পাঠ ২ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.১ (নিডোসাইট)

নিডোসাইট ও নেমাটোসিস্ট: হাইড্রার হুলCnidocytes & nematocyst discharge

হাইড্রার চোখ নেই, দাঁত নেই, দ্রুত দৌড়াতেও পারে না — তবু নিজের চেয়ে বড় জলজ পোকা ধরে খায়। কীভাবে? নিচের ছোট্ট ক্রাস্টেশিয়ানটিকে কর্ষিকায় ছোঁয়াও, তারপর স্লো-মোশন ডায়াল ঘুরিয়ে আবার দেখো:

কর্ষিকা (tentacle)← শিকারে ট্যাপ করো
শিকারটি কর্ষিকার গা ঘেঁষে ভাসছে। ট্যাপ করে কর্ষিকায় ছোঁয়াও, তারপর লাল সুইটির দিকে চোখ রাখো।
আসল সময় ≈ 700 ns — চোখের এক পলকের প্রায় 142,857 ভাগের এক ভাগ (Nüchter et al. 2006)।

সাধারণ গতিতে কিছুই চোখে পড়ে না, কারণ পুরো আঘাতের প্রথম ধাপটি শেষ হয় প্রায় 700 ন্যানোসেকেন্ডে — জীবজগতের দ্রুততম ঘটনাগুলোর একটি। এই অস্ত্রটি হলো নিডোসাইট (cnidocyte) আর তার ভেতরের নেমাটোসিস্ট (nematocyst); এ থেকেই পর্বের নাম নিডারিয়া (Cnidaria, গ্রিক knide = বিছুটি)।

এই পাঠে ধাপে ধাপে এগোব:

  1. নিডোসাইট বনাম নেমাটোসিস্ট — কোষ আর তার ভেতরের ক্যাপসুল
  2. নেমাটোসিস্টের গঠন — নিডোসিল, অপারকুলাম, স্টাইলেট, সূত্রক
  3. হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্ট ও তাদের কাজ
  4. নিক্ষেপের কৌশল — 150 bar চাপ আর 700 ns
  5. একবারের অস্ত্র — প্রতিস্থাপন
  6. এবার নিজে করে দেখো — নিডোসাইট ট্রিগার ল্যাব

আগে জেনে নাও: হাইড্রার দ্বিস্তরী দেহ, বহিস্ত্বক (epidermis) আর ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (পাঠ ১)।

ধাপ ১: নিডোসাইট আর নেমাটোসিস্ট — এক নয়

হাইড্রার বহিস্ত্বকের (epidermis) ভেতরে ছড়িয়ে থাকা ছোট, গোল ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (interstitial cell) বহু-ক্ষমতাসম্পন্ন মূল কোষ (stem cell)। এদের একটি শাখা বিভাজিত হয়ে নিডোব্লাস্ট (cnidoblast / nematoblast) হয়, যা পরিণত হলে নিডোসাইট (cnidocyte) বা নেমাটোসাইট। প্রতিটি নিডোসাইটের ভেতরে গলজি বস্তু (Golgi) থেকে তৈরি একটি বিশাল অঙ্গাণু (organelle) — নেমাটোসিস্ট (nematocyst), যাকে বলে নিডা (cnida) বা হুল-থলি।

নিডোসাইট সবচেয়ে বেশি কর্ষিকায় (tentacle)। সেখানে একেকটি বড় পেশি-আবরণী কোষ (epitheliomuscular cell) নিজের গায়ে অনেকগুলো নিডোসাইট গেঁথে রাখে — একে বলে নিডোসাইট ব্যাটারি (battery cell); কর্ষিকার গায়ে এগুলো ছোট ছোট আঁচিলের মতো দেখায়। পাদচাকতিতে (basal disc) নিডোসাইট প্রায় থাকে না।

বিষয়নিডোসাইট (cnidocyte)নেমাটোসিস্ট (nematocyst)
কীএকটি জীবিত কোষকোষের ভেতরের ক্যাপসুল-অঙ্গাণু
আছেনিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম, নিডোসিলপ্রাচীর, ঢাকনা, প্যাঁচানো সূত্রক, ভেতরের তরল
উৎপত্তিইন্টারস্টিশিয়াল কোষ → নিডোব্লাস্টনিডোব্লাস্টের গলজি বস্তু থেকে
কাজউদ্দীপনা গ্রহণ ও নিক্ষেপ নিয়ন্ত্রণসূত্রক ছুড়ে বিঁধানো, পেঁচানো বা আটকানো
নিজে যাচাই করো

নেমাটোসিস্ট সম্পর্কে কোনটি সঠিক?

ধাপ ২: নেমাটোসিস্টের গঠন

হাইড্রার সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী নেমাটোসিস্ট স্টেনোটিল (stenotele) দিয়ে গঠন চেনা সহজ। নিচের ছবির যেকোনো অংশে ট্যাপ করো:

নিডোসিল(cnidocil)অপারকুলাম(operculum)স্টাইলেট(stylets)ক্যাপসুল(capsule)প্যাঁচানো সূত্রক(coiled tubule)নিউক্লিয়াস(nucleus)নিডোসাইট কোষ(cnidocyte)
ছবির যেকোনো অংশে বা লেবেলে ট্যাপ করো — নাম আর কাজ এখানে দেখাবে।
চেনা হয়েছে (explored): 0 / 7 · স্টেনোটিল (stenotele) ধরনের নেমাটোসিস্ট, মাপ অনুযায়ী নয় (not to scale)
নিজে যাচাই করো

নিডোসিল (cnidocil) আসলে কী?

ধাপ ৩: হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্ট

গোটা নিডারিয়া পর্বে প্রায় 30 ধরনের নেমাটোসিস্ট চেনা হয়েছে (Östman 2000), কিন্তু হাইড্রায় আছে মাত্র চারটি। কাজ অনুযায়ী এদের পুরোনো নামও বোর্ড পরীক্ষায় আসে:

আধুনিক নামপুরোনো নামসূত্রককাজ
স্টেনোটিল (stenotele)পেনিট্র্যান্ট (penetrant)খোলা মুখ; গোড়ায় 3টি স্টাইলেট ও কাঁটাশিকার ফুঁড়ে বিষ ঢালে; সবচেয়ে বড় (প্রায় 10–15 µm)
ডেসমোনিম (desmoneme)ভলভেন্ট (volvent)বন্ধ মুখ, কাঁটাহীন, প্যাঁচানোশিকারের রোম পেঁচিয়ে ধরে; সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি
হলোট্রিকাস আইসোরাইজা (holotrichous isorhiza)বড় গ্লুটিন্যান্ট (streptoline glutinant)খোলা মুখ, পুরোটা জুড়ে কাঁটাআঠালো; শিকার/শত্রুর গায়ে আটকে থাকে
অ্যাট্রিকাস আইসোরাইজা (atrichous isorhiza)ছোট গ্লুটিন্যান্ট (stereoline glutinant)খোলা মুখ, মসৃণআঠালো; চলনের সময় কর্ষিকা আটকে রাখে

প্রতিটির ছবি দেখো (নিক্ষেপের পরের অবস্থা) আর তার কাজের সঙ্গে মেলাও:

একটি নেমাটোসিস্ট ট্যাপ করো, তারপর তার কাজ বেছে নাও।
মিলেছে (matched): 0 / 4 · ছবিগুলো নিক্ষিপ্ত (discharged) অবস্থার, মাপ অনুযায়ী নয়
নিজে যাচাই করো

কোন নেমাটোসিস্টের সূত্রকের মুখ বন্ধ এবং যেটি শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে?

ধাপ ৪: নিক্ষেপের কৌশল — চাপ, ঝটকা আর পানি

নেমাটোসিস্ট আসলে একটি আগে থেকে টানটান করে রাখা স্প্রিং। ক্যাপসুলের ভেতরে পলি-γ-গ্লুটামেট আর আয়ন আগে থেকেই জমা থাকে (উদ্দীপনার সময় তৈরি হয় না)। এত দ্রবীভূত কণার কারণে অভিস্রবণ চাপ (osmotic pressure) প্রায়

P≈150 bar=15 MPaP \approx 150\ \text{bar} = 15\ \text{MPa}

— গাড়ির টায়ারের (~2 bar) প্রায় 75 গুণ। এই চাপে কোলাজেন-প্রাচীর রাবারের মতো টান টান হয়ে থাকে (Weber 1989)।

নিক্ষেপ হয় ধাপে ধাপে:

  1. ট্রিগার: নিডোসিলে স্পর্শ (যান্ত্রিক উদ্দীপনা) আর শিকারের দেহ থেকে আসা রাসায়নিক সংকেত — দুটি মিললে।
  2. অপারকুলাম খোলে।
  3. ঝটকা: টানটান প্রাচীর হঠাৎ সংকুচিত হয়ে দণ্ড ও স্টাইলেট ছুড়ে দেয়। Nüchter ও সহকর্মীরা (2006) উচ্চগতির ক্যামেরায় মেপেছেন: এই ধাপ লাগে প্রায় 700 ns700\ \text{ns}, ত্বরণ প্রায় 5.4×106 g5.4 \times 10^{6}\,g, আর স্টাইলেটের ডগায় চাপ প্রায় 7.7 GPa7.7\ \text{GPa} — শিকারের শক্ত খোলস ফুঁড়ে দেওয়ার মতো।
  4. পানি ঢোকে: খোলা ক্যাপসুলে অভিস্রবণে পানি ঢুকে বাকি সূত্রককে মোজার মতো উল্টে, ভেতর-বাহির করে (eversion) বাইরে ঠেলে দেয়।
  5. বিষ (venom) সূত্রক দিয়ে শিকারের দেহে ঢোকে — শিকার অবশ হয়।

চাপ বদলে নিজে নিক্ষেপ ঘটাও। (কম অ্যানিমেশন চালু থাকলে নম্বর-বোতামে ধাপগুলো একে একে দেখো।)

ধাপ 1/4বিশ্রাম (resting)চাপ 40 bar= 4 MPa (pressure)← ছোঁয়াও
চাপ ঠিক করো, তারপর হলুদ নিডোসিলে ছোঁয়াও।
100 bar সীমাটি শুধু বোঝানোর জন্য (illustrative); মাপা মান: ক্যাপসুলের চাপ ≈ 150 bar = 15 MPa (Weber 1989), গাড়ির টায়ারের (~2 bar) প্রায় 75 গুণ।
নিজে যাচাই করো

নেমাটোসিস্ট নিক্ষেপের শক্তি মূলত কোথা থেকে আসে?

ধাপ ৫: একবারের অস্ত্র

নিক্ষেপ একমুখী — সূত্রক বেরিয়ে গেলে আর ভেতরে গুটিয়ে চাপ জমানোর ব্যবস্থা নেই। খরচ হওয়া নিডোসাইট ফেলে দেওয়া হয়। তার জায়গা নিতে দেহকাণ্ডে (body column) আগে থেকেই তৈরি নেমাটোসাইট কর্ষিকায় সরে এসে ব্যাটারিতে বসে। আর ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে একদম নতুন নেমাটোসাইট তৈরি হতে লাগে প্রায় 5–7 দিন (David ও Gierer 1974)। তাই হাইড্রা অকারণে হুল খরচ করে না — কেবল স্পর্শ আর খাবারের রাসায়নিক সংকেত দুটো একসঙ্গে মিললেই স্টেনোটিল ফোটে।

নিজে যাচাই করো

একটি হাইড্রা একটি বালুকণায় ঠোকর খেল, কিন্তু প্রায় কোনো স্টেনোটিল ফুটল না। কারণ —

এবার নিজে করে দেখো

নিচে হাইড্রার কর্ষিকার একটি ব্যাটারিতে 10টি নিডোসাইট (রং দেখে ধরন চেনো)। একটি বস্তু বেছে নাও — ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, একটি চুল বা বালুকণা — তারপর স্পর্শ ও রাসায়নিক সংকেত (পানিতে শিকারের নির্যাস) চালু/বন্ধ করে চালাও। কোন ধরন ফুটল, কয়টি খরচ হলো, খাতায় দেখো। খরচ হওয়া কোষ (ধূসর ডটেড) আর ফোটে না — “ব্যাটারি আবার ভরো” না চাপা পর্যন্ত। নিচের পাঁচটি চ্যালেঞ্জ শেষ করো।

নিডোসাইট ট্রিগার ল্যাব

Cnidocyte trigger — touch, chemical cue and a battery of single-use cells
↗
কর্ষিকার ব্যাটারি (battery cell)স্টেনোটিল (stenotele)ডেসমোনিম (desmoneme)হলোট্রিকাস (holotrichous)অ্যাট্রিকাস (atrichous)
এবার ফুটল (fired now)0
খরচ হওয়া কোষ (spent)0 / 10
প্রস্তুত (ready)10
শিকার বেছে নাও, “স্পর্শ” আর “রাসায়নিক সংকেত” চালু/বন্ধ করো, তারপর চালাও।
প্রতিস্থাপন (replacement): দেহকাণ্ডে আগেই তৈরি নেমাটোসাইট এসে জায়গা নেয়; ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে একদম নতুন তৈরি ≈ 5–7 দিন।

ভাবো: খরচ হওয়া নেমাটোসিস্ট আবার কাজে লাগে না কেন?

নিক্ষেপের ধাপ ক্রমে সাজাও (order the steps)

প্রথম ধাপে ট্যাপ করো।
ব্যাটারির গঠন ও কোন বস্তুতে কোন ধরন ফোটে — শেখানোর জন্য সরল নিয়ম (illustrative), মাপা সংখ্যা নয়।

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

প্রতিবার “চালাও” চাপলে বস্তু, উদ্দীপনা আর যে ধরন ফুটল তা এখানে জমা হবে।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/5
  1. ক্রাস্টেশিয়ানে শুধু স্পর্শ বনাম স্পর্শ + রাসায়নিক সংকেত দিয়ে চালিয়ে স্টেনোটিল তুলনা করো। (○ শুধু স্পর্শ · ○ স্পর্শ + সংকেত)
  2. রাসায়নিক সংকেত ছাড়া একটি চুলে স্পর্শ করিয়ে দেখো কোন ধরন ফোটে।
  3. একটি পুরো ভোজের (ক্রাস্টেশিয়ান, স্পর্শ + সংকেত) পর হিসাব করো কতটি কোষ বদলাতে হবে।
  4. ব্যাখ্যা বেছে নাও: খরচ হওয়া নেমাটোসিস্ট আবার ব্যবহার করা যায় না কেন?
  5. নিক্ষেপের পাঁচটি ধাপ ঠিক ক্রমে সাজাও। (0 / 5)

বই পড়ার সময় সাবধান — পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে:

  • নেমাটোসিস্টের প্রাচীর “কাইটিনের মতো পদার্থ / নির্জীব কাইটিন” (পৃ. 7, 9, 26): প্রাচীর আসলে মিনিকোলাজেন (minicollagen), NOWA ও cnidoin-জাতীয় প্রোটিনে তৈরি (Holstein 1994; Özbek 2011)। কাইটিন নয়।
  • “হিপনোটক্সিন প্রোটিন ও ফেনলে গঠিত” (পৃ. 7, 9): হাইড্রার বিষ নানা পেপটাইড ও প্রোটিন টক্সিনের মিশ্রণ (যেমন hydralysin, actinoporin-সদৃশ টক্সিন); “হিপনোটক্সিন” 19শ শতকের পুরোনো নাম। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: হিপনোটক্সিন।
  • “উদ্দীপনায় থলির ভেতরে পলি-γ-গ্লুটামেট ক্ষরিত হয়” (পৃ. 8): পলি-γ-গ্লুটামেট আগে থেকেই ক্যাপসুলে থাকে; তাতেই প্রায় 150 bar চাপ জমে থাকে (Weber 1989, 1990)। নিক্ষেপের প্রথম ধাপ প্রায় 700 ns (Nüchter et al. 2006)।
  • “স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট” (পৃ. 8): হাইড্রায় ডেসমোনিম আর অ্যাট্রিকাস আইসোরাইজা দুটোই ছোট (প্রায় 5–8 µm); কোনটি সবচেয়ে ছোট, তা সূত্রভেদে ভিন্ন। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট।
  • “Werner 1965 … 23 ধরনের নেমাটোসিস্ট” (পৃ. 7): এখন নিডারিয়ায় প্রায় 30 ধরন স্বীকৃত (Östman 2000)।
  • “48 ঘণ্টার মধ্যে নতুন নিডোসাইট” (পৃ. 8): ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে নতুন নেমাটোসাইট তৈরিতে প্রায় 5–7 দিন লাগে; কর্ষিকা দ্রুত ভরে ওঠে দেহকাণ্ডে আগেই তৈরি কোষ সরে আসায় (David ও Gierer 1974)।

ঘরে বসে পরীক্ষা

গ্লাভসের আঙুলে “উল্টে বেরোনো” (eversion)। একটি রাবার বা প্লাস্টিকের গ্লাভসের একটি আঙুল ভেতরের দিকে ঠেলে উল্টে দাও (এটি গুটানো সূত্রক)। এবার গ্লাভসের কবজির মুখ হাতের মুঠোয় শক্ত করে বন্ধ করে অন্য হাতে গ্লাভসের তালু চাপ দাও (বা মুখে আলতো ফুঁ দাও)। দেখো, ভেতরের চাপে আঙুলটি ডগা আগে নয়, গোড়া থেকে উল্টে উল্টে বেরিয়ে আসে — নেমাটোসিস্টের সূত্রকও ঠিক এভাবে ভেতর-বাহির হয়ে বেরোয়। আঙুলের ভেতরে আগে একটি ছোট কাগজের টুকরা রেখে দেখো, সেটি কোথায় গিয়ে পৌঁছায় — বিষ এভাবেই সূত্রকের ডগায় পৌঁছায়। (মিল কেবল উল্টে বেরোনোয়; আসল নিক্ষেপ এর কোটি গুণ দ্রুত।)

নিরাপত্তা: ব্যবহৃত বা কারও পরা গ্লাভসে মুখ দিয়ে ফুঁ দিয়ো না — নতুন, পরিষ্কার গ্লাভস নাও, অথবা হাতে চাপ দাও। ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে নাইট্রাইল গ্লাভস বা প্লাস্টিকের ব্যাগের কোণ ব্যবহার করো।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. (তুলনা) নিডোসাইট ও নেমাটোসিস্টের তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
নিডোসাইট (cnidocyte)নেমাটোসিস্ট (nematocyst)
জীবিত কোষ, নিউক্লিয়াস আছেকোষের ভেতরের ক্যাপসুল-অঙ্গাণু, নিউক্লিয়াস নেই
ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে নিডোব্লাস্ট হয়ে তৈরিনিডোব্লাস্টের গলজি বস্তু থেকে তৈরি
নিডোসিল দিয়ে উদ্দীপনা গ্রহণ করেসূত্রক ছুড়ে বিঁধায়, পেঁচায় বা আটকায়

২. (বহুনির্বাচনি) হাইড্রার যে নেমাটোসিস্টে 3টি বড় স্টাইলেট থাকে এবং যা বিষ ঢালে — (ক) ভলভেন্ট (খ) স্টেনোটিল (গ) স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট (ঘ) স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট

উত্তর দেখো

(খ) স্টেনোটিল (পেনিট্র্যান্ট)। এটি হাইড্রার সবচেয়ে বড় নেমাটোসিস্ট (প্রায় 10–15 µm); দণ্ডের মাথায় 3টি স্টাইলেট আর সর্পিল কাঁটা, খোলা সূত্রক দিয়ে বিষ ঢালে।

৩. (জ্ঞান — বোর্ড) (ক) হাইড্রার ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্টের নাম কী? (খ) নেমাটোসিস্টের বিষের নাম কী?

উত্তর দেখো

(ক) বোর্ডের উত্তর: স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট (অ্যাট্রিকাস আইসোরাইজা)। জেনে রাখো: ডেসমোনিমও প্রায় সমান ছোট; সূত্রভেদে ভিন্ন। (খ) বোর্ডের উত্তর: হিপনোটক্সিন (hypnotoxin)। আধুনিক জ্ঞান: এটি পেপটাইড ও প্রোটিন টক্সিনের মিশ্রণ, “প্রোটিন + ফেনল” নয়।

৪. (অনুধাবন) নেমাটোসিস্টের নিক্ষেপকে যান্ত্রিক ও রাসায়নিক — দুই ধরনের প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো

ট্রিগারে দুই ধরনের উদ্দীপনা লাগে: নিডোসিলে স্পর্শ (যান্ত্রিক) এবং শিকারের দেহ থেকে আসা রাসায়নিক সংকেত; রাসায়নিক সংকেত স্পর্শের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ায়। নিক্ষেপের শক্তিও দুই রকম: ক্যাপসুলে জমা অভিস্রবণ চাপ (রাসায়নিক — পলি-γ-গ্লুটামেট ও আয়ন) টানটান প্রাচীরে যান্ত্রিক শক্তি হিসেবে জমে থাকে; ঢাকনা খুললে সেই ঝটকা স্টাইলেট ছোড়ে আর অভিস্রবণে পানি ঢুকে সূত্রক উল্টে বের করে।

৫. (প্রয়োগ — হিসাব) স্টেনোটিলের নিক্ষেপের প্রথম ধাপ 700 ns। ক্যামেরায় একে 0.7 s ধরে দেখাতে হলে কত গুণ ধীর করতে হবে? চোখের পলক 100 ms ধরলে নিক্ষেপ পলকের চেয়ে কত গুণ দ্রুত?

উত্তর দেখো0.7 s700×10−9 s=106\frac{0.7\ \text{s}}{700 \times 10^{-9}\ \text{s}} = 10^{6}

অর্থাৎ 10 লক্ষ গুণ ধীর (×1,000,000)। আর

100×10−3 s700×10−9 s≈1.4×105\frac{100 \times 10^{-3}\ \text{s}}{700 \times 10^{-9}\ \text{s}} \approx 1.4 \times 10^{5}

অর্থাৎ পলকের চেয়ে প্রায় 143,000 গুণ দ্রুত।

৬. (সৃজনশীল গ-ধরনের) একটি হাইড্রা একবার একটি পানির মাছি (Daphnia) ধরে খেল। পরের কয়েক ঘণ্টা আরেকটি মাছি একই কর্ষিকায় ঠোকর দিলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম কেন? হাইড্রা কীভাবে ঘাটতি পূরণ করে?

উত্তর দেখো

প্রথম শিকারে ব্যাটারির স্টেনোটিল, ডেসমোনিম ও গ্লুটিন্যান্টের বড় অংশ খরচ হয়েছে; নেমাটোসিস্ট একবারই ব্যবহারযোগ্য — সূত্রক বেরিয়ে গেলে আর ফেরে না, চাপও ফুরিয়ে যায়। তাই ওই জায়গায় প্রস্তুত কোষ কম। পূরণ: দেহকাণ্ডে আগেই তৈরি নেমাটোসাইট কর্ষিকায় সরে এসে ব্যাটারি ভরে; দীর্ঘমেয়াদে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে প্রায় 5–7 দিনে নতুন নেমাটোসাইট তৈরি হয়।