পাঠ ৩ / ১৪অনুচ্ছেদ ২.১ (খাদ্যগ্রহণ ও পরিপাক, চলন, স্নায়ুতন্ত্র)

হাইড্রার খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, চলন ও স্নায়ুজালHydra: feeding, digestion, locomotion & nerve net

হাইড্রার মুখ আছে, কিন্তু দাঁত নেই, পাকস্থলী নেই, পায়ুও নেই। তবু সে নিজের দেহের চেয়ে চওড়া একটা জলজ মাছি আস্ত গিলে ফেলে। নিচে নিজে হাইড্রাকে খাওয়াও, ধাপে ধাপে।

কর্ষিকা(tentacle)মুখ (mouth)সিলেন্টেরন(coelenteron)
ধাপ 1/6
ক্ষুধার্ত হাইড্রা কর্ষিকা ছড়িয়ে স্থির হয়ে আছে। পানিতে একটা ছোট্ট জলজ মাছি (Daphnia) ছেড়ে দাও।

এই পাঠে আমরা দেখব খাবারটা ভেতরে গিয়ে কী হয়, আর হাইড্রা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায় কীভাবে:

  1. শিকার ধরা (prey capture) ও মুখ খোলার রাসায়নিক সংকেত
  2. বহিঃকোষীয় পরিপাক (extracellular digestion): কোষের বাইরে, সিলেন্টেরনে
  3. ফ্যাগোসাইটোসিস (phagocytosis) ও অন্তঃকোষীয় পরিপাক (intracellular digestion)
  4. শোষণ (absorption), আত্তীকরণ (assimilation) ও বহিষ্করণ (egestion)
  5. পেশি আর জলস্থিতিক কঙ্কাল (hydrostatic skeleton)
  6. চলনের ধরন (types of locomotion): লুপিং, ডিগবাজি, গ্লাইডিং, ভাসা …
  7. স্নায়ুজাল (nerve net): মস্তিষ্ক ছাড়া সমন্বয়

ধাপ ১: শিকার ধরা ও মুখ খোলা

হাইড্রা মাংসাশী (carnivore)। এর খাবার ছোট জলজ প্রাণী: ড্যাফনিয়া (Daphnia), সাইক্লপস (Cyclops), মশার লার্ভা, ছোট কৃমি। হাইড্রা নিজে শিকার খুঁজে বেড়ায় না; পাদচাকতি আটকে রেখে কর্ষিকা (tentacle) ছড়িয়ে অপেক্ষা করে।

অর্থাৎ হাইড্রার মুখ খোলে কোনো খাবারের “স্বাদ” পেয়ে, স্পর্শে নয়। কাচের গুঁড়ো ছুঁয়ে দিলে নিডোসাইট ছুটতেও পারে, কিন্তু গ্লুটাথায়োন না থাকায় মুখ খোলে না।

নিজে যাচাই করো

হাইড্রার মুখ খোলার সংকেত দেয় কোনটি?

ধাপ ২: বহিঃকোষীয় পরিপাক: কোষের বাইরে

গেলা শিকার পৌঁছায় সিলেন্টেরনে (coelenteron), দেহের ভেতরের একমাত্র গহ্বরে। সিলেন্টেরনের পরিপাক অঞ্চলে (gastric region) শিকার ঘিরে দেহ কিছুটা ফুলে ওঠে।

নিচের সময়রেখায় স্লাইডার টেনে একটা খাবারের পুরো একদিন দেখো। ঘণ্টার হিসাবগুলো আনুমানিক; তাপমাত্রা আর শিকারের আকারে বদলায়। কিন্তু ধাপগুলোর ক্রম আসল।

সিলেন্টেরন (coelenteron)↑ মুখের দিকে (to mouth)বহিঃত্বক (epidermis)↑ মেসোগ্লিয়া (mesoglea)
শিকার ধরা ও গেলা (capture & ingestion)কোথায়: কর্ষিকা → মুখকর্ষিকা শিকারকে মুখে আনে; গ্লুটাথায়োনের সংকেতে মুখ খোলে, শিকার সিলেন্টেরনে ঢোকে।
প্রোটিয়েজ (protease)অম্লীয় খাদ্যগহ্বর (acidic vacuole)ক্ষারীয় (alkaline)জমা স্নেহবিন্দু (stored fat)পুষ্টি-পেশি কোষ (nutritive-muscular cell)এনজাইম গ্রন্থিকোষ (gland cell)
নিজে যাচাই করো

হাইড্রার সিলেন্টেরনে পরিপাক এনজাইম নিঃসরণ করে কোন কোষ?

ধাপ ৩: ফ্যাগোসাইটোসিস ও অন্তঃকোষীয় পরিপাক

বহিঃকোষীয় পরিপাক অর্ধেক কাজ করে। বাকিটা হয় কোষের ভেতরে।

বিষয়বহিঃকোষীয় পরিপাক (extracellular)অন্তঃকোষীয় পরিপাক (intracellular)
কোথায়সিলেন্টেরনে, কোষের বাইরেপুষ্টি-পেশি কোষের খাদ্যগহ্বরে
এনজাইম কে দেয়এনজাইম গ্রন্থিকোষপুষ্টি-পেশি কোষ নিজেই (লাইসোসোম)
কী ভাঙেপ্রোটিন → পলিপেপটাইড (আংশিক)পলিপেপটাইড, শর্করা, স্নেহ (সম্পূর্ণ)
কখনআগেপরে, ফ্যাগোসাইটোসিসের পর
মানুষে আছে?হ্যাঁ, পৌষ্টিকনালিতেপ্রায় নেই (শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু খায় এভাবে)

হাইড্রায় দুই ধরনের পরিপাকই আছে। এটা বিবর্তনের একটা মাঝের ধাপ: স্পঞ্জের মতো আদিম প্রাণীতে শুধু অন্তঃকোষীয়, আর উন্নত প্রাণীতে প্রায় সবটাই বহিঃকোষীয়।

নিজে যাচাই করো

হাইড্রার পরিপাককে “বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয়” দুই-ই বলা হয় কেন?

ধাপ ৪: শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণ

নিজে যাচাই করো

হাইড্রা খাবারের অপাচ্য অংশ কোন পথে বের করে?

ধাপ ৫: পেশি আর জলস্থিতিক কঙ্কাল

হাইড্রার হাড় নেই, শক্ত খোলসও নেই। তবু দেহ খাড়া থাকে, বাঁকে, লম্বা হয়, আবার গুটিয়ে ছোট বল হয়ে যায়। এর কৌশল জলস্থিতিক কঙ্কাল (hydrostatic skeleton): সিলেন্টেরনে পানি ভরা থাকে, আর পানি চাপে প্রায় সংকুচিত হয় না। তাই পেশি টানলে দেহের আকার বদলায়, কিন্তু আয়তন একই থাকে।

নিচের তিনটি পেশির বোতাম আলাদা আলাদা আর একসঙ্গে চালু করে দেখো।

দৈর্ঘ্য (length) ×1.00ব্যাসার্ধ (radius) ×1.00সরল মডেল (illustrative)
বিশ্রাম (rest): কোনো পেশি টানছে না। দেহের ভেতরের পানিই দেহকে খাড়া রাখে — জলস্থিতিক কঙ্কাল (hydrostatic skeleton)।
বহিঃত্বকের লম্বালম্বি পেশিসূত্র (epidermal longitudinal myonemes)অন্তঃত্বকের বৃত্তাকার পেশিসূত্র (gastrodermal circular myonemes)
নিজে যাচাই করো

হাইড্রার দেহ শুধু ডান দিকে বাঁকাতে হলে কোন পেশি টানতে হবে?

ধাপ ৬: চলনের ধরন

হাইড্রা বেশিরভাগ সময় এক জায়গায় আটকে থাকে। কিন্তু খাবার কম পড়লে, আলো বা তাপমাত্রা বদলালে সে জায়গা বদলায়। প্রতিটি চলনেই পেশি, পাদচাকতির আঠালো গ্রন্থিকোষ আর কর্ষিকা মিলে কাজ করে।

চলনকীভাবেগতি
লুপিং (looping)দেহ বেঁকে মুখ-কর্ষিকা সামনে আটকায়, পাদচাকতি ছেড়ে টেনে এনে মুখের পেছনে বসায়, তারপর খাড়া হয়। জোঁক বা শুঁয়োপোকার মতো।এক চক্রে দেহ-দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম
ডিগবাজি (somersaulting)দেহ বেঁকে কর্ষিকা আটকায়, পাদচাকতি ছেড়ে কর্ষিকার ওপর উল্টো দাঁড়ায়, তারপর সামনে উল্টে পাদচাকতি আবার মাটিতে বসায়।এক চক্রে প্রায় 2 দেহ-দৈর্ঘ্য: দ্রুততম
গ্লাইডিং (gliding)পাদচাকতির শ্লেষ্মার ওপর দিয়ে দেহ খুব ধীরে পিছলে সরে।খুব ধীর
ভাসা (floating)পাদচাকতির কোষ গ্যাসের বুদবুদ বানায়; বুদবুদের জোরে হাইড্রা উপরিতলে উল্টো হয়ে ঝুলে ভাসে, স্রোতে দূরে চলে যায়।স্রোতের ওপর নির্ভর
হামাগুড়ি ও কর্ষিকায় হাঁটা (crawling, walking on tentacles)কর্ষিকা মাটিতে ঠেকিয়ে টেনে টেনে বা কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে উল্টো হয়ে সরে।কম দেখা যায়
সাঁতার (swimming)মাটি ছেড়ে কর্ষিকা ঢেউয়ের মতো নেড়ে অল্প সাঁতরায়।কম দেখা যায়
সংকোচন-প্রসারণ (contraction–expansion)জায়গা না বদলে দেহ গুটায় আর লম্বা হয়; বিপদে বল হয়ে যায়, খাবার খুঁজতে লম্বা হয়।স্থানচ্যুতি নেই
নিষ্ক্রিয় ডোবা (passive sinking)বুদবুদ ছেড়ে দিলে বা আঁকড়ে ধরা জায়গা হারালে নিজের ভারে ডুবে তলায় পড়ে।নিষ্ক্রিয়

নিচে লুপিং, ডিগবাজি আর ভাসার একটি চক্র পাঁচটি ছবিতে ভাগ করা আছে। ছবি 1 থেকে 5 পর্যন্ত চেপে চেপে দেখো, পাদচাকতি কোথায় কোথায় বসে।

পানির উপরিতল (surface)এক চক্রে (one cycle) ≈ 2 × দেহ-দৈর্ঘ্য
1/5: পাদচাকতি মাটিতে আটকানো, দেহ খাড়া।
নিজে যাচাই করো

এক চক্রে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব পার হয় কোন চলনে?

ধাপ ৭: স্নায়ুজাল: মস্তিষ্ক ছাড়া সমন্বয়

শিকার ধরা, মুখ খোলা, ডিগবাজি: এগুলোতে অনেক কোষকে একসঙ্গে ঠিক ক্রমে কাজ করতে হয়। এই সমন্বয় করে স্নায়ুজাল (nerve net)।

নিচের হাইড্রার মুখ, মাঝখান আর পাদচাকতিতে আলাদা করে ট্যাপ করো। সংকেত কোন দিকে ছড়ায়, আর কোথায় জাল ঘন, তা লক্ষ করো।

স্নায়ু বলয়(nerve ring)ঘন জাল(dense net)মস্তিষ্ক নেই(no brain)
দেহের যেকোনো জায়গায় ট্যাপ করো: স্নায়ুসংকেত কোন দিকে ছড়ায় দেখো।
নিজে যাচাই করো

হাইড্রার স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কে কোনটি সঠিক?

এবার নিজে করে দেখো

এবার তুমি হাইড্রার চালক। নিচের পাত্রে হাইড্রাকে হলুদ আলোর জায়গায় (70–100 mm) নিয়ে যাও: চলনের বোতামে লেখা আছে প্রতিটা চাল কত mm এগোয়। সবচেয়ে কম চালে পৌঁছাতে পারো কি না দেখো, আর খাতা থেকে mm/min হিসাব করো। তারপর হাইড্রাকে ভাসাও আর ডুবাও, “স্নায়ুজাল” চালু করে মুখের স্নায়ু বলয় খুঁজে বের করো, আর একটা শিকার খাইয়ে পরিপাক শেষে অপাচ্য অংশ ঠিক পথে বের করো।

হাইড্রার চলন ও খাদ্যগ্রহণ

Hydra moves — locomotion, feeding & nerve net
↗
পানির উপরিতল (surface)আলো (light)020406080100mm0 mm · 0 চাল
হাইড্রা আছে 0 mm-এ। হলুদ আলোর জায়গাটা 70–100 mm-এ। চলন বেছে নিয়ে কম চালে সেখানে পৌঁছাও।

দেহ-দৈর্ঘ্য 15 mm ধরা হয়েছে। ডিগবাজির দূরত্ব (≈ 2 দেহ-দৈর্ঘ্য) বই থেকে; লুপিং ও গ্লাইডিংয়ের দূরত্ব আর সব সময় আনুমানিক মডেল (illustrative)।

পর্যবেক্ষণ খাতা (observation notebook)

কোনো চলন বেছে নিলে তার দূরত্ব আর সময় এখানে জমা হবে।

চ্যালেঞ্জ (challenges)

0/5
  1. সবচেয়ে কম চালে (3টি) হাইড্রাকে আলোয় (70–100 mm) নিয়ে যাও। (0 mm, 0 চাল)
  2. তিনটি চলনই (লুপিং, ডিগবাজি, গ্লাইডিং) অন্তত একবার করে খাতায় তোলো; mm/min তুলনা করো। (0/3)
  3. হাইড্রাকে ভাসাও, তারপর আবার ডুবিয়ে দাও।
  4. “স্নায়ুজাল” চালু করে দেখাও কোন অঞ্চলের স্নায়ু মুখ নিয়ন্ত্রণ করে।
  5. একটা শিকার খাওয়াও, পরিপাক হতে দাও, আর অপাচ্য অংশ ঠিক পথে বের করো।

বই পড়ার সময় সাবধান: পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কিছু ভুল আছে।

  • “এদের স্নায়ু তন্তুগুলো … কোনো সাইনাপস গঠন করে না”: ভুল। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণে হাইড্রার স্নায়ুকোষে রাসায়নিক সাইনাপস পাওয়া গেছে, যার অনেকগুলো দ্বিমুখী। সঙ্গে গ্যাপ জাংশনও আছে (Westfall 1973; Kinnamon & Westfall 1981)। সঠিক কথা: স্নায়ুকোষ সাইনাপস গঠন করে, কিন্তু কোনো মস্তিষ্ক বা কেন্দ্র নেই।
  • “পেপসিন নিঃসৃত হয়ে প্রোটিনকে পলিপেপটাইডে…”: পেপসিন মেরুদণ্ডী প্রাণীর পাকস্থলীর এনজাইম, কাজ করে খুব অম্লীয় পরিবেশে। হাইড্রার গ্রন্থিকোষ ছাড়ে ট্রিপসিন-জাতীয় প্রোটিয়েজ (Lenhoff 1961)। উত্তরে “প্রোটিয়েজ (প্রোটিন-পরিপাকী এনজাইম)” লেখাই নিরাপদ।
  • বইয়ের প্রশ্নব্যাংক: “লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য কোন চলন?” উত্তর “লুপিং”: বইয়ের নিজের বর্ণনাতেই ডিগবাজিতে এক চক্রে প্রায় 2 দেহ-দৈর্ঘ্য যাওয়া যায় এবং এটাকে দ্রুত চলন বলা হয়েছে, আর লুপিংয়ে এক চক্রে দেহ-দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম। দ্রুত বা দূরে যাওয়ার চলন আসলে ডিগবাজি। বোর্ডের প্রত্যাশিত উত্তর: প্রশ্নব্যাংকে লুপিং পরীক্ষায় অপশনগুলো ভালো করে পড়ে নাও; প্রশ্নে “দ্রুততম” থাকলে ডিগবাজি লেখো।

ঘরে বসে পর্যবেক্ষণ

হাইড্রার লুপিং চলন বুঝতে একটা সহজ উপমা দেখো। বাগানের গাছে বা পাতায় সবুজ লুপার শুঁয়োপোকা (looper caterpillar, inchworm) খুঁজে দেখো, অথবা বর্ষায় ভেজা মাটিতে জোঁকের চলাফেরা দূর থেকে দেখো। শরীরের পেছনের অংশ টেনে সামনের অংশের কাছে এনে ধনুকের মতো বাঁকানো, তারপর সামনের অংশ আবার এগিয়ে দেওয়া: হাইড্রার লুপিং ঠিক এমন। একটা স্কেল পাশে রেখে গোনো, এক চক্রে প্রাণীটা নিজের দৈর্ঘ্যের কত ভাগ এগোল।

নিরাপত্তা: শুঁয়োপোকা বা জোঁক খালি হাতে ধরবে না; কিছু শুঁয়োপোকার লোম চুলকানি তৈরি করে। শুধু দূর থেকে দেখো, প্রাণীকে কষ্ট দেবে না। কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় পরিপাকের পার্থক্য লেখো। হাইড্রায় কোনটি ঘটে?

উত্তর

বহিঃকোষীয় পরিপাক হয় কোষের বাইরে, হাইড্রায় সিলেন্টেরনে। এনজাইম গ্রন্থিকোষের প্রোটিয়েজ প্রোটিনকে আংশিক ভেঙে পলিপেপটাইড বানায়, শিকার কণায় ভেঙে যায়। অন্তঃকোষীয় পরিপাক হয় কোষের ভেতরে: পুষ্টি-পেশি কোষ ফ্যাগোসাইটোসিসে কণা গিলে খাদ্যগহ্বরে নেয়, আর সেখানে প্রথমে অম্লীয় ও পরে ক্ষারীয় মাধ্যমে প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহ সম্পূর্ণ পরিপাক হয়। হাইড্রায় দুটোই ঘটে: প্রথমে বহিঃকোষীয়, পরে অন্তঃকোষীয়।

২. চিত্রসহ হাইড্রার ডিগবাজি চলন বর্ণনা করো।

উত্তর

(চিত্র: ওপরের পাঁচ-ছবির ডিগবাজি সারি আঁকো।) (১) পাদচাকতি আটকে হাইড্রা খাড়া থাকে। (২) এক পাশের লম্বালম্বি পেশি সংকুচিত হয়ে দেহ বেঁকে যায়, কর্ষিকা আর হাইপোস্টোম প্রায় এক দেহ-দৈর্ঘ্য দূরে মাটিতে আটকে যায়। (৩) পাদচাকতি ছেড়ে দেয়, দেহ কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে উল্টো হয়ে খাড়া হয়। (৪) দেহ সামনে উল্টে পড়ে, পাদচাকতি আরও এক দেহ-দৈর্ঘ্য দূরে নেমে আটকে যায়। (৫) কর্ষিকা ছেড়ে দেহ আবার সোজা হয়। এক চক্রে প্রায় 2 দেহ-দৈর্ঘ্য যাওয়া যায়, তাই এটি দ্রুত চলন।

৩. হাইড্রার স্নায়ুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।

উত্তর

(১) কোনো মস্তিষ্ক বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র নেই। (২) বহুমেরু স্নায়ুকোষ জালের মতো ছড়ানো: বহিঃত্বকে ঘন জাল, অন্তঃত্বকে পাতলা জাল, দুটোই মেসোগ্লিয়ার কাছে। (৩) হাইপোস্টোম আর পাদচাকতিতে স্নায়ুকোষ ঘন হয়ে বলয় বানায়। (৪) স্নায়ুকোষ রাসায়নিক সাইনাপস গঠন করে, যার অনেকগুলো দ্বিমুখী; গ্যাপ জাংশনও আছে। (৫) সংকেত উদ্দীপনার জায়গা থেকে সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে (বিস্তৃত পরিবহন)। (৬) সংবেদী কোষ স্পর্শ, রাসায়নিক আর আলোর উদ্দীপনা গ্রহণ করে।

৪. (MCQ) হাইড্রার কোন কোষ পরিপাক এনজাইম নিঃসরণ করে? (ক) নিডোসাইট (খ) পেশি-আবরণী কোষ (গ) এনজাইম গ্রন্থিকোষ (ঘ) সংবেদী কোষ

উত্তর

(গ)। অন্তঃত্বকের এনজাইম গ্রন্থিকোষ (জাইমোজেন কোষ) সিলেন্টেরনে প্রোটিয়েজ ছাড়ে। মনে রাখো, এটা পেপসিন নয়।

৫. (MCQ) হাইড্রার দ্রুততম চলন কোনটি? (ক) গ্লাইডিং (খ) লুপিং (গ) ডিগবাজি (ঘ) সংকোচন-প্রসারণ

উত্তর

(গ)। ডিগবাজিতে এক চক্রে প্রায় 2 দেহ-দৈর্ঘ্য যাওয়া যায়, লুপিংয়ে তার চেয়ে কম, গ্লাইডিং খুব ধীর, আর সংকোচন-প্রসারণে জায়গাই বদলায় না।

৬. একটি হাইড্রার প্রসারিত দেহ-দৈর্ঘ্য 12 mm। এটি পরপর 4 বার ডিগবাজি দিলে প্রায় কত দূর যাবে? প্রতি ডিগবাজিতে 20 min লাগলে গড় দ্রুতি কত?

উত্তর

এক চক্রে দূরত্ব ≈2×12=24 mm\approx 2 \times 12 = 24\ \text{mm}। চার চক্রে 4×24=96 mm4 \times 24 = 96\ \text{mm}, প্রায় 10 cm।

মোট সময় 4×20=80 min4 \times 20 = 80\ \text{min}, তাই গড় দ্রুতি 96 mm80 min=1.2 mm/min\dfrac{96\ \text{mm}}{80\ \text{min}} = 1.2\ \text{mm/min}। (সময়টা প্রশ্নে দেওয়া মান; আসল সময় তাপমাত্রা আর প্রাণীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে।)