পাঠ ১১ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.৩ (বাহ্যিক গঠন, ব্যবহারিক)
রুই মাছের বাহ্যিক গঠন, পাখনা ও আঁইশ (ব্যবহারিক)Rui fish external features, fins & scales
বাজার থেকে আনা রুইটা বরফের ওপর শুয়ে আছে। এর ঠোঁটে ঝালর কেন, গায়ে বিন্দু-বিন্দু রেখাটা কী, আর একটা আঁইশ দেখে কি বলা যায় মাছটার বয়স কত? মাছের যেকোনো জায়গায় ট্যাপ করে দেখো কোন অংশের কী নাম, কী কাজ:
প্রতিটি অংশের গঠন তার কাজের সঙ্গে মেলে — পানিতে বাঁচার জন্য। এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:
- কার্প মাছ ও রুইয়ের শ্রেণিবিন্যাস (classification)
- স্বভাব ও খাদ্য (habit and food)
- দেহের তিন ভাগ: মাথা, ধড়, লেজ (head, trunk, tail)
- মাথার অংশগুলো — মুখ, স্পর্শী, নাসারন্ধ্র, চোখ, কানকো
- পাখনা: যুগ্ম ও অযুগ্ম (paired and unpaired fins) — পাখনা সরিয়ে পরীক্ষা
- হোমোসার্কাল লেজ (homocercal tail)
- পার্শ্বরেখা (lateral line)
- সাইক্লয়েড আঁইশ ও বয়স নির্ণয় (cycloid scales and age)
- ব্যবহারিক: শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য — তারপর ভার্চুয়াল ট্রেতে নিজে করো
ধাপ ১: কার্প মাছ — রুই কোথায় পড়ে
কার্প (carp) বলতে Cyprinidae গোত্রের মাছ বোঝায় — চোয়ালে দাঁত নেই, খাবার পেষে গলার ভেতরের গলবিলীয় দাঁত (pharyngeal teeth) দিয়ে। পুকুরে চাষ হয় যেগুলো:
| দল | মাছ (বৈজ্ঞানিক নাম) | খাওয়ার স্তর |
|---|---|---|
| দেশি বড় কার্প (Indian major carps) | রুই (Labeo rohita), কাতলা (Catla catla), মৃগেল (Cirrhinus mrigala), কালিবাউশ (Labeo calbasu) | রুই মধ্যস্তর, কাতলা ওপরে, মৃগেল-কালিবাউশ তলায় |
| বিদেশি কার্প (exotic carps) | সিলভার কার্প (Hypophthalmichthys molitrix), বিগহেড (H. nobilis), গ্রাস কার্প (Ctenopharyngodon idella), কমন কার্প (Cyprinus carpio) | — |
| ছোট কার্প (minor carps) | বাটা (Labeo bata) ইত্যাদি | তলদেশ |
রুইয়ের শ্রেণিবিন্যাস (classification):
| ধাপ | নাম |
|---|---|
| জগৎ (kingdom) | Animalia |
| পর্ব (phylum) | Chordata |
| উপপর্ব (subphylum) | Vertebrata |
| শ্রেণি (class) | Actinopterygii — রশ্মি-পাখনা অস্থিময় মাছ (ray-finned bony fish) |
| বর্গ (order) | Cypriniformes |
| গোত্র (family) | Cyprinidae |
| প্রজাতি (species) | Labeo rohita (Hamilton, 1822) |
FishBase অনুযায়ী রুই সর্বোচ্চ প্রায় 200 cm লম্বা ও 45 kg পর্যন্ত হতে পারে, তবে সচরাচর ধরা পড়ে প্রায় 50 cm-এর মাছ; প্রায় 2 বছরে প্রজননক্ষম হয়; স্বচ্ছন্দ তাপমাত্রা প্রায় 22–31 °C।
রুই, কাতলা আর মৃগেল এক পুকুরে একসঙ্গে চাষ করা যায় মূলত কেন?
ধাপ ২: স্বভাব ও খাদ্য
- বাসস্থান: নদী, খাল-বিল, পুকুরের মিঠা পানি। প্রজননের সময় নদীর উজানে যায় (potamodromous) — বদ্ধ পুকুরে নিজে থেকে ডিম ছাড়ে না।
- খাদ্য: পোনা অবস্থায় প্রাণী-প্লাংকটন (zooplankton) খায়; বড় হলে তৃণভোজী (herbivore) — জলজ উদ্ভিদ, শ্যাওলা, পচা উদ্ভিদ-কণা (detritus)। FishBase-এ এর পুষ্টিস্তর (trophic level) প্রায় 2.0, মানে প্রায় পুরোপুরি উদ্ভিদভোজী।
- খাওয়ার কৌশল: ঝালরযুক্ত পুরু ঠোঁট দিয়ে পাতা ও তলানি চেঁছে নেয়; ফুলকার সূক্ষ্ম ফুলকা-চিরুনি (gill rakers) ছোট কণা ছেঁকে রাখে।
প্রাপ্তবয়স্ক রুইয়ের প্রধান খাদ্য কী?
ধাপ ৩: দেহের তিন ভাগ — মাথা, ধড়, লেজ
রুইয়ের দেহ মাকু-আকৃতির (spindle-shaped / streamlined) — দুই মাথা সরু, মাঝখানে মোটা, দুই পাশে সামান্য চাপা। এমন গড়নে পানির বাধা কম লাগে। ঘাড় নেই; দেহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- মাথা (head): তুণ্ড (snout) থেকে কানকোর পেছনের কিনারা পর্যন্ত; এখানে আঁইশ নেই।
- ধড় (trunk): কানকোর পেছন থেকে পায়ু (anus) পর্যন্ত; আঁইশে ঢাকা।
- লেজ (tail): পায়ুর পেছন থেকে পুচ্ছপাখনা পর্যন্ত; পেশিবহুল।
- মাথা (head)
- ধড় (trunk)
- লেজ (tail)
- পায়ু (anus)
রুইয়ের ধড় আর লেজের সীমানা কোথায়?
ধাপ ৪: মাথার অংশগুলো
- মুখ (mouth): তুণ্ডের একটু নিচে (subterminal), ঠোঁট পুরু ও ঝালরযুক্ত (fringed)। চোয়ালে দাঁত নেই।
- স্পর্শী (barbels): মুখের কোণে এক জোড়া ছোট ম্যাক্সিলারি স্পর্শী (maxillary barbels) — স্বাদকুঁড়িযুক্ত, ঘোলা পানিতে খাবার খুঁজতে কাজে লাগে। প্রায়ই খাঁজে লুকানো থাকে, তাই খুঁজে দেখতে হয়।
- নাসারন্ধ্র (nostrils): চোখের সামনে এক জোড়া; শুধু ঘ্রাণের জন্য, শ্বাসের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
- চোখ (eyes): এক জোড়া, চোখের পাতা (eyelid) নেই।
- কানকো (operculum): দুই পাশে ঢাকনা, নিচে চার জোড়া ফুলকা। কানকোর নিচের কিনারায় পাতলা ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা (branchiostegal membrane) কানকো-ছিদ্র বন্ধ করে পানি পাম্প করতে সাহায্য করে।
- মুখ (mouth)
- স্পর্শী (maxillary barbel)
- নাসারন্ধ্র (nostril)
- চোখ (eye)
- কানকো (operculum)
- ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা (branchiostegal membrane)
- পার্শ্বরেখা (lateral line)
- পৃষ্ঠপাখনা (dorsal fin)
- বক্ষপাখনা (pectoral fin)
- শ্রোণিপাখনা (pelvic fin)
- পায়ুপাখনা (anal fin)
- পুচ্ছপাখনা (caudal fin)
- পায়ু (anus)
- জনন ও রেচন ছিদ্র (genital & urinary pores)
রুইয়ের নাসারন্ধ্রের কাজ কী?
ধাপ ৫: পাখনা — যুগ্ম ও অযুগ্ম
রুইয়ের পাঁচ ধরনের পাখনা; প্রতিটি পাতলা চামড়ার পর্দা, ভেতরে পাখনা-রশ্মি (fin rays) টানা দেয়।
- যুগ্ম পাখনা (paired fins) — দুই পাশে এক জোড়া করে: বক্ষপাখনা (pectoral) আর শ্রোণিপাখনা (pelvic)। চতুষ্পদের সামনের ও পেছনের পায়ের সমতুল্য (homologous)।
- অযুগ্ম পাখনা (unpaired / median fins) — মাঝরেখায় একটি করে: পৃষ্ঠপাখনা (dorsal), পায়ুপাখনা (anal), পুচ্ছপাখনা (caudal)।
কোন পাখনা কী করে, নিজে পরীক্ষা করো — একটা একটা পাখনা সরিয়ে দেখো সাঁতার কীভাবে নষ্ট হয়:
রশ্মির প্রকৃত সংখ্যা (Talwar & Jhingran 1991; FishBase)। রোমান সংখ্যা = অশাখ রশ্মি (unbranched / simple rays), আরবি সংখ্যা = শাখাযুক্ত রশ্মি (branched rays):
| পাখনা | সূত্র (formula) | মোট রশ্মি | বই (p066) | প্রধান কাজ |
|---|---|---|---|---|
| পৃষ্ঠপাখনা (dorsal) | D iii–iv 12–14 | 15–18 | 15–16 | roll ও yaw ঠেকায় |
| পায়ুপাখনা (anal) | A ii–iii 5 | 7–8 | 7 | roll ঠেকায় |
| বক্ষপাখনা (pectoral) | P 16–18 | 16–18 | 16–17 | ব্রেক, মোড়, ভেসে থাকা |
| শ্রোণিপাখনা (pelvic) | V 9 | 9 | 9 | pitch নিয়ন্ত্রণ, ভারসাম্য |
| পুচ্ছপাখনা (caudal) | C 19 (প্রধান রশ্মি) | 19 | 19 | সামনে ঠেলা, দিক বদল |
গুনলে সংখ্যা পরিসরের মধ্যে যেকোনোটি হতে পারে — প্রতিটি মাছ একটু আলাদা। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: পৃষ্ঠপাখনা 15–16, পায়ুপাখনা 7, বক্ষপাখনা 16–17, শ্রোণিপাখনা 9, পুচ্ছপাখনা 19 — সবই প্রকৃত পরিসরের ভেতরে।
কোনটি রুইয়ের যুগ্ম পাখনা?
ধাপ ৬: হোমোসার্কাল লেজ
রুইয়ের পুচ্ছপাখনা হোমোসার্কাল (homocercal): বাইরে থেকে ওপরের ও নিচের খণ্ড সমান, মাঝে খাঁজ — দ্বিখণ্ডিত (forked)। মেরুদণ্ড পাখনার গোড়াতেই শেষ হয়। বেশির ভাগ আধুনিক অস্থিময় মাছের লেজ এমন। হাঙরের লেজ হেটারোসার্কাল (heterocercal) — মেরুদণ্ড বড় ওপরের খণ্ডে ঢুকে যায়।
হোমোসার্কাল লেজের মূল বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ধাপ ৭: পার্শ্বরেখা — পানির ‘স্পর্শ’ টের পাওয়া
দেহের দুই পাশে কানকোর পেছন থেকে লেজ পর্যন্ত একটি বিন্দু-বিন্দু রেখা — পার্শ্বরেখা (lateral line)। রুইয়ে এই রেখা বরাবর 40–44টি আঁইশ থাকে, প্রতিটিতে একটি ছিদ্র। ছিদ্রগুলো চামড়ার নিচের একটি তরলভরা নালিতে (canal) খোলে। নালিতে আছে নিউরোমাস্ট (neuromast) — একগুচ্ছ লোমকোষ (hair cells), ওপরে জেলির মতো কিউপুলা (cupula)। পানি নড়লে কিউপুলা বাঁকে, লোমকোষ স্নায়ুতে সংকেত পাঠায়।
ফলে রুই টের পায় পানির চলন, কম্পন ও চাপের পরিবর্তন — অন্ধকার বা ঘোলা পানিতেও শিকারি, বাধা আর ঝাঁকের সঙ্গীর অবস্থান বোঝে।
পার্শ্বরেখার কোন অংশ আসলে পানির চলন টের পায়?
ধাপ ৮: সাইক্লয়েড আঁইশ — আর আঁইশে লেখা বয়স
রুইয়ের ধড় ও লেজ সাইক্লয়েড আঁইশে (cycloid scales) ঢাকা — পাতলা, গোলাকার, কিনারা মসৃণ (কাঁটাযুক্ত টিনয়েড (ctenoid) আঁইশের মতো খাঁজকাটা নয়)। আঁইশগুলো ছাদের টালির মতো একটির ওপর আরেকটি পড়ে থাকে (imbricate), তাই দেহ বাঁকাতে পারে আবার সুরক্ষাও পায়।
গঠন: প্রতিটি আঁইশ ডার্মিসে তৈরি, একটি চামড়ার থলিতে (dermal pocket) বসানো, ওপরে পাতলা এপিডার্মিস। আঁইশে দুটি স্তর — ওপরে পাতলা হাড়ের স্তর (bony layer), যাতে চুন-জাতীয় খনিজ (হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট, hydroxyapatite) থাকে, আর নিচে তন্তুময় কোলাজেন পাত (collagen basal plate)। হাঙরের প্ল্যাকয়েড আঁইশের মতো ডেন্টিন (dentine) বা এনামেল এখানে নেই।
আলোর দিকে ধরলে দেখা যায়:
- কেন্দ্র (focus) — আঁইশের প্রথম অংশ।
- সারকুলাস (circuli) — কেন্দ্র ঘিরে বৃদ্ধিরেখা। গরমকালে মাছ দ্রুত বাড়ে, রেখা ফাঁকা ফাঁকা; শীতে ধীরে বাড়ে, রেখা ঘন।
- বর্ষবলয় (annulus, বহুবচন annuli) — প্রতি শীতের ঘন গুচ্ছের শেষে একটি দাগ; 1টি বর্ষবলয় ≈ 1 বছর।
- অরীয় খাঁজ (radii) — কেন্দ্র থেকে কিনারার দিকে খাঁজ, আঁইশকে নমনীয় রাখে।
- ক্ষেত্র (fields) — সম্মুখ (anterior, থলিতে গাঁথা), পশ্চাৎ (posterior, খোলা অংশ, রঞ্জক কোষযুক্ত), দুই পাশে পার্শ্ব (lateral) ক্ষেত্র। এগুলো একই আঁইশের অংশ, আলাদা উপাদানে তৈরি নয়।
আঁইশের অংশে ট্যাপ করো, তারপর “বয়স পড়ো”-তে গিয়ে বর্ষবলয় গুনে বয়স বলো:
কাজ: দেহ রক্ষা (আঘাত, ঘষা, পরজীবী থেকে), টালির মতো সাজানো বলে সাঁতারে নমনীয়তা, আর পার্শ্বরেখার ছিদ্র বহন। মাছের গা পিচ্ছিল রাখে যে মিউকাস (mucus), তা আসে এপিডার্মিসের গবলেট কোষ (goblet / mucous cells) থেকে — আঁইশ থেকে নয়। মিউকাস পানির ঘর্ষণ কমায় আর জীবাণু আটকায়।
একটি রুইয়ের আঁইশে 3টি বর্ষবলয়, আর শেষ বলয়ের পরে কিছু ফাঁকা সারকুলাস। মাছটির বয়স কত?
ধাপ ৯: ব্যবহারিক — রুই চেনার বৈশিষ্ট্য
ব্যবহারিক খাতায় নমুনা শনাক্ত করতে লেখো:
- দেহ মাকু-আকৃতির, দুই পাশে সামান্য চাপা; পিঠ ধূসর-কালচে, পাশ ও পেট রুপালি, আঁইশে লালচে আভা।
- মুখ তুণ্ডের নিচে (subterminal), ঠোঁট পুরু ও ঝালরযুক্ত।
- এক জোড়া ছোট ম্যাক্সিলারি স্পর্শী।
- চোখে পাতা নেই; মাথায় আঁইশ নেই; দুই পাশে কানকো।
- পৃষ্ঠপাখনা একটি (D iii–iv 12–14); দুই জোড়া যুগ্ম পাখনা; পুচ্ছপাখনা হোমোসার্কাল ও দ্বিখণ্ডিত।
- দেহ সাইক্লয়েড আঁইশে ঢাকা; পার্শ্বরেখায় 40–44টি আঁইশ।
কাতলার সঙ্গে গুলিয়ো না: কাতলার মাথা অনেক বড়, মুখ ওপরের দিকে, স্পর্শী নেই। মৃগেল সরু, রুপালি, ঠোঁট পাতলা।
এবার নিজে করে দেখো
ভার্চুয়াল ট্রেতে একটি রুই রাখা আছে। ওপরের পাঁচটি কাজ একে একে করো: অংশ চিহ্নিত করো, পাখনা বেছে রশ্মিতে ট্যাপ করে গোনো (গোনা শেষ হলে খাতায় লেখো), অচেনা কার্প চেনো, তিনটি আঁইশের বয়স পড়ো, আর পার্শ্বরেখা খুঁজে বলো সেটি কী টের পায়।
রুই ব্যবহারিক ট্রে (rui explorer)
Label the fish, count fin rays, tell carps apart, read scalesপর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
রশ্মি গোনা শেষ হলে “খাতায় লেখো” চাপো — পাখনা, সংখ্যা আর কাজ এখানে জমা হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- বাইরের 10টি অংশ চিহ্নিত করো (label 10 parts) (0/10)
- পৃষ্ঠপাখনার সব রশ্মি গোনো (count dorsal rays)
- রুই, কাতলা ও মৃগেল আলাদা করো (tell the carps apart) (0/3)
- 3টি আঁইশের বয়স পড়ো (read 3 scale ages) (0/3)
- পার্শ্বরেখা খুঁজে বলো কী টের পায় (lateral line)
বই পড়ার সময় সাবধান
- p067: “অ্যানটেরিয়র ফিল্ড … যোজক টিস্যু” আর “পশ্চাৎক্ষেত্র … ডেন্টিন-নির্মিত” — ভুল। অস্থিময় মাছের সাইক্লয়েড আঁইশে ডেন্টিন নেই; পুরো আঁইশ ওপরে হাড়ের (হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট) স্তর আর নিচে কোলাজেন পাত দিয়ে তৈরি। সম্মুখ-পশ্চাৎ ক্ষেত্র একই আঁইশের দুই অংশ (Sire & Akimenko 2004)। বইয়ের p066-এর “চুন ও কোলাজেন” কথাটি ঠিক।
- p067: “আঁইশে বিদ্যমান মিউকাস … রোগজীবাণু ধ্বংস করে” — মিউকাস আঁইশ থেকে নয়, এপিডার্মিসের গবলেট (mucous) কোষ থেকে আসে।
- p064: “Hypophthalmicthys” বানান ভুল → Hypophthalmichthys molitrix; “Aristichthys nobilis” এখন Hypophthalmichthys nobilis (বিগহেড কার্প)।
- p063: Cyprinidae-তে “প্রায় 3,000 প্রজাতি” — পুরোনো বৃহৎ অর্থে। 2016–2018-এর পুনর্বিন্যাসের পর Cyprinidae-তে প্রায় 1,700 প্রজাতি (Eschmeyer’s Catalog of Fishes)।
- p084: পোনার পাখনা-রশ্মির তালিকা (D 14, P 7, V 7, C 30) p066-এর প্রাপ্তবয়স্ক সংখ্যার সঙ্গে মেলে না; ওপরের সারণির প্রকৃত সংখ্যা ব্যবহার করো।
ঘরে বসে পরীক্ষা
বাজার থেকে একটি রুই (বা যেকোনো কার্প) আনার দিন:
- পার্শ্বরেখা খুঁজে বের করো; কানকোর পেছন থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত রেখা বরাবর আঁইশ গোনো — 40–44 এর কাছাকাছি পাও কি না দেখো।
- পাখনাগুলো আলতো করে মেলে ধরো, পৃষ্ঠপাখনার রশ্মি গোনো; কোনগুলোর আগা দুভাগ (শাখাযুক্ত) দেখো।
- পার্শ্বরেখার একটু ওপর থেকে চিমটি দিয়ে একটি আঁইশ তুলে নাও। পানিতে ধুয়ে কাচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকে রাখো, আলোর দিকে ধরে বা ফোনের ম্যাক্রো লেন্সে দেখো। কেন্দ্র, সারকুলাস আর ঘন গুচ্ছ (বর্ষবলয়) খুঁজে আঁকো, বয়স অনুমান করো।
- আঁইশের কোন অংশ মাছের গায়ে ঢাকা ছিল (সম্মুখ) আর কোন অংশ বাইরে (পশ্চাৎ, রঙিন) — মিলিয়ে দেখো।
নিরাপত্তা: পরিষ্কার ছুরি/চিমটি ব্যবহার করো, পাখনার শক্ত রশ্মিতে হাত কাটতে পারে। কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোও, মাছ রান্না করে খাও — কিছু নষ্ট কোরো না।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. রুই মাছের পাঁচটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
(ক) দেহ মাকু-আকৃতির, সাইক্লয়েড আঁইশে ঢাকা, আঁইশে লালচে আভা; (খ) মুখ নিম্নমুখী (subterminal), ঠোঁট পুরু ও ঝালরযুক্ত; (গ) এক জোড়া ছোট ম্যাক্সিলারি স্পর্শী; (ঘ) একটি পৃষ্ঠপাখনা (মোট 15–18 রশ্মি; বোর্ডের উত্তর 15–16), দুই জোড়া যুগ্ম পাখনা; (ঙ) পুচ্ছপাখনা হোমোসার্কাল ও দ্বিখণ্ডিত; (চ) পার্শ্বরেখায় 40–44টি আঁইশ; চোখে পাতা নেই।
২. সাইক্লয়েড আঁইশের গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করো এবং এর দুটি কাজ লেখো।
উত্তর দেখো
পাতলা, গোলাকার, মসৃণ কিনারার আঁইশ। মাঝে কেন্দ্র (focus), তাকে ঘিরে সারকুলাস; শীতের ঘন সারকুলাসের শেষে বর্ষবলয় (annulus); কেন্দ্র থেকে কিনারার দিকে অরীয় খাঁজ (radii)। সম্মুখ ক্ষেত্র চামড়ার থলিতে গাঁথা, পশ্চাৎ ক্ষেত্র খোলা ও রঞ্জকযুক্ত, দুই পাশে পার্শ্ব ক্ষেত্র। স্তর: ওপরে হাড়ের (হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট) স্তর, নিচে কোলাজেন পাত — ডেন্টিন নেই। কাজ: দেহ রক্ষা; টালির মতো সাজানো বলে সাঁতারে নমনীয়তা; বর্ষবলয় থেকে বয়স নির্ণয়; পার্শ্বরেখার ছিদ্র বহন।
৩. যুগ্ম ও অযুগ্ম পাখনার পার্থক্য লেখো। পুচ্ছপাখনা কেটে ফেললে রুইয়ের কী সমস্যা হবে?
উত্তর দেখো
| যুগ্ম পাখনা | অযুগ্ম পাখনা |
|---|---|
| দেহের দুই পাশে জোড়ায় (বক্ষ, শ্রোণি) | মাঝরেখায় একটি করে (পৃষ্ঠ, পায়ু, পুচ্ছ) |
| চতুষ্পদের পায়ের সমতুল্য | সমতুল্য অঙ্গ নেই |
| ব্রেক, মোড়, ওঠা-নামা | ভারসাম্য (roll, yaw) ও সামনে ঠেলা |
পুচ্ছপাখনা সামনে ঠেলার প্রধান বল দেয় আর হালের কাজ করে; কেটে ফেললে মাছ খুব ধীরে, এলোমেলোভাবে সাঁতরাবে।
৪. হোমোসার্কাল ও হেটারোসার্কাল লেজের পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
হোমোসার্কাল (রুই): বাইরে থেকে দুই খণ্ড সমান, মেরুদণ্ড পাখনার গোড়ায় শেষ (শেষ কশেরুকা সামান্য ওপরে বাঁকা, কিন্তু খণ্ডে ঢোকে না)। হেটারোসার্কাল (হাঙর): মেরুদণ্ড ওপরের খণ্ডে ঢোকে, ওপরের খণ্ড বড়, দুই খণ্ড অসমান।
৫. (MCQ) সাইক্লয়েড আঁইশের কেন্দ্রকে কী বলে? (ক) annulus (খ) focus (গ) radii (ঘ) circuli। আর রুইয়ের শ্রোণিপাখনায় কয়টি রশ্মি? (ক) 7 (খ) 9 (গ) 16 (ঘ) 19
উত্তর দেখো
কেন্দ্র = (খ) focus। শ্রোণিপাখনা = (খ) 9 (V 9)। 16–18 বক্ষপাখনার, 19 পুচ্ছপাখনার প্রধান রশ্মি, 7 পায়ুপাখনার।
৬. (গাণিতিক) একটি 60 cm লম্বা রুইয়ের আঁইশের ব্যাসার্ধ (কেন্দ্র থেকে কিনারা) 6.0 mm; বর্ষবলয়গুলো কেন্দ্র থেকে 2.8, 4.3 ও 5.3 mm দূরে। আঁইশের বৃদ্ধি দেহের দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক ধরে প্রতিটি বর্ষবলয় তৈরির সময় মাছটির দৈর্ঘ্য কত ছিল? মাছটির বয়স কত?
উত্তর দেখো
ডাল-লি সমানুপাতিক পদ্ধতি (Dahl–Lea back-calculation):
- 1ম বছর শেষে: cm
- 2য় বছর শেষে: cm
- 3য় বছর শেষে: cm
3টি বর্ষবলয় → বয়স 3+ বছর। লক্ষ করো, প্রথম বছরে বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি (28 cm), পরে কমে আসে (15, 10 cm) — তাই বাইরের বলয়গুলো কাছাকাছি। (সংখ্যাগুলো অনুশীলনের জন্য বানানো।)