পাঠ ৯ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.২ (সংবেদী অঙ্গ, রেচন)
পুঞ্জাক্ষি, সংবেদী অঙ্গ ও ম্যালপিজিয়ান নালিকাCompound eye, sense organs & Malpighian tubules
হাত দিয়ে ঘাসফড়িং ধরতে গেলে প্রায় সবসময় সে আগেই লাফ দেয়। অথচ তার চোখ আমাদের চোখের মতো স্পষ্ট ছবি দেখে না। তাহলে সে টের পায় কীভাবে? নিচে একই আকাশ দুই চোখে দেখো, তারপর পাখি ছাড়ো:
ঘাসফড়িং-এর পুঞ্জাক্ষি (compound eye) হাজারো ছোট চোখের যোগফল। ছবিটা ঝাপসা মোজাইক, কিন্তু নড়াচড়া ধরতে খুব পটু। এই পাঠে চোখ ছাড়াও অন্য সংবেদী অঙ্গ (sense organs) দেখব। তারপর দেখব শুকনো মাঠে বাঁচার আরেক কৌশল: ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules) দিয়ে প্রায় পানি ছাড়াই বর্জ্য বের করা।
এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:
- সংবেদী লোম আর ঘাসফড়িং-এর সংবেদী অঙ্গ
- পুঞ্জাক্ষি: হাজারো ছয়কোনা ফ্যাসেট
- একটি ওমাটিডিয়ামের (ommatidium) গঠন
- মোজাইক (apposition) বনাম সুপারপজিশন (superposition) প্রতিবিম্ব
- পুঞ্জাক্ষি বনাম সরলাক্ষি (ocellus)
- রেচন: ম্যালপিজিয়ান নালিকা আর ইউরিক অ্যাসিড
- সহায়ক রেচন অঙ্গ
- এবার নিজে করে দেখো: ঘাসফড়িং-এর চোখে দেখো
আগে জেনে নাও: ঘাসফড়িং-এর বাইরের গঠন, শুঙ্গ আর মুখোপাঙ্গ (পাঠ ৬)। আরও জানতে হবে হিমোলিম্ফ (haemolymph) আর মুক্ত সংবহনতন্ত্র (পাঠ ৮)।
ধাপ ১: সংবেদী লোম ও সংবেদী অঙ্গ
পতঙ্গের শক্ত কিউটিকল (cuticle) দিয়ে সরাসরি কিছু অনুভব করা যায় না। তাই তার বেশিরভাগ অনুভূতি আসে ছোট ছোট সংবেদী লোম বা সেনসিলা (sensilla) থেকে। প্রতিটি সেনসিলামে থাকে:
- লোম (hair / seta): কিউটিকলের তৈরি। ঘ্রাণ ও স্বাদের লোমে ছিদ্র থাকে, যাতে রাসায়নিক অণু ভেতরে ঢুকতে পারে।
- ট্রাইকোজেন কোষ (trichogen cell): লোমটা তৈরি করে।
- টরমোজেন কোষ (tormogen cell): লোমের সকেট (socket) তৈরি করে।
- সংবেদী নিউরন (sensory neuron): উদ্দীপনাকে স্নায়ু-সংকেতে বদলায়।
পিনগুলোতে ট্যাপ করে প্রতিটি অঙ্গ চেনো, তারপর নিচের লোমের ছবিতে কোষগুলো চেনো:
কাছ থেকে একটি সংবেদী লোম (sensillum)
| অঙ্গ | সংখ্যা ও অবস্থান | অনুভূতি |
|---|---|---|
| শুঙ্গ (antenna) | 1 জোড়া, মাথায় | ঘ্রাণ, স্পর্শ |
| পুঞ্জাক্ষি (compound eye) | 1 জোড়া, মাথার দুপাশে | দৃষ্টি, নড়াচড়া |
| সরলাক্ষি (ocellus) | 3টি, মাথার সামনে | আলোর তীব্রতা |
| পাল্প (palps) | ম্যাক্সিলারি ও ল্যাবিয়াল | স্বাদ |
| টিমপেনাম (tympanum) | 1 জোড়া, উদরের 1ম খণ্ডকে | শ্রবণ |
| সার্কাস (cercus), টার্সাস (tarsus) | উদরের শেষে; পায়ে | স্পর্শ, বাতাসের কম্পন; স্বাদ |
ঘাসফড়িং-এর শ্রবণ অঙ্গ (টিমপেনাম) কোথায় থাকে?
ধাপ ২: পুঞ্জাক্ষি — হাজারো ছয়কোনা চোখ
মাথার দুপাশের বড়, বাদামি, ডিম্বাকার চোখ দুটি পুঞ্জাক্ষি। আতশকাচে দেখলে এর তলটা মৌচাকের মতো দেখায়। এতে থাকে অসংখ্য ছয়কোনা ফ্যাসেট (facet)। প্রতিটি ফ্যাসেট একটি করে ওমাটিডিয়াম (ommatidium)-এর বাইরের লেন্স। বহুবচনে বলে ওমাটিডিয়া (ommatidia)।
- ওমাটিডিয়ামের সংখ্যা প্রজাতি ও বয়সভেদে আলাদা। প্রতিবার খোলস বদলের পর সংখ্যা বাড়ে। বইয়ে আছে “প্রায় দুহাজার”। পূর্ণবয়স্ক পঙ্গপালের প্রতি চোখে কয়েক হাজার থাকে, মোটামুটি 6,000–9,000 (আনুমানিক)।
- চোখটা উত্তল, তাই প্রতিটি ওমাটিডিয়াম একটু ভিন্ন দিকে তাকায়। সব মিলে ঘাসফড়িং সামনে, পাশে, ওপরে প্রায় চারদিকই দেখে।
- ফ্যাসেট সংখ্যার কারণে ছবির খুঁটিনাটি সীমিত। একটা ফ্যাসেট মানে ছবির একটা “পিক্সেল”।
পুঞ্জাক্ষির একেকটি ছয়কোনা ফ্যাসেট আসলে কী?
ধাপ ৩: একটি ওমাটিডিয়ামের গঠন
প্রতিটি ওমাটিডিয়াম যেন একটি ছোট, স্বাধীন চোখ। বাইরে থেকে ভেতরে এর অংশগুলো সাজাও। খেয়াল করো, কখন আলো র্যাবডোম (rhabdom) পর্যন্ত পৌঁছায়:
| অংশ | সংখ্যা | কাজ |
|---|---|---|
| কর্নিয়া (cornea) | 1 | স্বচ্ছ কিউটিকলের লেন্স; এখান দিয়েই আলো ঢোকে |
| কর্নিয়াজেন কোষ (corneagen cells) | 2 | নতুন কর্নিয়া ক্ষরণ করে |
| ক্রিস্টালাইন কোন (crystalline cone) | 4টি কোন কোষে (cone / Semper cells) তৈরি | আলো ফোকাস করে র্যাবডোমে পাঠায় |
| প্রাথমিক রঞ্জক কোষ (primary pigment cells) | 2 | কোনকে ঘিরে তির্যক আলো শোষে |
| রেটিনুলার কোষ (retinular cells) | 8 | আলোকসংবেদী কোষ |
| র্যাবডোম (rhabdom) | 1 | রেটিনুলার কোষের মাইক্রোভিলাই দিয়ে তৈরি কেন্দ্রীয় দণ্ড; দৃষ্টিরঞ্জক (rhodopsin) আলো শোষে |
| গৌণ রঞ্জক কোষ (secondary pigment cells) | অনেক | রেটিনুলার চারপাশে রঞ্জকের খাপ |
| ভিত্তিপর্দা (basement membrane) ও স্নায়ুতন্তু (nerve fibres) | — | সংকেত দৃষ্টিখণ্ডে (optic lobe) পাঠায় |
অনেক পতঙ্গে আলাদা কর্নিয়াজেন কোষ থাকে না। সেখানে প্রাথমিক রঞ্জক কোষই কর্নিয়া ক্ষরণ করে (Chapman, The Insects)। পরীক্ষার চিত্রে বইয়ের মতো 2টি কর্নিয়াজেন কোষ দেখানোই নিয়ম।
ওমাটিডিয়ামের কোন অংশে আলো শোষিত হয়ে স্নায়ু-সংকেত শুরু হয়?
ধাপ ৪: মোজাইক বনাম সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব
পুঞ্জাক্ষি দুইভাবে ছবি তৈরি করতে পারে:
- অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব (apposition / mosaic image): প্রতিটি ওমাটিডিয়াম রঞ্জকের দেয়ালে আলাদা করা। তাই প্রতিটি র্যাবডোম শুধু নিজের ফ্যাসেটের সোজাসুজি আসা আলো পায়। প্রতিটি ওমাটিডিয়াম ছবির একটা টুকরো দেখে, আর মস্তিষ্কে টুকরোগুলো জুড়ে একটা মোজাইক তৈরি হয়। ছবি তুলনামূলক স্পষ্ট, তবে ভালো দেখতে উজ্জ্বল আলো লাগে। এই চোখ দিনে সক্রিয় পতঙ্গের, যেমন ঘাসফড়িং, মৌমাছি, মাছি।
- সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব (superposition image): কোন আর র্যাবডোমের মাঝে থাকে একটি স্বচ্ছ অঞ্চল (clear zone)। ফলে অনেকগুলো ফ্যাসেটের আলো বেঁকে একটি র্যাবডোমে মেলে। ছবি অনেক উজ্জ্বল, তবে একটু ঝাপসা। এই চোখ নিশাচর মথ আর অনেক গুবরেপোকার।
উৎসের দিক সরিয়ে আর চোখের ধরন বদলে দেখো, কয়টি ফ্যাসেটের আলো একটি র্যাবডোমে পৌঁছায়:
তাহলে ঘাসফড়িং সন্ধ্যায় কী করে? সে সুপারপজিশন চোখে বদলে যায় না। আবছা আলোয় তার রঞ্জক কণা র্যাবডোম থেকে সরে যায়, আর র্যাবডোম মোটা হয়। ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম একটু বেশি আলো ধরে, কিন্তু বড় এলাকা দেখে। ছবি কিছুটা উজ্জ্বল হয়, তবে ঝাপসা। ধাপ ৩-এর স্লাইডারে ঠিক এটাই দেখেছ (Land ও Nilsson, Animal Eyes, 2012)।
সুপারপজিশন চোখ আবছা আলোয় ভালো দেখে কেন?
ধাপ ৫: পুঞ্জাক্ষি বনাম সরলাক্ষি
| বৈশিষ্ট্য | পুঞ্জাক্ষি (compound eye) | সরলাক্ষি (ocellus) |
|---|---|---|
| সংখ্যা | 2টি | 3টি (1টি মাঝে, 2টি পাশে) |
| গঠন | হাজারো ওমাটিডিয়াম, প্রতিটির নিজস্ব লেন্স | একটি লেন্সের নিচে অনেক আলোকসংবেদী কোষ |
| প্রতিবিম্ব | মোজাইক প্রতিবিম্ব (ঘাসফড়িং-এ) | স্পষ্ট ছবি গড়ে না |
| কাজ | আকার, রং, নড়াচড়া দেখা | আলোর তীব্রতা ও দ্রুত আলো-আঁধার বদল টের পাওয়া, উড়ার সময় দিগন্ত বোঝা |
ঘাসফড়িং-এর সরলাক্ষির প্রধান কাজ কোনটি?
ধাপ ৬: রেচন — ম্যালপিজিয়ান নালিকা
প্রোটিন ভাঙলে নাইট্রোজেন-ঘটিত বর্জ্য তৈরি হয়। মাছ বা হাইড্রা এটি অ্যামোনিয়া (ammonia) হিসেবে প্রচুর পানিতে মিশিয়ে বের করে দেয়। ঘাসফড়িং শুকনো মাঠে থাকে, তার এত পানি নেই। তাই সে নাইট্রোজেন বের করে প্রায় অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিড (uric acid) হিসেবে। এই বৈশিষ্ট্যকে বলে ইউরিকোটেলিক (uricotelic)।
রেচনের মূল অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)। এগুলো সরু, হলুদ, এক প্রান্ত বন্ধ নল। মধ্যান্ত্র ও পশ্চাদন্ত্রের সংযোগে এরা অন্ত্রে খোলে। ঘাসফড়িং-গোত্রে নালিকা অনেক, প্রায় 100–250টি। প্রতিটির ব্যাস মাত্র 30–100 µm (Chapman 2013)। নালিকাগুলো হিমোলিম্ফে মুক্তভাবে ভাসে।
- ক্ষরণ (secretion): নালিকার বন্ধ, দূরবর্তী প্রান্তের কোষ হিমোলিম্ফ থেকে সক্রিয়ভাবে K⁺ পাম্প করে ভেতরে আনে। পেছনে আসে Cl⁻, আর অভিস্রবণে (osmosis) পানি। এদের সঙ্গে ইউরেট (urate) ও অন্য বর্জ্যও ঢোকে। তৈরি হয় প্রাথমিক মূত্র।
- বয়ে চলা: মূত্র নালিকা বেয়ে অন্ত্রে, অর্থাৎ ইলিয়ামে (ileum) পড়ে। অনেক পতঙ্গে নালিকার নিকটবর্তী অংশ কিছু পানি ও আয়ন ফিরিয়ে নেয়।
- পুনঃশোষণ (reabsorption): মলাশয়ের রেক্টাল প্যাড (rectal pads) পানি, K⁺ ও অন্য দরকারি আয়ন হিমোলিম্ফে ফিরিয়ে নেয়। পানি কমে যাওয়ায় আর অম্লতা বাড়ায় ইউরেট অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিডের কেলাস হয়ে যায়।
- নিষ্কাশন: শুকনো ইউরিক অ্যাসিড মলের সঙ্গে পায়ু দিয়ে বেরিয়ে যায়।
কণাগুলোর চলাচল দেখো। তারপর রেক্টাল শোষণ বন্ধ করে দেখো কী হয়, আর যেকোনো অংশে ট্যাপ করো:
ইউরিক অ্যাসিড কেন পানি বাঁচায়? তিনটি নাইট্রোজেন বর্জ্য তুলনা করো:
| বর্জ্য | সংকেত | মোলার ভর (g/mol) | নাইট্রোজেন (ভরে) | প্রতি N-এ H | পানিতে দ্রাব্যতা (~20 °C) |
|---|---|---|---|---|---|
| অ্যামোনিয়া (ammonia) | NH₃ | 17.03 | 82 % | 3 | খুব বেশি (~500 g/L) — অতি বিষাক্ত |
| ইউরিয়া (urea) | CO(NH₂)₂ | 60.06 | 47 % | 2 | ~1080 g/L |
| ইউরিক অ্যাসিড (uric acid) | C₅H₄N₄O₃ | 168.11 | 33 % | 1 | মাত্র ~0.06 g/L |
ইউরিক অ্যাসিডের নাইট্রোজেন ভগ্নাংশ: । এটি ইউরিয়ার চেয়ে প্রায় 18,000 গুণ কম দ্রবণীয়। তাই 1 g নাইট্রোজেন দ্রবীভূত রাখতে প্রায় লিটার পানি লাগত! বাস্তবে এটি কেলাস হয়ে প্রায় শুকনো অবস্থায় বেরিয়ে যায়। দ্রবণে না থাকায় বিষাক্তও নয়। ডিমের ভেতরেও এটি জমিয়ে রাখা যায়, যেমন পাখি আর সরীসৃপ রাখে।
ম্যালপিজিয়ান নালিকায় মূত্র তৈরির প্রধান চালিকাশক্তি কী?
ধাপ ৭: সহায়ক রেচন
ম্যালপিজিয়ান নালিকা ছাড়াও কয়েকটি অংশ বর্জ্য সরাতে সাহায্য করে:
- চর্বিদেহের ইউরেট কোষ (urate cells of the fat body): ইউরিক অ্যাসিড কেলাস হিসেবে জমিয়ে রাখে। একে বলে সঞ্চয়ী রেচন (storage excretion)।
- নেফ্রোসাইট বা পেরিকার্ডিয়াল কোষ (nephrocytes / pericardial cells): হৃৎপিণ্ডের পাশে থাকে। হিমোলিম্ফ থেকে বড় অণু আর বর্জ্য টেনে নেয়।
- কিউটিকল (cuticle): কিছু বর্জ্য খোলসে জমা থাকে, যা খোলস বদলের (moulting) সময় ঝরে যায়।
এবার নিজে করে দেখো
তিনটি ট্যাবে কাজ। মোজাইক ট্যাবে দৃশ্য বেছে নাও, ওমাটিডিয়ার সংখ্যা 100 থেকে 10,000 পর্যন্ত বাড়াও, আর অ্যাপোজিশন/সুপারপজিশন ও দিন/আবছা আলো বদলাও। প্রতিবার “খাতায় তোলো” চাপো। পাখির দৃশ্যে পাখি ছেড়ে লাফের কারণ খুঁজে বের করো। লেবেল ট্যাবে ওমাটিডিয়ামের 8টি অংশ চেনো। রেচন ট্যাবে ইউরিক অ্যাসিডের পথ ক্রমানুসারে ট্যাপ করো।
ঘাসফড়িং-এর চোখে দেখো
Ommatidia view — compound-eye mosaic, ommatidium labels, excretion traceপর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)
মোজাইক ট্যাবে “খাতায় তোলো” চাপলে দৃশ্য, ওমাটিডিয়া সংখ্যা আর ছবির মিল এখানে জমা হবে।
চ্যালেঞ্জ (challenges)
0/5- ঘাসের দৃশ্যে (অ্যাপোজিশন, দিন) ওমাটিডিয়া বাড়াও — যে সংখ্যায় পাতাটা চেনা যায়, সেটি খাতায় তোলো।
- পাখির দৃশ্যে পাখি ছাড়ো, তারপর বলো — ছায়া এগিয়ে এলে ঘাসফড়িং লাফ দেয় কেন?
- আবছা আলোয় (dim light) অ্যাপোজিশন আর সুপারপজিশন দুটোই দেখো — তুলনা করো। (0 / 2)
- ওমাটিডিয়ামের 8টি অংশ চিহ্নিত করো (লেবেল ট্যাব)। (0 / 8)
- ইউরিক অ্যাসিডের পথ খোঁজো: হিমোলিম্ফ থেকে মলদানা পর্যন্ত (রেচন ট্যাব)। (0 / 6)
বই পড়ার সময় সাবধান: পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে।
- “দিনে মোজাইক, সন্ধ্যায় সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব” (পৃ. 53; সারসংক্ষেপ 27–28): ঘাসফড়িং (Acrididae)-এর চোখ অ্যাপোজিশন ধরনের। আবছা আলোয় রঞ্জক সরে আর র্যাবডোম মোটা হয়। ছবি একটু উজ্জ্বল কিন্তু ঝাপসা হয়, তবে আসল সুপারপজিশন অপটিক্স (স্বচ্ছ অঞ্চল) তৈরি হয় না। সুপারপজিশন চোখ থাকে মথ ও কিছু গুবরেপোকার (Land ও Nilsson, Animal Eyes, 2012)। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: দিনে মোজাইক, রাতে সুপারপজিশন
- “প্রত্যেক ম্যালপিজিয়ান নালিকা … এক মিলিমিটার ব্যাসযুক্ত” (পৃ. 50): আসল ব্যাস প্রায় 30–100 µm। অর্থাৎ বইয়ের মান 10–33 গুণ বেশি (Chapman 2013)।
- “পুরুষ ঘাসফড়িং-এর মাশরুম গ্রন্থিতে ইউরিকোজ গ্রন্থি” (পৃ. 50): মাশরুম-আকৃতির আনুষঙ্গিক গ্রন্থির ইউরিকোজ গ্রন্থি তেলাপোকার (Periplaneta) বৈশিষ্ট্য। ঘাসফড়িং-এর ক্ষেত্রে এটা লিখো না।
- “প্রায় দুহাজার ওমাটিডিয়া” (পৃ. 52): সংখ্যাটা প্রজাতি ও বয়সভেদে আলাদা। পূর্ণবয়স্ক পঙ্গপালে প্রতি চোখে কয়েক হাজার, মোটামুটি 6,000–9,000 (আনুমানিক)।
- MCQ: “ওমাটিডিয়ামের কোন অংশ আলো প্রবেশে সাহায্য করে?” উত্তরমালায় দেওয়া আছে ক্রিস্টালাইন কোন। আলো আসলে কর্নিয়া দিয়ে ঢোকে, কোন তা ফোকাস করে র্যাবডোমে পাঠায়। প্রশ্নে “আলো কেন্দ্রীভূত করে” থাকলে উত্তর কোন।
ঘরে বসে পরীক্ষা: স্ট্র-এর পুঞ্জাক্ষি
প্রায় 50টি প্লাস্টিক বা কাগজের স্ট্র (drinking straw) এক মুঠো করে রাবার ব্যান্ড বা টেপ দিয়ে বাঁধো। প্রতিটি স্ট্র যেন একটি ওমাটিডিয়াম।
- গুচ্ছটা এক চোখে ধরে জানালা বা একটা বড় ছবির দিকে তাকাও। প্রতিটি স্ট্র ছবির কতটুকু দেখায়? পুরো ছবিটা কি মোজাইকের মতো লাগে?
- সরু স্ট্র আর মোটা স্ট্র দিয়ে আলাদা গুচ্ছ বানিয়ে তুলনা করো। কোনটায় খুঁটিনাটি বেশি দেখা যায়? (বেশি, সরু “ওমাটিডিয়া” = বেশি স্পষ্ট।)
- কেউ তোমার সামনে দিয়ে হাত নাড়ুক। স্থির জিনিসের চেয়ে নড়াচড়া কি বেশি চোখে পড়ে?
নিরাপত্তা: স্ট্র দিয়ে কখনো সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাবে না। গুচ্ছটা চোখে চেপে ধরবে না, চোখ থেকে একটু দূরে রাখো।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
১. (জ্ঞান) ওমাটিডিয়াম কী? একটি ওমাটিডিয়ামের চিহ্নিত চিত্র আঁকো।
উত্তর দেখো
পুঞ্জাক্ষির প্রতিটি গাঠনিক ও কার্যিক একককে ওমাটিডিয়াম বলে। বাইরে থেকে ভেতরে আঁকো ও চিহ্নিত করো: কর্নিয়া → 2টি কর্নিয়াজেন কোষ → 4টি কোন কোষে তৈরি ক্রিস্টালাইন কোন। কোনের দুপাশে প্রাথমিক রঞ্জক কোষ। তার নিচে 8টি রেটিনুলার কোষ, মাঝে র্যাবডোম, চারপাশে গৌণ রঞ্জক কোষ। সবশেষে ভিত্তিপর্দা ও স্নায়ুতন্তু। সিমের লেবেল ট্যাবের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নাও।
২. (অনুধাবন) মোজাইক ও সুপারপজিশন প্রতিবিম্বের পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
মোজাইক বা অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্বে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম রঞ্জকে আলাদা করা, তাই প্রতিটি র্যাবডোম শুধু নিজের ফ্যাসেটের আলো পায়। ছবি টুকরো টুকরো জোড়া, তুলনামূলক স্পষ্ট, কিন্তু উজ্জ্বল আলো লাগে। এই চোখ দিনচর পতঙ্গের, যেমন ঘাসফড়িং। সুপারপজিশন প্রতিবিম্বে কোন আর র্যাবডোমের মাঝে স্বচ্ছ অঞ্চল থাকে। অনেক ফ্যাসেটের আলো একটি র্যাবডোমে মেলে, তাই ছবি উজ্জ্বল কিন্তু কম স্পষ্ট। এই চোখ নিশাচর মথের। বোর্ড পরীক্ষায় “ঘাসফড়িং দিনে মোজাইক, রাতে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব দেখে” লিখলে নম্বর পাবে। তবে জেনে রাখো, ঘাসফড়িং আসলে শুধু রঞ্জক সরিয়ে আবছা আলোয় মানিয়ে নেয়।
৩. (প্রয়োগ, গাণিতিক) বইয়ে ম্যালপিজিয়ান নালিকার ব্যাস 1 mm লেখা। আসল ব্যাস 30–100 µm হলে বইয়ের মান কত গুণ বেশি?
উত্তর দেখো
1 mm = 1000 µm। তাই থেকে । বইয়ের মান 10–33 গুণ বেশি। এত সরু বলেই 100–250টি নালিকা মিলে বিশাল তল তৈরি করে, যা দিয়ে হিমোলিম্ফ দ্রুত পরিষ্কার হয়।
৪. (অনুধাবন) ঘাসফড়িং-এর রেচন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখো
ম্যালপিজিয়ান নালিকার বন্ধ প্রান্ত হিমোলিম্ফ থেকে সক্রিয়ভাবে K⁺ ক্ষরণ করে। Cl⁻ ও পানি পিছু নেয়, সঙ্গে আসে ইউরেট ও অন্য বর্জ্য। এই প্রাথমিক মূত্র নালিকা বেয়ে মধ্য-পশ্চাদন্ত্রের সংযোগে ইলিয়ামে পড়ে। মলাশয়ের রেক্টাল প্যাড পানি ও আয়ন হিমোলিম্ফে ফেরত নেয়। ইউরেট অদ্রবণীয় ইউরিক অ্যাসিডের কেলাস হয়ে শুকনো মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। সহায়ক রেচনে কাজ করে চর্বিদেহের ইউরেট কোষ, নেফ্রোসাইট আর খোলস।
৫. (উচ্চতর দক্ষতা) স্থলচর পতঙ্গ অ্যামোনিয়ার বদলে ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করে কেন? ইউরিক অ্যাসিডে নাইট্রোজেনের শতকরা পরিমাণ নির্ণয় করো।
উত্তর দেখো
অ্যামোনিয়া খুব বিষাক্ত, তাই প্রচুর পানিতে পাতলা করে বের করতে হয়। স্থলচর পতঙ্গের অত পানি নেই। ইউরিক অ্যাসিড প্রায় অদ্রবণীয় (~0.06 g/L) ও কম বিষাক্ত, তাই কেলাস হিসেবে প্রায় পানি ছাড়াই বের করা যায়। এতে পানি সংরক্ষিত থাকে। প্রতি নাইট্রোজেনে হাইড্রোজেনও সবচেয়ে কম লাগে (1টি, যেখানে অ্যামোনিয়ায় 3টি)। নাইট্রোজেনের শতকরা পরিমাণ (C₅H₄N₄O₃, M = 168.11): ।
৬. (বহুনির্বাচনি) ঘাসফড়িং-এর শ্রবণ অঙ্গ কোনটি? (ক) শুঙ্গ (খ) টিমপেনাম (গ) সার্কাস (ঘ) সরলাক্ষি
উত্তর দেখো
(খ) টিমপেনাম। এটি উদরের 1ম খণ্ডকের দুপাশে থাকে। শুঙ্গ ঘ্রাণ ও স্পর্শ, সার্কাস স্পর্শ ও বাতাসের কম্পন, আর সরলাক্ষি আলোর তীব্রতা টের পায়।