ক) ৪ জোড়া (খ) ৬ জোড়া (গ) ৮টি (ঘ) ১২ জোড়া

উত্তর দেখো

বোর্ডের উত্তর: (খ) ৬ জোড়া। জেনে রাখো: আসলে সিকা 6টি, প্রতিটির দুটি বাহু (সামনে ও পেছনে) — মোট 12 বাহু। লিখিত উত্তরে “6টি গ্যাস্ট্রিক সিকা (বইয়ে 6 জোড়া)” লিখলে দুদিকই নিরাপদ।

৪. (অনুধাবন) রেক্টাল প্যাড (রেক্টাল প্যাপিলি) কী? এদের গুরুত্ব লেখো।

উত্তর দেখো

মলাশয়ের দেয়ালে 6টি পুরু, লম্বাটে কোষস্তম্ভ। এরা মল থেকে পানি ও লবণ (আয়ন) শোষণ করে হিমোলিম্ফে ফেরত দেয়, ফলে মল শুকনো দানা হয়ে বেরোয়। শুকনো পরিবেশে দেহের পানি বাঁচাতে এটি ঘাসফড়িং-এর প্রধান কৌশল।

৫. (প্রয়োগ — ব্যবহারিক) ব্যবচ্ছেদের সময় ঘাসফড়িং-এর পিঠের মধ্যরেখা বরাবর না কেটে দুই পাশ দিয়ে কাটতে বলা হয় কেন? কাঁচির ডগা উপরের দিকে রাখতে হয় কেন?

উত্তর দেখো

পিঠের মধ্যরেখার ঠিক নিচে পৃষ্ঠীয় নালি (dorsal vessel, হৃৎপিণ্ড) থাকে — মধ্যরেখায় কাটলে তা কেটে যায়। কাঁচির ডগা উপরে রেখে অগভীর কাটলে নিচের অন্ত্র ফুটো হয় না; অন্ত্র ফুটো হলে খাবার বেরিয়ে অংশগুলো চেনা কঠিন হয়। তারপর পানি ঢাললে নরম অঙ্গ ভেসে আলাদা হয়।

৬. (দক্ষতা) ঘাসফড়িং-এর পরিপাকতন্ত্রের একটি চিহ্নিত চিত্র আঁকো।

উত্তর দেখো

সামনে থেকে পেছনে এই ক্রমে আঁকো ও চিহ্নিত করো: মুখছিদ্র → গলবিল → অন্ননালি → চওড়া ক্রপ → ছোট গিজার্ড → (সংযোগে সামনে-পেছনে বাহুসহ গ্যাস্ট্রিক সিকা) → সোজা মধ্যান্ত্র → (সংযোগে অনেক সরু ম্যালপিজিয়ান নালিকা) → ইলিয়াম → কোলন → চওড়া মলাশয় (রেক্টাল প্যাড) → পায়ু। বক্ষে ক্রপের নিচে লালাগ্রন্থি ও তার নালি দেখাও। ওপরের ধাপ ২-এর ছবিতে লেবেল চালু রেখে মিলিয়ে নাও।