পাঠ ১০ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.২ (প্রজনন, রূপান্তর)

ঘাসফড়িং-এর প্রজনন ও অসম্পূর্ণ রূপান্তরGrasshopper reproduction & incomplete metamorphosis

বর্ষার পরে মাঠের পাশে কোনো গাছের ডালে হঠাৎ দেখবে একটা আস্ত ঘাসফড়িং — চোখ, পা, শুঁড় সব আছে, কিন্তু ভেতরটা ফাঁপা, হালকা, পিঠ বরাবর ফাটা। কে রেখে গেল এটা, আর কেন? অনুমান করো, তারপর সময় টেনে দেখো:

কে রেখে গেল এই খালি খোলস? আগে অনুমান করো:
একটি উত্তর বেছে নাও, তারপর স্লাইডার ডানে টানো।

উত্তর: একটি নিম্ফ (nymph) — ঘাসফড়িং-এর বাচ্চা — বড় হওয়ার জন্য তার পুরনো খোলস ফেলে গেছে। এই পাঠে ঘাসফড়িং-এর পুরো জীবনের গল্প — জন্ম কোথা থেকে, আর বাচ্চা কীভাবে ধাপে ধাপে বড় হয়:

  1. একলিঙ্গ প্রাণী (dioecious) ও লিঙ্গভেদ (sexual dimorphism)
  2. পুং জননতন্ত্র (male reproductive system)
  3. স্ত্রী জননতন্ত্র (female reproductive system)
  4. মিলন (copulation), নিষেক (fertilisation) ও মাটিতে ডিমের থলি (egg pod)
  5. ডায়াপজ (diapause) — ডিমের সুপ্ত দশা
  6. রূপান্তরের তিন ধরন (types of metamorphosis)
  7. খোলস বদল (moulting) ও তার হরমোন
  8. নিম্ফ বনাম পূর্ণাঙ্গ (nymph vs adult) ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

ধাপ ১: নারী-পুরুষ আলাদা

ঘাসফড়িং একলিঙ্গ (dioecious / unisexual) — একটি প্রাণী হয় পুরুষ, নয় স্ত্রী (হাইড্রার মতো একই দেহে দুই জননাঙ্গ নয়)। আর বাইরে থেকেই দুজনকে আলাদা করা যায় — একে বলে লিঙ্গভেদ (sexual dimorphism):

স্ত্রী (female) — বড়; আগা সূঁচালো, ডিম্বাধারের (ovipositor) শক্ত কপাটিকা দেখা যায়
পুরুষ (male) — ছোট; আগা ভোঁতা, উপরে বাঁকা নৌকার মতো সাবজেনিটাল প্লেট (subgenital plate)
বৈশিষ্ট্যস্ত্রী (female)পুরুষ (male)
আকারসাধারণত বড়সাধারণত ছোট
উদরের আগাসূঁচালো, শক্ত কপাটিকাওয়ালা ডিম্বাধার (ovipositor)ভোঁতা, উপরে বাঁকা নৌকার মতো সাবজেনিটাল প্লেট (subgenital plate)
সারকি (cerci)আছেআছে — তাই সারকি দিয়ে লিঙ্গ চেনা যায় না
নিজে যাচাই করো

একটি ঘাসফড়িং স্ত্রী না পুরুষ, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে কী দেখে বলবে?

ধাপ ২: পুং জননতন্ত্র — শুক্রাণুর পথ

পুরুষের উদরের ভেতরে, পৌষ্টিকনালির উপরে:

ছবির প্রতিটি অঙ্গে ট্যাপ করো (মাথা বাঁ দিকে, উপর থেকে দেখা, পৌষ্টিকনালি সরিয়ে):

← মাথা
প্রতিটি অঙ্গে ট্যাপ করো (6টি)
গোলাপি ফলিকলগুলো থেকে শুরু করে পেছনের দিকে শুক্রাণুর পথ ধরে ট্যাপ করে এগোও।
নিজে যাচাই করো

শুক্রাণু শুক্রাশয় থেকে বাইরে যাওয়ার সঠিক ক্রম কোনটি?

ধাপ ৩: স্ত্রী জননতন্ত্র — ডিমের পথ

← মাথা
প্রতিটি অঙ্গে ট্যাপ করো (6টি)
ডিম্বনালিকা থেকে শুরু করে ডিমের পথ ধরে পেছনে এগোও — শেষে ডিম্বাধার।
নিজে যাচাই করো

মিলনের কয়েক দিন পরে ডিম পাড়লেও ডিম নিষিক্ত হয় কীভাবে?

ধাপ ৪: মিলন, নিষেক আর মাটির নিচে ডিমের থলি

মিলন (copulation): পুরুষ স্ত্রীর পিঠে চড়ে নিজের উদরের আগা বাঁকিয়ে স্ত্রীর উদরের আগার নিচে আনে। শুক্রাণু সরাসরি তরলে নয়, একটি মোড়কে — স্পার্মাটোফোর — স্ত্রীর জনন প্রকোষ্ঠে দেওয়া হয়। মিলন কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে। শুক্রাণু শুক্রাধারে জমা হয়; ডিম পাড়ার সময় নিষেক (fertilisation) হয় — শরীরের ভেতরে, তাই অন্তঃনিষেক (internal fertilisation)।

ডিম পাড়া (oviposition): স্ত্রী মাটিতে গর্ত খুঁড়ে একসাথে অনেকগুলো ডিম পাড়ে আর ফেনায় মুড়ে দেয়। প্রজাতিভেদে একটি থলিতে প্রায় 20 থেকে 100-এর বেশি ডিম (মরু পঙ্গপালের দলবদ্ধ স্ত্রী প্রায় 60–80টি, FAO); একটি স্ত্রী কয়েকটি থলি পাড়ে। ধাপে ধাপে দেখো:

মাটির প্রস্থচ্ছেদ (soil section) · ছবিতে 12টি ডিম, আসলে প্রায় 20–100+
2. খোঁড়া
3. ডিম পাড়া
4. ফেনা
5. চলে যাওয়া
নরম মাটি খোঁজা (choose site) — মিলনের পর স্ত্রী ঘাসফড়িং নরম, একটু ভেজা মাটি খোঁজে — শুকনো মাটিতে ডিম পানি হারিয়ে মরে যায়।
নিজে যাচাই করো

ডিমের থলির উপরের ফেনার ছিপির (froth plug) কাজ কী?

ধাপ ৫: ডায়াপজ — ডিমের ভেতরে অপেক্ষা

অনেক ঘাসফড়িং-এর ডিম পাড়ার পরেই ফোটে না। ভ্রূণ (embryo) কিছুটা বেড়ে থেমে যায়, আর শুকনো বা শীতের মৌসুম পার করে, তারপর বর্ষায় বা বসন্তে আবার বাড়ে। একে বলে ডায়াপজ (diapause) — ভ্রূণের আগে থেকে নির্ধারিত (programmed) বৃদ্ধি-বিরতি। শুধু ঠান্ডায় ধীর হয়ে যাওয়া নয়: খারাপ মৌসুম আসার আগেই দিনের দৈর্ঘ্য বা তাপমাত্রার সংকেত পেয়ে ভ্রূণ থামে, আর মাঝে ভালো আবহাওয়া এলেও সহজে ছাড়ে না। ফলে নিম্ফরা ঠিক এমন সময় ফোটে যখন কচি ঘাস প্রচুর।

নিজে যাচাই করো

ডায়াপজ আর সাধারণ ‘ঠান্ডায় ধীর হওয়া’-র মূল পার্থক্য কী?

ধাপ ৬: রূপান্তর — তিন রকম

ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পথে চেহারার বদলকে বলে রূপান্তর (metamorphosis)। পতঙ্গে তিন রকম:

১. অ-রূপান্তর (ametabolous) — সিলভারফিশডিম (egg)ছোট্ট বাচ্চা (young)পূর্ণাঙ্গ (adult)২. অসম্পূর্ণ (incomplete / hemimetabolous) — ঘাসফড়িংডিম (egg)নিম্ফ (nymph)পূর্ণাঙ্গ (adult)৩. সম্পূর্ণ (complete / holometabolous) — প্রজাপতিডিম (egg)লার্ভা (larva)পিউপা (pupa)পূর্ণাঙ্গ (adult)
ধরনজীবনচক্রবাচ্চা দেখতেউদাহরণ
অ-রূপান্তর (ametabolous)ডিম → বাচ্চা → পূর্ণাঙ্গছোট্ট পূর্ণাঙ্গের মতো, ডানা কখনো হয় নাসিলভারফিশ
অসম্পূর্ণ (incomplete / hemimetabolous)ডিম → নিম্ফ → পূর্ণাঙ্গপূর্ণাঙ্গের মতো, কিন্তু ছোট, ডানার বদলে ডানার প্যাড (wing pads)ঘাসফড়িং, তেলাপোকা, ফড়িং
সম্পূর্ণ (complete / holometabolous)ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গএকদম আলাদা (শুঁয়োপোকা, মশার লার্ভা)প্রজাপতি, মশা, মৌমাছি, গুবরে পোকা

ঘাসফড়িং-এ নিম্ফ আর পূর্ণাঙ্গ একই জায়গায় থাকে, একই ঘাস খায় — এই ধরনটিকে আলাদা করে পরোমেটাবোলাস (paurometabolous) বলা হয়। ফড়িং (dragonfly)-এর বাচ্চা পানিতে থাকে, তাকে নায়াড (naiad) বলে — সেটিও অসম্পূর্ণ রূপান্তর। পিউপা দশা নেই বলেই একে “অসম্পূর্ণ” বলা হয়।

নিজে যাচাই করো

ঘাসফড়িং-এর রূপান্তরকে ‘অসম্পূর্ণ’ বলা হয় কেন?

ধাপ ৭: খোলস বদল — কে বলে কখন, কে বলে কী হবে

ঘাসফড়িং-এর দেহ শক্ত কিউটিকল (cuticle)-এ মোড়া — বহিঃকঙ্কাল (exoskeleton)। কিউটিকল টানলে বাড়ে না, তাই বড় হতে হলে মাঝে মাঝে পুরনোটা ফেলে দিতে হয়: খোলস বদল (moulting)। ধাপগুলো:

  1. পুরনো কিউটিকল ত্বক (epidermis) থেকে আলগা হয়; নিচে নতুন, ভাঁজ করা নরম কিউটিকল তৈরি হয়।
  2. একডাইসিস (ecdysis) — বাতাস গিলে আর হিমোলিম্ফের চাপে দেহ ফোলে; পুরনো খোলস মাথা ও বক্ষের পিঠ বরাবর ফাটে, প্রাণী বেরিয়ে আসে। পড়ে থাকা খোলস: এক্সুভিয়া (exuvia)। ট্রাকিয়া, অগ্র- ও পশ্চাৎ-পৌষ্টিকনালির আস্তরণও এর সাথে বেরোয়।
  3. নতুন কিউটিকল ফুলে বড় হয়, তারপর কয়েক ঘণ্টায় শক্ত ও রঙিন হয় (sclerotisation)।

দুটি খোলস বদলের মাঝের দশাকে বলে ইনস্টার (instar) বা নিম্ফ দশা। ঘাসফড়িং-এ সাধারণত 5টি নিম্ফ দশা (প্রজাতি, লিঙ্গ ও পরিবেশভেদে 4–6)। মানে ডিম ফোটার পর 5 বার খোলস বদল — 4 বার নিম্ফ থেকে নিম্ফ, শেষ বার নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ। পূর্ণাঙ্গ আর খোলস বদলায় না।

হরমোন দুটি প্রশ্নের উত্তর দেয়:

সংক্ষেপে: একডাইসোন খোলস বদল ঘটায়, JH রূপান্তর ঠেকিয়ে রাখে। নিজে চালিয়ে দেখো:

মস্তিষ্ক (brain)PTTH ছাড়েপ্রোথোরাসিক গ্রন্থিএকডাইসোন বন্ধকর্পোরা অ্যালাটাJH বেশি (high)নিম্ফ দশা 1 (instar 1)
একডাইসোন চালু করো আর JH বেশি রেখে খোলস বদলাও — কী বেরোয়? তারপর JH কমিয়ে আবার চেষ্টা করো। (আকার Dyar-এর নিয়মে, উদাহরণমাত্র — illustrative)

আকার কীভাবে বাড়ে? প্রতি খোলস বদলে শক্ত অংশের মাপ (যেমন মাথার চওড়া) প্রায় একই গুণে বাড়ে — Dyar-এর নিয়ম (Dyar’s rule):

Ln+1=k Ln,Ln=L1 k n−1,k≈1.2–1.4L_{n+1} = k\,L_n, \qquad L_n = L_1\,k^{\,n-1}, \qquad k \approx 1.2\text{–}1.4

ধরা যাক k=1.3k = 1.3 আর প্রথম দশার দৈর্ঘ্য 12 mm (উদাহরণ)। তাহলে পঞ্চম দশা 12×1.34≈34.312 \times 1.3^4 \approx 34.3 mm, পূর্ণাঙ্গ 12×1.35≈44.612 \times 1.3^5 \approx 44.6 mm। কিন্তু ডানার প্যাড দেহের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ে, আর শেষের দুই দশায় প্যাড উল্টে পিঠের উপর উঠে যায় — পেছনের ডানার প্যাড সামনেরটাকে ঢেকে রাখে। শেষ খোলস বদলে ডানা স্বাভাবিক অবস্থানে আসে।

নিজে যাচাই করো

একটি নিম্ফের কর্পোরা অ্যালাটা কেটে বাদ দিলে পরের খোলস বদলে কী হবে?

ধাপ ৮: নিম্ফ বনাম পূর্ণাঙ্গ, আর ঘাসফড়িং আমাদের কী করে

বৈশিষ্ট্যনিম্ফ (nymph)পূর্ণাঙ্গ (adult / imago)
আকারছোট, প্রতি দশায় বাড়েসবচেয়ে বড়, আর বাড়ে না
ডানাশুধু ডানার প্যাড — উড়তে পারে নাপূর্ণ দুই জোড়া ডানা, ওড়ে
জননাঙ্গঅপরিণতপরিণত — প্রজনন করে
খোলস বদলহয়হয় না
খাদ্য ও বাসস্থানপূর্ণাঙ্গের মতোই (ঘাস, পাতা)একই
মাথা দেহের তুলনায়বড় দেখায়তুলনায় ছোট

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (economic importance)

নিজে যাচাই করো

পঙ্গপালের প্রাদুর্ভাব দমনে নিম্ফ দশায় (হপার ব্যান্ড) আঘাত করা কেন সুবিধাজনক?

এবার নিজে করে দেখো

▶ চালাও চাপো বা সময়ের স্লাইডার টেনে ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ পর্যন্ত যাও। নিচের mm স্কেলে দেহ আর ডানার প্যাড মাপো; প্রতিটি নতুন দশা খাতায় নিজে থেকে লেখা হবে — পরপর দুই দশার দৈর্ঘ্যের অনুপাত বের করে Dyar-এর গুণক যাচাই করো। তাপমাত্রা বদলাও, ডায়াপজ চালু করো, JH সবসময় বেশি রেখে দেখো কী হয়। সময়ের হিসাব ও মাপ উদাহরণমাত্র (illustrative) — ধরন সত্যি, মান কোনো এক প্রজাতির মাপা নয়।

ঘাসফড়িং-এর জীবনচক্র

Grasshopper life cycle — illustrative model
↗
ডিমের থলি (egg pod)ভেতরে ভ্রূণ (embryo) বাড়ছে0102030405060mmডিম12345পূর্ণাঙ্গদিন 084 দিন
অথবা নিচের স্লাইডারে সময় টানো
দশা (stage)ডিম
দেহের দৈর্ঘ্য (length)—
ডানার প্যাড (wing pad)—
পূর্ণাঙ্গ হবে (adult on day)72
মডেল (illustrative): ডিমে 220 ও প্রতি নিম্ফ দশায় 100 ডিগ্রি-দিন (°C·day), 15 °C-এর নিচে বৃদ্ধি নেই; প্রতি খোলস বদলে দৈর্ঘ্য ×1.3 (Dyar-এর নিয়ম)। সময়গুলো FAO-র মরু পঙ্গপালের সীমার (ডিম 10–65 দিন, নিম্ফ 24–95 দিন) ভেতরে রাখা; একক কোনো প্রজাতির মাপ নয়।

ডানার প্যাড কখন উল্টায়? (wing-pad flip)

সময় টেনে নিম্ফ দশাগুলো দেখো, তারপর বেছে নাও — প্রথম কোন দশায়?

রূপান্তর সাজাও (sort by metamorphosis)

একটি পতঙ্গে ট্যাপ করো, তারপর বাক্সে।

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

সময় চালালে প্রতিটি নতুন দশা এখানে নিজে থেকেই লেখা হবে।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/5
  1. ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হতে 40 দিনের কম লাগুক — তাপমাত্রা বদলে চালিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যন্ত যাও।
  2. ডিমকে সুপ্ত দশায় (diapause) পাঠাও আর সেই দশাটা চালিয়ে দেখো।
  3. সময় টেনে প্রতিটি নিম্ফ দশা দেখো: কোন দশায় ডানার প্যাড প্রথম উল্টে পিঠের উপর ওঠে? নিচের কার্ডে উত্তর দাও।
  4. এমন “দৈত্য নিম্ফ” বানাও যা কখনো পূর্ণাঙ্গ হয় না — নিম্ফ দশা 7 পর্যন্ত চালাও।
  5. নিচের ৮টি পতঙ্গকে তিন রকম রূপান্তরে সাজাও।

বই পড়ার সময় সাবধান — এই অংশে মনে রাখার মতো কয়েকটি সূক্ষ্ম জায়গা:

  • নিম্ফ দশার সংখ্যা: বইয়ের ছবিতে 5টি নিম্ফ — এটা সাধারণত ঠিক, কিন্তু নির্দিষ্ট নয়; প্রজাতি, লিঙ্গ ও পরিবেশভেদে 4–6 (একা-চলা মরু পঙ্গপালে কখনো 6)। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: 5টি নিম্ফ দশা।
  • “৫ বার খোলস বদল” আর “৫টি নিম্ফ দশা” একই কথা: ডিম ফোটার পর 5 বার খোলস বদল — শেষটি নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ। “৬ বার” বা “৪ বার” লিখে ফেলো না।
  • অনেক নোটে লেখা “জুভেনাইল হরমোন রূপান্তর ঘটায়” — উল্টো। খোলস বদল ঘটায় একডাইসোন; JH রূপান্তর ঠেকিয়ে নিম্ফ রাখে।
  • “নিম্ফের ডানা থাকে না” — পুরোপুরি ঠিক নয়: ডানার প্যাড থাকে, প্রতি দশায় বাড়ে, শুধু উড়তে পারে না।
  • ফড়িং (dragonfly) আর ঘাসফড়িং (grasshopper) আলাদা বর্গের পতঙ্গ; দুজনেরই অসম্পূর্ণ রূপান্তর, তবে ফড়িং-এর বাচ্চা পানিতে থাকে (নায়াড)।

ঘরে বসে পরীক্ষা

খোলস শিকার। বর্ষায় (জুন–সেপ্টেম্বর) বাড়ির আশেপাশের ঝোপ, ঘাসের ডগা, গাছের গুঁড়ি বা দেয়ালে খুঁজে দেখো — ঘাসফড়িং বা ঝিঁঝিঁপোকা/সিকাডা (cicada)-র ফেলে যাওয়া খোলস (exuvia) পাবে। একটি সাদা কাগজে রেখে দেখো: (১) পিঠের কোথায় ফাটল; (২) ভেতরে সাদা সুতোর মতো কিছু আছে কি না (ওগুলো ট্রাকিয়ার পুরনো আস্তরণ); (৩) স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপো। কয়েকটি খোলস পেলে আকার অনুযায়ী সাজাও — দৈর্ঘ্যগুলো কি মোটামুটি একই অনুপাতে লাফিয়ে বাড়ে? ডানার প্যাড চোখে পড়ে কি? খাতায় ছবি এঁকে রাখো।

নিরাপত্তা: শুধু খালি খোলস তুলবে, জীবিত পতঙ্গ ধরবে না বা কষ্ট দেবে না। খোলস মুখে দেবে না, খাবে না। আকন্দ ফড়িং (Poekilocerus) খালি হাতে ছোঁবে না — বিষাক্ত ফেনা ছিটাতে পারে। কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (জ্ঞান) ইনস্টার (instar) ও ডায়াপজ (diapause) কাকে বলে?

উত্তর দেখো

ইনস্টার: পতঙ্গের দুটি পরপর খোলস বদলের মাঝের দশা; ঘাসফড়িং-এ ডিম ফোটা থেকে প্রথম খোলস বদল পর্যন্ত প্রথম ইনস্টার। সাধারণত 5টি নিম্ফ ইনস্টার। ডায়াপজ: প্রতিকূল মৌসুম পার করার জন্য হরমোন-নিয়ন্ত্রিত, আগে থেকে নির্ধারিত বৃদ্ধি-বিরতি; ঘাসফড়িং-এ সাধারণত ডিমের ভ্রূণ দশায় (embryonic diapause)।

২. (তুলনা) অসম্পূর্ণ ও সম্পূর্ণ রূপান্তরের চারটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
অসম্পূর্ণ (ঘাসফড়িং)সম্পূর্ণ (প্রজাপতি)
ডিম → নিম্ফ → পূর্ণাঙ্গ (3 দশা)ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গ (4 দশা)
পিউপা নেইপিউপা আছে
বাচ্চা (নিম্ফ) দেখতে পূর্ণাঙ্গের মতোবাচ্চা (লার্ভা) সম্পূর্ণ আলাদা
ডানা বাইরে প্যাড হিসেবে ধীরে বাড়েডানা ভেতরে লুকিয়ে বাড়ে, পিউপায় গড়ে ওঠে
নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গের খাদ্য-বাসস্থান সাধারণত একইলার্ভা ও পূর্ণাঙ্গের খাদ্য-বাসস্থান প্রায়ই আলাদা

৩. (বহুনির্বাচনি) ঘাসফড়িং-এর খোলস বদল শুরু করে কোন হরমোন, আর তা কোথা থেকে আসে? (ক) জুভেনাইল হরমোন — কর্পোরা অ্যালাটা (খ) একডাইসোন — প্রোথোরাসিক গ্রন্থি (গ) একডাইসোন — কর্পোরা অ্যালাটা (ঘ) থাইরক্সিন — থাইরয়েড

উত্তর দেখো

(খ) — মস্তিষ্কের PTTH-এর সংকেতে প্রোথোরাসিক গ্রন্থি একডাইসোন ছাড়ে, তাতেই খোলস বদল শুরু। JH (কর্পোরা অ্যালাটা) ঠিক করে খোলস বদলের পর নিম্ফ হবে না পূর্ণাঙ্গ।

৪. (প্রয়োগ, গাণিতিক) একটি ঘাসফড়িং-এর প্রথম নিম্ফ দশায় মাথার চওড়া 1.0 mm; Dyar-এর গুণক 1.3। পঞ্চম দশায় মাথার চওড়া কত? একটি খোলসের মাথা 2.2 mm হলে সেটি কোন দশার?

উত্তর দেখো

L5=1.0×1.34=2.86L_5 = 1.0 \times 1.3^{4} = 2.86 mm। Ln=L1kn−1L_n = L_1 k^{n-1} থেকে n=1+log⁡(2.2/1.0)log⁡1.3=1+0.3420.114≈4.0n = 1 + \dfrac{\log(2.2/1.0)}{\log 1.3} = 1 + \dfrac{0.342}{0.114} \approx 4.0 — অর্থাৎ চতুর্থ দশা (1.33=2.1971.3^3 = 2.197 mm)।

৫. (অনুধাবন) একই প্রজাতির ঘাসফড়িং-এর ডিম 30 °C-এ 35 °C-এর চেয়ে দেরিতে ফোটে কেন? ডিগ্রি-দিন মডেলে ডিমের দরকার 220 °C·day, ভিত্তি তাপমাত্রা 15 °C হলে দুই তাপমাত্রায় সময় বের করো।

উত্তর দেখো

পতঙ্গ শীতল রক্তের (ectotherm) — দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার পরিবেশের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। ভিত্তির উপরের প্রতিটি ডিগ্রি প্রতিদিন কিছুটা বৃদ্ধি দেয়:

t=DDT−T0:t30=22030−15≈14.7 d,t35=22035−15=11 dt = \frac{\text{DD}}{T - T_0}: \quad t_{30} = \frac{220}{30 - 15} \approx 14.7\ \text{d}, \qquad t_{35} = \frac{220}{35 - 15} = 11\ \text{d}

(এটি সরল মডেল; খুব বেশি তাপে বৃদ্ধি আর বাড়ে না, বরং ক্ষতি হয়।)

৬. (সৃজনশীল ঘ) “ঘাসফড়িং কৃষির শত্রু, আবার প্রকৃতির বন্ধু” — জীবনচক্রের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখো

শত্রু: (১) নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ দুই দশাই একই ফসলের পাতা খায় (অসম্পূর্ণ রূপান্তর), তাই পুরো জীবন জুড়ে ক্ষতি। (২) একটি স্ত্রী কয়েকটি থলিতে শত শত ডিম পাড়ে; গরম ও ভেজা মাটিতে অল্প দিনে ফোটে, প্রজন্ম দ্রুত বাড়ে। (৩) পঙ্গপাল দলবদ্ধ হয়ে ঝাঁক বানায়; একেকটি দিনে নিজের ওজনের সমান খায়, ঝাঁক শত কিলোমিটার উড়ে ফসল ধ্বংস করে (2019–2021 প্রাদুর্ভাব)। বন্ধু: (১) খাদ্যশৃঙ্খলে পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকির প্রধান খাবার; (২) ঘাস খেয়ে ও মল দিয়ে পুষ্টি মাটিতে ফেরায়; (৩) উচ্চ প্রোটিনের খাদ্য; (৪) হরমোন-গবেষণার মডেল। জীবনচক্র দিয়ে নিয়ন্ত্রণ: ডিমের থলি চাষ দিয়ে উল্টে রোদে শুকানো, ডানাহীন নিম্ফ (হপার) দশায় দমন — ঝাঁক তৈরির আগেই। তাই সিদ্ধান্ত: সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঘাসফড়িং বাস্তুতন্ত্রের দরকারি সদস্য; প্রাদুর্ভাব হলে ভয়ংকর শত্রু।