পাঠ ১২ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.৩ (রক্ত সংবহনতন্ত্র, ব্যবহারিক: ধমনিতন্ত্র)
রুই মাছের হৃৎপিণ্ড ও একচক্রী রক্ত সংবহনFish heart & single circulation
তোমার দেহের একটা লোহিত কণিকা পুরো দেহ একবার ঘুরে আসতে হৃৎপিণ্ড দুবার পার হয়। রুই মাছের কণিকা কতবার? আগে অনুমান করো, তারপর চালিয়ে দেখো:
উত্তরটা মাছের পুরো সংবহনতন্ত্রের চাবি। এই পাঠে ধাপে ধাপে:
- একচক্রী ও দ্বিচক্রী সংবহন (single and double circulation)
- রুইয়ের রক্ত — নিউক্লিয়াসযুক্ত লোহিত কণিকা (nucleated RBC)
- হৃৎপিণ্ড: চার প্রকোষ্ঠ, তিন কপাটিকা — “শিরা-হৃৎপিণ্ড” (venous heart)
- ধমনিতন্ত্র (arterial system): অঙ্কীয় মহাধমনী → ফুলকা → পৃষ্ঠীয় মহাধমনী
- শিরাতন্ত্র (venous system) ও দুটি পোর্টাল তন্ত্র (portal systems)
- রুই বনাম মানুষের হৃৎপিণ্ড
- ব্যবহারিক: অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী ব্যবচ্ছেদ — তারপর ভার্চুয়াল ল্যাবে নিজে করো
ধাপ ১: একচক্রী বনাম দ্বিচক্রী সংবহন
রক্ত সংবহন মানে হৃৎপিণ্ড নামের পাম্প দিয়ে রক্তকে বন্ধ নালির (closed circulation) ভেতর দিয়ে ঘোরানো। পথে দুই ধরনের কৈশিকজালিকা (capillary bed) পড়ে — যেখানে গ্যাস নেওয়া হয় (ফুলকা বা ফুসফুস), আর যেখানে দেহকলা O₂ খরচ করে।
- একচক্রী সংবহন (single circulation) — মাছ: হৃৎপিণ্ড → ফুলকা → দেহ → হৃৎপিণ্ড। এক চক্করে রক্ত হৃৎপিণ্ড পার হয় 1 বার।
- দ্বিচক্রী সংবহন (double circulation) — উভচর, সরীসৃপ, পাখি, স্তন্যপায়ী: হৃৎপিণ্ড → ফুসফুস → হৃৎপিণ্ড → দেহ → হৃৎপিণ্ড। এক চক্করে 2 বার।
মাছে রক্ত ফুলকা থেকে সরাসরি দেহে চলে যায়, হৃৎপিণ্ডে ফেরে না। ফলে মাছের হৃৎপিণ্ডে কখনো O₂-যুক্ত রক্ত ঢোকে না। নিচে নিজে একটি কণিকা টেনে ঘোরাও, আর লক্ষ করো কোথায় তার রং বদলায়:
O₂ সম্পৃক্ততা (saturation) ≈ 60% · O₂-হীন (নীল) — হৃৎপিণ্ডে কণিকাটি সব সময় নীল: তাই রুইয়ের হৃৎপিণ্ড “শিরা-হৃৎপিণ্ড” (venous heart)।
রুই মাছের রক্ত এক চক্করে কোন ক্রমে চলে?
ধাপ ২: রুইয়ের রক্ত
রুইয়ের রক্তও রক্তরস (plasma) আর রক্তকণিকা দিয়ে তৈরি। দেহের ভরের মাত্র প্রায় 3–5% রক্ত। মানুষের সঙ্গে বড় পার্থক্য লোহিত রক্তকণিকায় (red blood cell, RBC):
| বৈশিষ্ট্য | রুই (মাছ) | মানুষ |
|---|---|---|
| লোহিত কণিকার আকার | ডিম্বাকার (oval), ≈ 12 × 8 µm | গোল দ্বি-অবতল চাকতি, ≈ 7.5 µm |
| নিউক্লিয়াস | আছে (nucleated) | পরিণত কণিকায় নেই |
| রঞ্জক | হিমোগ্লোবিন (haemoglobin) | হিমোগ্লোবিন |
| শ্বেত কণিকা (WBC) | লিম্ফোসাইট, নিউট্রোফিল, মনোসাইট ইত্যাদি | একই রকম |
শ্বেত কণিকা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে; মাছে থ্রম্বোসাইট (thrombocyte) নামের নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ রক্ত জমাট বাঁধায় — মানুষের অণুচক্রিকার (platelet) কাজ করে।
রুইয়ের লোহিত রক্তকণিকা মানুষের থেকে কীভাবে আলাদা?
ধাপ ৩: হৃৎপিণ্ড — চার প্রকোষ্ঠ, তিন কপাটিকা
রুইয়ের হৃৎপিণ্ড ছোট, লালচে; ফুলকার ঠিক পেছনে-নিচে, গলার নিচে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরে (pericardial cavity) থাকে — চারপাশে দুই স্তরের থলি পেরিকার্ডিয়াম (pericardium)। ভ্রূণে এটি সোজা নল, বড় মাছে নলটি S-আকারে ভাঁজ হয়ে একটি ঘন অঙ্গ হয়ে যায়। রক্ত পরপর চারটি প্রকোষ্ঠ (chamber) পার হয়:
- সাইনাস ভেনোসাস (sinus venosus) — পাতলা প্রাচীরের থলি; সব শিরা এখানে খোলে। হৃৎস্পন্দনের পেসমেকার (pacemaker) এখানে।
- অলিন্দ (atrium) — একটিমাত্র বড়, পাতলা থলি।
- নিলয় (ventricle) — মোটা পেশিময় প্রাচীর, প্রধান পাম্প।
- বাল্বাস আর্টারিওসাস (bulbus arteriosus) — সাদাটে, স্থিতিস্থাপক (elastic) — হৃৎপেশি নেই, তাই নিজে সংকুচিত হয় না। একে অঙ্কীয় মহাধমনীর ফোলা গোড়াও বলা হয়।
প্রকোষ্ঠগুলোর মাঝে তিনটি কপাটিকা (valve): সাইনো-অরিকুলার (sino-atrial), অরিকুলো-ভেন্ট্রিকুলার (atrio-ventricular) ও ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বার (ventriculo-bulbar)। এরা রক্তকে কেবল সামনে যেতে দেয়। ধাপে ধাপে একটি স্পন্দন চালাও, যেকোনো অংশে ট্যাপ করো, আর “উল্টো দিকে ঠেলো” চেপে দেখো কপাটিকা কী করে:
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অন্য মেরুদণ্ডীর মতোই তিন স্তরের: বাইরে এপিকার্ডিয়াম (epicardium), মাঝে হৃৎপেশির মায়োকার্ডিয়াম (myocardium), ভেতরে এন্ডোকার্ডিয়াম (endocardium)। হৃৎপিণ্ড দিয়ে যায় শুধু দেহ থেকে ফেরা O₂-হীন রক্ত — তাই বোর্ডের ভাষায় রুইয়ের হৃৎপিণ্ড শিরা-হৃৎপিণ্ড (venous heart)। (টেলিওস্টে কোনাস আর্টারিওসাস (conus arteriosus) নেই বলে পড়ানো হয় — বোর্ডের উত্তর এটাই।)
রুইয়ের হৃৎপিণ্ডকে শিরা-হৃৎপিণ্ড (venous heart) বলা হয় কেন?
ধাপ ৪: ধমনিতন্ত্র — ফুলকা হয়ে সারাদেহে
- অঙ্কীয় মহাধমনী (ventral aorta) বাল্বাস থেকে সামনে গলার নিচ দিয়ে চলে। ধমনী হলেও এতে O₂-হীন রক্ত।
- এ থেকে দুই পাশে 4 জোড়া অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী (afferent branchial arteries) — প্রতিটি একটি ফুলকা-খিলানে (gill arch)।
- ফুলকার কৈশিকজালিকায় রক্ত O₂ নেয়; 4 জোড়া বহির্বাহী ফুলকা ধমনী (efferent branchial arteries) O₂-যুক্ত রক্ত তুলে নেয়।
- প্রতি পাশের বহির্বাহী ধমনীগুলো মিলে পার্শ্বীয় পৃষ্ঠ মহাধমনী (lateral dorsal aorta)। সামনে দুটি জুড়ে সারকুলাস সেফালিকাস (circulus cephalicus) নামের বলয় — এখান থেকে ক্যারোটিড ধমনী (carotid) মাথায় যায়। পেছনে দুটি মিলে পৃষ্ঠীয় মহাধমনী (dorsal aorta)।
- পৃষ্ঠীয় মহাধমনীর শাখা: সাবক্ল্যাভিয়ান (subclavian) → বক্ষপাখনা; সিলিয়াকো-মেসেন্টেরিক (coeliaco-mesenteric) → পৌষ্টিকনালি, যকৃৎ, প্লীহা, জননাঙ্গ; প্যারাইটাল (parietal) → দেহপ্রাচীরের পেশি; বৃক্কীয় (renal) → বৃক্ক; ইলিয়াক (iliac) → শ্রোণিপাখনা; শেষে পুচ্ছ ধমনী (caudal artery) → লেজ।
মানচিত্রে প্রতিটি ধমনীতে ট্যাপ করে দেখো (শিরাগুলো আবছা রাখা হয়েছে):
ফুলকার সরু কৈশিকনালি পার হতে চাপ কমে যায়: অঙ্কীয় মহাধমনীতে সাধারণ টেলিওস্টে চাপ প্রায় 4–5 kPa, পৃষ্ঠীয় মহাধমনীতে 3–4 kPa। (, তাই — মানুষের মহাধমনীর গড় প্রায় 93 mmHg।) ফুলকার পরে আর কোনো পাম্প নেই — একচক্রী সংবহনের এটাই সীমাবদ্ধতা।
রুইয়ের বক্ষপাখনায় রক্ত দেয় কোন ধমনী?
ধাপ ৫: শিরাতন্ত্র ও পোর্টাল তন্ত্র
- মাথা থেকে অগ্র কার্ডিনাল বা জুগুলার শিরা (anterior cardinal / jugular), দেহের পেছন থেকে পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা (posterior cardinal) — প্রতি পাশে দুটি মিলে ডাক্টাস কুভিয়েরি (ductus Cuvieri), যা সাইনাস ভেনোসাসে খোলে। গলা ও নিচের চোয়াল থেকে নিম্ন জুগুলার শিরা (inferior jugular)।
- বৃক্কীয় পোর্টাল তন্ত্র (renal portal system): লেজের পুচ্ছ শিরা (caudal vein) → বৃক্কীয় পোর্টাল শিরা → বৃক্কের কৈশিকজালিকা → পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা।
- যকৃৎ পোর্টাল তন্ত্র (hepatic portal system): পৌষ্টিকনালি → যকৃৎ পোর্টাল শিরা → যকৃতের কৈশিকজালিকা → যকৃৎ শিরা (hepatic vein) → সাইনাস ভেনোসাস।
পোর্টাল তন্ত্র মানে এমন শিরা যা এক কৈশিকজালিকা থেকে রক্ত নিয়ে হৃৎপিণ্ডে না গিয়ে আরেকটি অঙ্গের কৈশিকজালিকায় ঢালে।
যকৃৎ পোর্টাল শিরা রক্ত নিয়ে যায় —
ধাপ ৬: রুই বনাম মানুষের হৃৎপিণ্ড
| বৈশিষ্ট্য | রুই | মানুষ |
|---|---|---|
| প্রকোষ্ঠ | সাইনাস ভেনোসাস, 1 অলিন্দ, 1 নিলয়, বাল্বাস আর্টারিওসাস | 2 অলিন্দ, 2 নিলয় (সাইনাস ভেনোসাস ডান অলিন্দে মিশে SA নোড হয়েছে) |
| কপাটিকা | সাইনো-অরিকুলার, অরিকুলো-ভেন্ট্রিকুলার, ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বার | ট্রাইকাসপিড, বাইকাসপিড, দুটি অর্ধচন্দ্রাকার |
| রক্ত | শুধু O₂-হীন (venous heart) | দুই পাশে আলাদা: ডানে O₂-হীন, বামে O₂-যুক্ত |
| সংবহন | একচক্রী | দ্বিচক্রী |
| প্রাচীরের স্তর | এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম, এন্ডোকার্ডিয়াম | একই তিন স্তর |
| ধমনীর চাপ (গড়) | ≈ 3–5 kPa (illustrative, টেলিওস্ট) | ≈ 12 kPa |
| স্পন্দন | ≈ 30–80 /মিনিট, তাপমাত্রা অনুযায়ী বদলায় (illustrative) | ≈ 60–100 /মিনিট |
মানুষের তুলনায় রুইয়ের দেহে ধমনীর চাপ কম কেন?
ধাপ ৭: ব্যবহারিক — অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী ব্যবচ্ছেদ
ব্যবহারিক খাতায় সাধারণত অঙ্কীয় দিক (ventral side) থেকে ধমনিতন্ত্র দেখানো হয়:
- মাছটি পিঠের ওপর শুইয়ে ট্রেতে রাখো; গলার মাঝরেখা বরাবর নিচের চোয়াল থেকে বক্ষপাখনা পর্যন্ত চামড়া কাটো।
- গলার পেশি (isthmus) সাবধানে সরাও; স্কন্ধচক্র (pectoral/shoulder girdle) কেটে সরাও।
- পেরিকার্ডিয়াম খুললে হৃৎপিণ্ড দেখা যায়: সাদা বাল্বাস সামনে, তার সামনে অঙ্কীয় মহাধমনী।
- অঙ্কীয় মহাধমনী অনুসরণ করে দুই পাশে 4 জোড়া অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী গুনে চিহ্নিত করো। চিত্র আঁকো ও চিহ্নিত করো।
বহির্বাহী ধমনী দেখতে কানকো ও ফুলকা-খিলানের ওপরের অংশ খুলতে হয় (পৃষ্ঠীয় দিক)। নিচের ভার্চুয়াল ল্যাবের “ব্যবচ্ছেদ” অংশে এই ধাপগুলো নিজে করো।
এবার নিজে করে দেখো
তিনটি অংশ: প্রবাহ ও চাপ — ফুলকার রোধ বদলাও, ফুসফুস লুপ যোগ করে দ্বিচক্রী সংবহনের সঙ্গে তুলনা করো; ব্যবচ্ছেদ — ধাপে ধাপে খুলে প্রকোষ্ঠ সাজাও ও অন্তর্বাহী ধমনী গোনো; রক্তনালির মানচিত্র — রক্তনালি খাতায় লেখো, বক্ষপাখনার ধমনী আর লেজ থেকে হৃৎপিণ্ডের পথ খুঁজে বের করো। পাঁচটি চ্যালেঞ্জ শেষ করো।
রুইয়ের রক্ত সংবহন ল্যাব (fish heart flow)
Single circulation: pressure, dissection, vessel mapপর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
মানচিত্রে রক্তনালি বেছে “খাতায় লেখো” চাপো — নাম, O₂ অবস্থা আর চাপ এখানে জমা হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- প্রকোষ্ঠগুলো রক্তপ্রবাহের ক্রমে সাজাও (order the chambers) (0/4)
- দেহে চাপ কম কেন — খুঁজে বের করো (ফুলকার রোধ 0 করে দেখো, তারপর উত্তর দাও)
- অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী গোনো (count the afferent branchials) (0/8)
- বক্ষপাখনার ধমনী খুঁজে বের করো (artery to the pectoral fin)
- লেজ থেকে হৃৎপিণ্ড — বৃক্কীয় পোর্টাল পথ ধরে (tail → heart) (0/6)
বই পড়ার সময় সাবধান
- বইয়ের সারণিতে (p072) লেখা আছে হৃৎপ্রাচীরে “কোন বিভেদিত স্তর থাকে না”। ভুল। মাছের হৃৎপ্রাচীরেও অন্য মেরুদণ্ডীর মতো এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম (স্পঞ্জি ও ঘন স্তর) ও এন্ডোকার্ডিয়াম আছে, বাইরে পেরিকার্ডিয়াম (Farrell & Smith, Fish Physiology 36A, 2017)।
- “হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি নির্মিত” — প্রকোষ্ঠগুলোর জন্য ঠিক, কিন্তু বাল্বাস আর্টারিওসাসে হৃৎপেশি নেই; এটি মসৃণ পেশি ও ইলাস্টিন-সমৃদ্ধ স্থিতিস্থাপক অংশ।
- আকৃতি “নলাকৃতি” — ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড নলাকার; পরিণত রুইয়ের হৃৎপিণ্ড S-আকারে ভাঁজ হওয়া ঘন অঙ্গ।
- “শিরা-হৃৎপিণ্ড”: বোর্ড স্তরে ঠিক। তবে অনেক টেলিওস্টে বহির্বাহী ফুলকা ধমনী থেকে আসা করোনারি ধমনী নিলয়ের ঘন পেশিতে O₂-যুক্ত রক্ত দেয়; আর আধুনিক গবেষণায় অনেক টেলিওস্টে বাল্বাসের গোড়ায় ছোট একটি কোনাস পাওয়া গেছে (Icardo 2006)। পরীক্ষায় বোর্ডের উত্তর (কোনাস নেই) লেখো।
ঘরে বসে পরীক্ষা
বাজার থেকে কেনা রুই বা যেকোনো কার্প পরিষ্কার করার সময় (মাছ আগে থেকেই মৃত):
- কানকো তুলে দেখো — উজ্জ্বল লাল ফুলকা। পাশাপাশি 4টি ফুলকা-খিলান গুনে নাও।
- গলার নিচে, ফুলকার পেছনে কাটলে একটা ছোট লালচে থলির মতো হৃৎপিণ্ড আর তার সামনে সাদা, শক্ত-রাবারের মতো বাল্বাস দেখা যায়। আঙুলে চেপে দেখো — বাল্বাস চাপ ছাড়লে ফিরে আসে (স্থিতিস্থাপক), নিলয় নরম পেশি।
- ফুলকার রং বাসি মাছে ফ্যাকাশে বা বাদামি হয় — টাটকা মাছ চেনার এটাই সহজ উপায়।
ছুরি বড়দের সাহায্যে ব্যবহার করো। কাঁচা মাছ ধরার পর সাবান দিয়ে হাত ধোও। কোনো জীবিত প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করবে না।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. শিরা-হৃৎপিণ্ড (venous heart) কী? রুইয়ের হৃৎপিণ্ডকে এ নামে ডাকা হয় কেন?
উত্তর দেখো
যে হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে শুধু O₂-হীন (শিরা-) রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে শিরা-হৃৎপিণ্ড বলে। রুইয়ের দেহ থেকে শিরা দিয়ে ফেরা রক্ত সাইনাস ভেনোসাস → অলিন্দ → নিলয় → বাল্বাস আর্টারিওসাস হয়ে অঙ্কীয় মহাধমনী দিয়ে ফুলকায় যায়। ফুলকায় O₂-যুক্ত হওয়া রক্ত বহির্বাহী ধমনী দিয়ে সরাসরি দেহে চলে যায়, হৃৎপিণ্ডে ফেরে না। তাই হৃৎপিণ্ডে সবসময় O₂-হীন রক্ত।
২. রুই মাছের একচক্রী রক্ত সংবহনের প্রবাহচিত্র (flow chart) আঁকো।
উত্তর দেখো
দেহের শিরা (অগ্র ও পশ্চাৎ কার্ডিনাল → ডাক্টাস কুভিয়েরি; যকৃৎ শিরা) → সাইনাস ভেনোসাস → অলিন্দ → নিলয় → বাল্বাস আর্টারিওসাস → অঙ্কীয় মহাধমনী → 4 জোড়া অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী → ফুলকার কৈশিকজালিকা (O₂ গ্রহণ) → 4 জোড়া বহির্বাহী ফুলকা ধমনী → পার্শ্বীয় পৃষ্ঠ মহাধমনী → পৃষ্ঠীয় মহাধমনী (সামনে সারকুলাস সেফালিকাস → ক্যারোটিড) → দেহের কৈশিকজালিকা (O₂ ত্যাগ) → শিরা → সাইনাস ভেনোসাস। এক চক্করে হৃৎপিণ্ড একবার।
৩. রুই ও মানুষের হৃৎপিণ্ডের চারটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
(ক) রুইয়ে 1 অলিন্দ + 1 নিলয় (সঙ্গে সাইনাস ভেনোসাস ও বাল্বাস); মানুষে 2 অলিন্দ + 2 নিলয়। (খ) রুইয়ের হৃৎপিণ্ডে শুধু O₂-হীন রক্ত; মানুষে ডান দিকে O₂-হীন, বাম দিকে O₂-যুক্ত। (গ) রুইয়ে একচক্রী, মানুষে দ্বিচক্রী সংবহন। (ঘ) রুইয়ে সাইনাস ভেনোসাস আলাদা প্রকোষ্ঠ; মানুষে তা ডান অলিন্দে মিশে SA নোড। (ঙ) রুইয়ের ধমনীর চাপ অনেক কম (≈ 4 kPa বনাম ≈ 12 kPa)। লক্ষ করো: দুটির হৃৎপ্রাচীরেই তিন স্তর — এটি পার্থক্য নয়।
৪. (MCQ) রুই মাছে অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী কয় জোড়া? (ক) 2 (খ) 3 (গ) 4 (ঘ) 6। আর কোনটি পৃষ্ঠীয় মহাধমনীর শাখা নয়? (ক) সাবক্ল্যাভিয়ান (খ) ইলিয়াক (গ) সিলিয়াকো-মেসেন্টেরিক (ঘ) অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী
উত্তর দেখো
প্রথমটি (গ) 4 জোড়া — প্রতি পাশে 4টি ফুলকা-খিলানে একটি করে। দ্বিতীয়টি (ঘ) — অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনী আসে অঙ্কীয় মহাধমনী থেকে।
৫. যকৃৎ পোর্টাল তন্ত্র কাকে বলে? রুইয়ে আর কোন পোর্টাল তন্ত্র আছে?
উত্তর দেখো
পৌষ্টিকনালির কৈশিকজালিকা থেকে শোষিত খাদ্যসহ রক্ত যকৃৎ পোর্টাল শিরা দিয়ে সরাসরি হৃৎপিণ্ডে না গিয়ে যকৃতের কৈশিকজালিকায় যায়, তারপর যকৃৎ শিরা দিয়ে সাইনাস ভেনোসাসে ফেরে — এই ব্যবস্থাই যকৃৎ পোর্টাল তন্ত্র। যকৃৎ খাদ্য সঞ্চয়, রূপান্তর ও বিষ নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ পায়। রুইয়ে আরেকটি: বৃক্কীয় পোর্টাল তন্ত্র — পুচ্ছ শিরা → বৃক্কীয় পোর্টাল শিরা → বৃক্ক → পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা।
৬. (সৃজনশীল) মিতা একটি রুইয়ের হৃৎপিণ্ড ব্যবচ্ছেদ করে দেখল, শিরাগুলো প্রথমে একটি পাতলা প্রাচীরের থলিতে (X) খোলে এবং সামনের দিকে একটি সাদা, স্থিতিস্থাপক অংশ (Y) আছে। (ক) X ও Y-এর নাম লেখো। (খ) X-কে হৃৎপিণ্ডের “পেসমেকার” অংশ বলা হয় কেন? (গ) Y না থাকলে ফুলকার কী সমস্যা হতো — ব্যাখ্যা করো। (ঘ) একটি 1.2 kg রুইয়ে রক্তের পরিমাণ মোটামুটি কত (ভরের 3–5%, ঘনত্ব ≈ 1.05 g/mL)?
উত্তর দেখো
(ক) X = সাইনাস ভেনোসাস, Y = বাল্বাস আর্টারিওসাস। (খ) সাইনাস ভেনোসাসের প্রাচীরে পেসমেকার কোষ থাকে; এখান থেকেই সংকোচনের ঢেউ শুরু হয়ে অলিন্দ → নিলয়ে ছড়ায়। (গ) বাল্বাস নিলয়ের সংকোচনে ফুলে রক্ত জমায়, বিরতিতে স্থিতিস্থাপকতায় ছেড়ে দেয় — চাপের ঢেউ মসৃণ হয় ও ফুলকায় প্রায় অবিরাম প্রবাহ থাকে। না থাকলে প্রতি স্পন্দনে উঁচু চাপের ধাক্কা সূক্ষ্ম ফুলকা-কৈশিক ক্ষতিগ্রস্ত করত এবং বিরতিতে প্রবাহ থেমে যেত। (ঘ) mL থেকে mL — প্রায় 34–57 mL।